শিরোনামঃ

» আগামী দুই বছরে মোংলা সমুদ্র বন্দর হবে দেশের অর্থনীতির মুল চালিকাশক্তি–নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৩. মার্চ. ২০২১ | শনিবার

মোংলা প্রতিনিধি।। নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, আগামী দুই বছরের মধ্যে মোংলা সমুদ্র বন্দর হবে দেশের অর্থনীতির মুল চালিকাশক্তি।

সরকারের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বন্দরের আউটার বারে ড্রেজিং সম্পন্ন হয়েছে। সেখান দিয়ে এখন দেশী-বিদেশী বড় বড় বানিজ্যিক জাহাজ বন্দরে সরাসরি প্রবেশ করতে পারছে। আর এখন শুরু হয়েছে ইনার বার ড্রেজিয়ের কাজ।

দেড় বছর সময় লাগবে এ ইনার বারে ড্রেজিং সম্পন্ন হতে। আর এ ড্রেজিয়ের কাজ শেষ হলে বন্দরে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার নৌ-পথ খনন সম্পুর্ণ হবে। যার ফলে বিদেশ থেকে সরাসরি জাহাজ এসে বঙ্গোপসাগর হয়ে মোংলা বন্দরে খুব সহজেই বড় ড্রাফটের জাহাজ বন্দরের জেটি এলাকায় ভিড়তে পারবে।

শনিবার দুপুরে মোংলার জয়মনির ঘোল সাইলো ফুট জেটির পাশে বন্দর চ্যানেলের ইনার বারে ড্রেজিং কাজের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ এখন আর বিদেশী ঋনের উপর নির্ভর করার প্রয়োজন হয়না।

আমাদের নিজেদের অর্থায়নে দেশের সবগুলো সেক্টরে সরকারের বড় বড় উন্নয়নের কাজ চলমান রয়েছে। মোংলা বন্দরে ইকোনিমক জোন এবং ইপিজেডসহ আরো অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এ অঞ্চলের কয়েকলাখ মানুষের কমসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। আর মোংলা বন্দর সম্পুর্ণ রুপে ঢেলে সাজানো হলে এবং নদীর চ্যানেল খননের মাধ্যমে সারাদেশে সাথে নৌ-বাণিজ্য সৃষ্টি হবে।

এখানকার মানুষের কর্মসংস্থান হবে, বেকারত্ব দূর হবে এবং পরিবেশ বান্ধব কৃষিনির্ভর কার্যক্রম বৃদ্ধি পাবে। সাশ্রয়ী মূল্যে যাত্রী এবং মালামাল পরিবহণ সহজ হবে এ বন্দর থেকে।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অঙ্গিকার শত বছরের পুরনো নদীর গতিপথ ফিরিয়ে আনা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে দেশ ও জনগনের জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। তারই ফলশ্রুতিতে দেশের উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত ও নদীর বন্দরের সাথে সারা দেশে যোগাযোগ বজায় রাখতে ১০ হাজার কিলোমিটার নৌ-পথ খনন করা হবে। পশুর চ্যানেলের ইনার বারের ড্রেজিং সম্পন্ন হলে চট্টগ্রাম বন্দরের সমমানের সক্ষমতা অর্জন করবে মোংলা সমুদ্র বন্দর বলে আশ্বাস দেন নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

