শিরোনামঃ

» অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে টিকটক-বিগো-পাবজি-ফ্রি ফায়ার বন্ধে রিটের শুনানি শেষ,আজ আদেশ

প্রকাশিত: ৩০. জুন. ২০২১ | বুধবার

বেত্রাবতী ডেস্ক।।দেশের সকল অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেম ও লাইকিসহ এ ধরনের সকল অনলাইন ভিত্তিক খেলা ও অ্যাপস অপসারণ এবং সকল লিংক বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে করা রিট আবেদনের ওপর গতকাল মঙ্গলবার শুনানি সম্পন্ন হয়েছে।

আজ বুধবার এ বিষয়ে আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছেন বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. কামরুল হোসেন মোল্লার হাইকোর্ট বেঞ্চ।

আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল গোলাম সরোয়ার পায়েল।

দেশের সকল অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেম ও লাইকিসহ এ ধরনের সকল অনলাইন ভিত্তিক খেলা ও অ্যাপস অপসারণ এবং সকল লিংক বন্ধের নির্দেশনা চেয়ে গত ২৪ জুন রিট আবেদন করা হয়।

মানবাধিকার সংগঠন ‘ল অ্যান্ড লাইফ’ ফাউন্ডেশনের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবী ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির পল্লব এবং ব্যারিস্টার মোহাম্মদ কাউছার গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্টে এ রিট আবেদন দাখিল করেন।

রিট আবেদনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, শিক্ষা সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, স্বাস্থ্য সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি), বাংলাদেশ ব্যাংক, মোবাইল অপারেটর, বিকাশ ও নগদকে বিবাদী করা হয়।

রিট আবেদনে ওইসব অ্যাপস ও গেইমের আড়ালে শত শত কোটি অর্থ পাচার ও লেনদেনে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিকর গেমস ও অ্যাপস বন্ধে বিআরটিসি কে নিয়মিত সুপারিশ করতে প্রযুক্তিবিদ, শিক্ষাবিদ ও আইনজীবী সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠনের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে টিকটক, বিগো লাইভ, পাবজি, ফ্রি ফায়ার গেম ও লাইকিসহ এ ধরনের সকল অনলাইনভিত্তিক খেলা এবং অ্যাপস বন্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বিবাদীদের প্রতি গত ১৯ জুন আইনি নোটিশ দেওয়া হয়।

ই-মেইলযোগে পাঠানো ওই নোটিশে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবস্থা নিতে বলা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় হাইকোর্টে রিট আবেদন দাখিল করা হয়।

রিট আবেদনে বলা হয়েছে, পাবজি এবং ফ্রি ফায়ারের মতো গেমসে বাংলাদেশের যুব সমাজ এবং শিশু-কিশোররা ব্যাপকভাবে আসক্ত হয়ে পড়েছে।

এসব গেমস যুব সমাজকে সহিংসতা প্রশিক্ষণের এক কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠছে। ফলে সামাজিক মূল্যবোধ, শিক্ষা, সংস্কৃতি বিনষ্ট হচ্ছে। এ ছাড়াও টিকটক, লাইকি অ্যাপস ব্যবহার করে দেশের শিশু কিশোর এবং যুব সমাজ বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হচ্ছে।

সারা দেশে কিশোর গ্যাং কালচার তৈরি হচ্ছে। টিকটক অনুসারীরা বিভিন্ন গোপনীয় জায়গায় পুল পার্টির নামে যৌন কার্যক্রমে লিপ্ত হচ্ছে।

বাংলাদেশ থেকে দেশের বাহিরে নারী ও অর্থ পাচারের ঘটনায়ও টিকটক, লাইকি এবং বিগো লাইভের মাধ্যমে চলছে। যা দেশের এবং জনস্বার্থের পরিপন্থী।

রিট আবেদনে আরো বলা হয়, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তাৎপর্যপূর্ণ বিধায় এ বিষয়টি কঠোরভাবে মনিটর করা প্রয়োজন। অনৈতিক ওইসব গেমস থেকে রক্ষা করতে শিশুদের জন্য উপযোগী ও যথাযথ অনলাইন গেমস তৈরি করা অত্যন্ত জরুরি।

ক্ষতিকর গেমস এবং অ্যাপস অনলাইন প্লাটফর্ম থেকে সরিয়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি স্বাস্থ্যকর এবং উপযোগী সাইবার পদ্ধতি সুনিশ্চিত করতে সরকারের একটি কমিটি থাকা প্রয়োজন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৯ বার

[hupso]