শিরোনামঃ

» আসমার তৃতীয় স্বামী ছিলো আজহার, ইমামকে চতুর্থ স্বামী বানানোর স্বপ্ন 

প্রকাশিত: ২৭. মে. ২০২১ | বৃহস্পতিবার

বেত্রাবতী ডেস্ক।।রাজধানীর দক্ষিণখানে সরদার বাড়ি জামে মসজিদের সেপটিক ট্যাংক থেকে পোশাককর্মী আজহারুলের (৪০) অর্ধগলিত সাত টুকরো লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তার স্ত্রী আসমাকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

এর আগে, মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমান (৬৫) গ্রেফতার হন।

র‌্যাব সদর দফতরের মিডিয়া শাখার সহকারী পরিচালক এএসপি ইমরান হেসেন জানিয়েছেন, মঙ্গলবার রাতে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে আসমাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

এদিন বিকেলে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র‌্যাব তাকে টাঙ্গাইল থেকে নিজেদের হেফাজতে নেয়।

র‍্যারের কাছে আজহার হত্যার কথা স্বীকার করলেন ইমাম মাওলানা আবদুর রহমান। ছবি- সংগৃহীত

র‍্যারের কাছে আজহার হত্যার কথা স্বীকার করলেন ইমাম মাওলানা আবদুর রহমান। ছবি- সংগৃহীত

এই হত্যাকাণ্ডে ইমাম আব্দুর রহমান ও আসমা বেগম জড়িত বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা র‍্যাবের কাছে স্বীকার করেছে। হত্যাকাণ্ডের দিন ইমামকে ফোন করে আসমা জানায়, আজহারকে তোমার কাছে একা পাঠিয়েছি, এবার শেষ করে দাও তাকে। ইমামও আগে থেকেই তার শয়ন কক্ষে একটি পশু জবাইয়ের ছুরি ও একটি রামদা এনে লুকিয়ে রাখে। আজহার মসজিদে আসার পর রাত ১০টার দিকে সেই ছুরি দিয়ে প্রথমে তাকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে রামদা দিয়ে মৃতদেহ সাত টুকরো করে।

র‌্যাব সদর দফতরে মিডিয়া শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আসমার সঙ্গে ইমাম আব্দুর রহমানের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তাদের মধ্যে কাটা হয়ে দাঁড়ায় আসমার স্বামী আজহার। দুজনের পথের কাটা সরাতেই আজহারকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় এবং শেষে তাকে হত্যা করে।

আজহারুল ও তার স্ত্রী আছমা - সংগৃহীত

আজহারুল ও তার স্ত্রী আছমা – সংগৃহীত

এর আগে, মঙ্গলবার কারওয়ান বাজার মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-১-এর কমান্ডিং অফিসার (সিও) লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল মুত্তাকিম বলেন, গত ১৯ মে (বুধবার) এশার নামাজের পর থেকে হত্যা মিশন শুরু করেন ইমাম আব্দুর রহমান। গলায় ছুরি চালানোর পর মৃত্যু নিশ্চিত করতে তিনি আজহারুলকে আরো কয়েকবার ছুরিকাঘাত করেন। এরপর মরদেহকে টুকরো টুকরো করে মসজিদের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে দেন। এশার নামাজের পর থেকে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত চলে এই হত্যা মিশন।

লাশ ফেলে দেয়ার পর তিনি নিজের কক্ষের এবং সেপটিক ট্যাংকের আশপাশের রক্তের দাগ পরিষ্কার করেন। মসজিদ থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে আজহারুলের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

কি নিয়ে তাদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়েছিল— জানতে চাইলে র‍্যাব-১-এর সিও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে ইমাম রহমান বলেছেন, আজহার অভিযোগ করছিল যে তার স্ত্রীর দিকে কুনজর রয়েছে। কিন্তু আজহারের স্ত্রীর সঙ্গে কোনো ধরনের সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন ইমাম।