অনুষ্ঠানে মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার এডমিরাল মোহাম্মদ মুসা’র সভাপতিত্ব বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক, পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরী।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন, খুলনা নৌ অঞ্চলের আঞ্চলিক কমান্ডার রিয়ার এডমিরাল আশরাফুল হক চৌধুরী, কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন হাবিবুল আলম, মোংলা বন্দরের সদস্য (হারবার ও মেরিন) ক্যাপ্টেন আব্দুল ওয়াদুদ তরফদার, সদস্য (প্রকল্প ও উন্নয়ন)  ইমতিয়াজ হোসেন, পরিচালক (প্রশাসন) গিয়াস উদ্দিন, ইনারবারে ড্রেজিং প্রকল্প পরিচালক শেখ শওকত আলী, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হক, পুলিশ সুপার আরিফুল হক, মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার, উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, পৌর মেয়র বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ আব্দুর রহমান, খুলনা ও মোংলা কাস্টমসের পদস্থ কর্মকর্তা, শিপিং এজেন্ট এ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধি, মোংলা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি (ইষ্টিভিডরস) আলহাজ্ব এইচ এম দুলাল, আমদানি-রপ্তানীকারক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, বন্দর ব্যবহারকারী, বন্দরের পদস্থ কর্মকর্তা ও কর্মচারী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শিরিন আফরোজ অনু ও সাবরিনা রহমানসহ আরো অনেকে।

বন্দর কর্তৃপক্ষ সুত্রে জানায়, নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে ২০০২ থেকে ২০০৭ সাল পর্যন্ত মৃত বন্দরে পরিণত হয় এ মোংলা বন্দর। সে সময় বন্দরটি অচল হয়ে পড়ার মূল কারণ ছিল বন্দরের আউটার ও ইনারবার চ্যানেলে ড্রেজিং না করা। যার কারণে ওই সময়ে চরম নাব্যতার সংকট দেখা দেয়ায় জাহাজ আসতো না এ বন্দরে।

মাসের পর মাস জাহাজ শূণ্য হয়ে অচলাবস্থা ছিলো বন্দর জুড়ে। বন্দরের আউটারবার (বহিঃনোঙ্গর) ও ইনারবারে (অভ্যন্তরীণ) নাব্যতা সংকটের কারণে কন্টেইনারবাহী ৯ দশমিক ৫০ মিটার গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ মোংলা বন্দরে সরাসরি প্রবেশ করতে না পারায় কন্টেইনারাইজড মালামাল আমদানি-রপ্তানিতে ব্যবসায়ীরা নিরুৎসাহিত হয়ে আসছেন। তাই বন্দরের জেটিতে স্বাভাবিক জোয়ারে ৯ দশমিক ৫০ মিটারের অধিক গভীরতা সম্পন্ন জাহাজ আনার জন্য পশুর চ্যানেলের জয়মনিরঘোল হতে বন্দর জেটি পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার নৌপথ ইনারবারে ২১৬.০৯ লাখ ঘন মিটার ড্রেজিং করার উদ্যোগ নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

উল্লেখ্য, মোংলা সমুদ্র বন্দরের পশুর চ্যানেলের ১৯ কিলোমিটার ইনার বার ড্রেজিং কার্যক্রমের চ্যানেল নাব্যতা বৃদ্ধিতে ৭শ ৯৩ কোটি ৭২ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ে শনিবার থেকেই ড্রেজিং প্রকল্পের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এ প্রকল্প বাস্তবায়ীত হলে মোংলা বন্দরের জেটিতে সাড়ে ৯ মিটার/ ১০ মিটারের জাহাজ হ্যান্ডলিং করা সম্ভব হবে।

প্রকল্পের মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২১ সালের জানুয়ারী থেকে ২০২২ সালের জুন পর্যন্ত। ড্রেজিং কাজের ঠিকাদার হিসেবে চীনা প্রতিষ্ঠা জিয়ানসু হায় হং কন্সট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানী লিমিটেড ও চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কন্সট্রাকশন কর্পোরেশনের সাথে গত বছরের ৩০ ডিসেম্বর চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

এ প্রকল্পের আওতায় মোট ২১৬.০৯ লক্ষ মিটার পলি উত্তোলন করা হবে। প্রকল্পটি মোংলা বন্দর জেটি হতে হারবারিয়া এ্যাংকরেজ পর্যন্ত বিস্তৃত মোট ৭টি সেকশনে ড্রেজিং করা হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭৬ বার

[hupso]
সর্বশেষ খবর