প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আমাদের দেশটা স্বাধীন করে দিয়ে গেছেন। এই দেশটাকে আমরা সুন্দরভাবে গড়ে তুলতে চাই এবং আমরা স্বাধীন দেশ এবং স্বাধীন জাতি। বিশ্ব এগিয়ে যাচ্ছে, বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আমরা চলতে চাই। জাতির পিতার যেই স্বপ্ন ছিল বাংলাদেশ উন্নত, সমৃদ্ধ হোক।

বিশ্ব সভায় মাথা উঁচু করে চলবে। আমরা সেভাবেই বাংলাদেশটাকে গড়ে তুলতে চাই। আজকে তিনি আমাদের মাঝে নেই। তার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এইটুকু বলব, তার আকাক্সক্ষাটা পূরণ করা। বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে গড়ে তোলা, দারিদ্র্যমুক্ত, ক্ষুধামুক্ত, উন্নত, শিক্ষিত, আধুনিক বিজ্ঞান জ্ঞানসম্পন্ন একটা জাতি হিসেবে বাঙালি জাতিকে আমরা গড়ে তুলব এবং বাংলাদেশটাকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা করব- এটাই আমাদের লক্ষ্য।

সভায় পাবলিক লাইব্রেরি নতুন করে তৈরি করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, আমাদের পাবলিক লাইব্রেরি এটাও অনেক পুরনো। অডিটোরিয়াম থেকে শুরু করে সবকিছুই জরাজির্ণ অবস্থা..খুব একটা ভালো অবস্থায় নেই। আর সেখানে আমি মনে করি আমাদের মিউজিয়াম যেটা আছে ন্যাশনাল মিউজিয়াম মিউজিয়ামটা ঠিকই থাকবে যেভাবে আছে ওটা থাকুকৃ কিন্তু পুকুরটাকে সুন্দর করে রাখা। পুকুরটার সাথে সামঞ্জস্য রেখেই আমাদের যে পাবলিক লাইব্রেরি তার একটা ল্যান্ডস্কেপ করে সেখানেও খুব সুন্দরভাবে একটা মডার্র্ন পাবলিক লাইব্রেরি, অডিটোরিয়াম এবং আমাদের সাইবার ক্যাফে সবকিছু মিলিয়ে ওটাকে আরো সুন্দরভাবে, নতুনভাবে তৈরি করা। “

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে জরাজির্ন স্থাপনাগুলোর নির্মাণকাজ দ্রুত শেষ করার তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, “এই কাজগুলো কিন্তু আমার মনে আমরা যদি খুব দ্রুত একটু শুরু করি তাহলে.. এখনতো করোনাভাইরাসের কারণে আমাদের অনেক কাজ স্থবির কিন্তু আমরা এই কাজগুলো কিন্তু শুরু করতে পারি এবং শেষ করতেও পারি খুব তাড়াতাড়ি। আর এর জন্য যা অর্থ সংকুলান সরকার থেকেই আমরা করে দেব। আমি দিতেও চাই। কিন্তু কাজগুলো আমি চাচ্ছি একটু তাড়াতাড়ি এগুক যাতে সুন্দরভাবে আমরা..এখন যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ, সবই বন্ধ। তার মানে এটাই হচ্ছে সব থেকে ভালো সময় কাজ করবার, নিরিবিলি কাজগুলো করা যেতে পারে।“

নির্মাণ কাজগুলো তদারকির জন্য প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের কর্মকর্তাদেরও নির্দেশনা দেন সরকারপ্রধান। তিনি বলেন, “অনেকগুলো তো প্লান করাই আছে। মেডিকেল কলেজটা করা আছে কিন্তু আবার টিএসসিটা করা হয়নি।

টিএসসি যেহেতু ঢাকা ইউনিভার্সিটি, আমাদের ইউনিভার্সিটি আমাদের মহান নেতা জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানও ওই ইউনিভার্সিটির ছাত্র ছিলেন। আমি নিজে ওখানে ছাত্রী ছিলাম। কাজেই ইউনিভার্সিটির প্রতি আমাদের সবসময় একটা আলাদা অনুভূতি রয়েছে। এই জায়গাটা আমি চাচ্ছি একটু সুন্দর করে করা।“

বিশ্ববিদ্যালয় জরাজির্ণ স্থাপনার কথা তুলে ধরে প্রশাসনের অপেক্ষায় না থেকে মেরামতের কাজ শুরু করার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, “পুরনো যেই হলগুলো রয়ে গেছে এই হলগুলো একটু মেরামত করা, পুকুরগুলো সংস্কার করা, ওই জায়গাগুলো একটু সুন্দর করে রাখা। এখন একটা সুবিধা যেহেতু বন্ধ। এই সময় আমার মনে হয় মেরামতের কাজগুলো করে ফেলা উচিত। কারণ কিছু কিছু হলের অবস্থা এত খারাপ আর এত পুরনো যেকোনো সময় একটা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। কিন্তু এই সুযোগে যদি আমরা এই কাজগুলো করে ফেলি তাহলে কিন্তু ইউনিভার্সিটি কবে উদ্যোগ নেবে সেই আশায় বসে না থেকে আমি মনে করি, আমাদের পক্ষ থেকে এটা আমি নিজেই করতে চাই সোজা কথা।

যেকোনো দুঃসময়ে প্রণব মুখার্জি পাশে ছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু ছিলেন। বাংলাদেশের যেকোনো সময়ে পাশে ছিলেন তিনি। পচাত্তরের পর আমরা যখন দিল্লিতে ছিলাম, তিনি ও তার পরিবার সব সময় আমাদের দেখাশোনা করেছেন।

বিশেষ করে পদ্মা সেতু বিষয়ে যখন দুর্নীতির কথা উঠলো আমার বিরুদ্ধে এবং ওয়ান/ইলেভেনের সময় তিনি আমাদের পাশে থেকে সহযোগিতা করেছেন।

গতকাল বুধবার আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভায় ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সভা অনুষ্ঠিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমার ও আমার পরিবারের বিরুদ্ধে যখন দুর্নীতির কথা ওঠে তখন প্রণব মুখার্জি আমাদের সহযোগিতা করেছেন। ওয়ান/ইলেভেনে জেলখানায় যখন ছিলাম তখনো তিনি আমাদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। যেকোনো বিপদে তিনি আমাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন।

সাংগঠনিক বিষয়ে তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি দেয়া আছে। তাছাড়া আমরা সরকারে আছি। জনগণের ভালো-মন্দ দেখার দায়িত্ব আমাদের। যেভাবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে বিষয়ভিত্তিক সবাইকে সে দায়িত্ব পালন করতে হবে। নির্বাচনী ইশতেহারে জাতির কাছে আমরা যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছি, সে প্রতিশ্রুতি কতটুকু রক্ষা করতে পেরেছি এবং কোন কোন ক্ষেত্রে বাকি আছে সেগুলো নিয়ে পর্যালোচনা করতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, যেহেতু আমরা সরকারে আছি সে কারণে আমরা দীর্ঘমেয়াদি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করছি। প্রথম পর্যায়ে আমরা ১০ বছর মেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলাম। এবার এসে আমরা ২০৪১ সাল পর্যন্ত একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি। আমাদের সম্পাদকমণ্ডলীতে যারা আছেন তারা বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করবেন। যে আলোচনা আমাদের দেশ গড়ার কাজে লাগবে। আমরা বাংলাদেশকে অনেক দূর নিয়ে যেতে চাই।