এই কক্ষে থাকতেন আজহারুল - সংগৃহীত

এই কক্ষে থাকতেন আজহারুল – সংগৃহীত

র‌্যাব জানায়, আসমা মূলত পরকীয়ায় আসক্ত এক নারী। আজাহার ছাড়াও আগে দুই বিয়ে হয়েছিল। আসমার দ্বিতীয় স্বামী ছিল আজাহারের বড় ভাই। কিন্তু দেবর আজাহারের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে আসমা। এরপর স্বামীকে ডিভোর্স দিয়ে আজাহারকে বিয়ে করে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে আজাহারের সঙ্গে সংসার করছিলেন আসমা। আরিয়ান নামে তাদের চার বছরের এক ছেলে সন্তান রয়েছে। কিন্তু আসমার পরকীয়ার আসক্তি কাটেনি। সে জানুয়ারির প্রথম দিকে মসজিদের ইমাম আব্দুর রহমানের প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে এবং তার সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়ায়। এক পর্যায়ে ইমামকে স্বামী হিসেবে পেতে মরিয়া হয়ে ওঠে। মার্চের শুরুতে আজাহার তাদের সম্পর্ক বুঝতে পেরে ইমামকে তার স্ত্রীর সঙ্গে মিশতে নিষেধ করে। এমনকি ওই বাসা ছেড়ে দিয়ে অন্য জায়গায় বাসা ভাড়া নেয় আজহার। ভেবেছিল, ইমাম সে জায়গার খবর জানবে না। কিন্তু আসমা আবারও নতুন বাসার খবর জানায় ইমামকে।

পুলিশ জানিয়েছে, আজহারুল পেশায় একজন গার্মেন্টস কর্মী। তিনি দক্ষিণখানের মধুবাগ এলাকার ইউসুফ গাজীর ৩৯ নম্বর বাসায় ভাড়া থাকতেন। নিকটস্থ সরদার বাড়ি জামে মসজিদে প্রায় ৩৩ বছর ধরে ইমামতি কর আসছেন আব্দুর রহমান। আজহারের ছেলে আরিয়ান ওই মসজিদের মক্তবে পড়ালেখা করত। আজহার নিজেও আব্দুর রহমানের কাছে কোরআন শিক্ষা করতেন। সেই সুবাদের তাদের মধ্যে পারিবারিক সম্পর্ক ছিল। আজহারের বাসায় যাতায়াতও ছিল আব্দুর রহমানের।

এই সেপটিক ট্যাংকে ফেলা হয় আজহারের টুকরো করে লাশ - সংগৃহীত

এই সেপটিক ট্যাংকে ফেলা হয় আজহারের টুকরো করে লাশ – সংগৃহীত

র‌্যাব জানিয়েছে, ১৯ মে থেকে নিখোঁজ ছিলেন আজহারুল। র‌্যাব তার খোঁজ পেতে অনুসন্ধান শুরু করে। এর মধ্যে সোমবার মসজিদের সিঁড়িতে রক্তের দাগ ও সেপটিক ট্যাংক থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। পরে র‍্যাব ইমাম আব্দুর রহমানকে আটক করে এবং জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার ঘটনা জানতে পারে। এ সময় তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত তিনটি চাকু উদ্ধার করা হয়।

উদ্ধারকৃত আলামত - সংগৃহীত

উদ্ধারকৃত আলামত – সংগৃহীত

আজহারুলের স্ত্রীর সঙ্গে আব্দুর রহমানের কোনো ধরনের অনৈতিক সম্পর্ক ছিল কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোত্তাকিম বলেন, আমরা বিভিন্ন তথ্য যাচাই-বাছাই করছি। এখনই কিছু বলতে পারছি না। তিনি জানান, পশু কোরবানির জন্য মসজিদে যে ছুরি রাখা হয়, সেই ছুরি দিয়েই আজহারকে হত্যা করেছেন আব্দুর রহমান।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭৪ বার

[hupso]