শিরোনামঃ

» ইয়াসের প্রভাবে মোংলা উপকূলীয় এলাকায় দুর্ভোগ চরমে,খাদ্য সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন

প্রকাশিত: ২৭. মে. ২০২১ | বৃহস্পতিবার

সবুজ হাওলাদার মোংলা।।ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে মোংলা বন্দরসহ সুন্দরবনের উপকূলীয় বিভিন এলাকার বেড়িবাঁধ দিয়ে জোয়ারের পানি লোকা লয়ে এবং পৌরসভায় প্রবেশ করেছে জোয়ারের পানি।

বুধবার দুপুরের পর ভরা জোয়ারের প্রভাবে সাগর ছিল প্রচন্ড উত্তাল এবং মুষলধারে বৃষ্টি। যার কারনে পানির উচ্চতা বেড়ে যায়।

এ সময় সুন্দরবন সংলগ্ন উপকূলীয় বেড়িবাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে জোয়ারের পানি।

কানাইনগর, কাইনমারী, চিলা, জয়মনি, বুড়িরডাঙ্গা, মাছমারা ও পৌরসভা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ ভেঙে জোয়ারের পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে প্লাবনের সৃষ্টি হয়।

ফলে ওই সমস্ত নিম্নাঞ্চল এলাকার গরিব ও অসহায় লোক জনের দুর্ভোগ চরমে পৌছে যায়। খবর পেয়ে তৎক্ষনিত প্রথম পযায়ের খাদ্য সহায়তা পৌছে দেন উপজেলা প্রশাসন।

ঘুর্ণিঝড় ইয়াস আসবে এমন খবরে মোংলা বন্দর ও সুন্দরবন সংলগ্ন উপকুলীয় এলাকার মানুষের মাঝে একটি অজানা আতংঙ্ক বিরাজ করছিল।

গত তিনদিন ধরেই আবহাওয়া অফিস তাদের বার্তায় এমন খবরই প্রচার হচ্ছিল এবারের ঘর্ণিঝড় ইয়াস একটি শক্তিশালী প্রলয়ংকারী ঝড়ে পরিনত হবে। এখানকার নদী বেষ্টিত এলাকার অসহায় মানুষ গুলো প্রতিনিয়তই ঝড় জলোচ্ছাস নিয়েই বেঁচে থাকতে হয় তাদের। তার পরেও গত বেশ কয়েকটি ঘুণিঝড়ে তারা হারিয়েছে মাথা গেঁাজার ঠাঁইসহ তাদের সহায় সম্বল ও অন্যান্য আসবাস পত্র।

তাই সময় যতই অতিবাহিত হচ্ছিল ততই মানুষের মনে ভয় বাসা বেঁধেছিল এই বুঝি উপকুলের দিকে ধেঁয়ে আসছে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট হওয়া ঘুর্ণিঝড় ইয়াস।

গত তিনদিন থেকেই নদী ও সাগর প্রচন্ড উত্তল ছিল। যার প্রভাবের কারনে মোংলা বন্দরে ৩ নাম্বার স্থানীয় সতর্ক সংকেতও বহাল রেখেছিল আবহাওয়া অফিস। শহর ও উপকুলীয় এলাকায় সকাল থেকে দুর্যোগপুর্ন আবহাওয়ার ফলে হঠাৎ মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হওয়ায় এখানকার মানুষ ঘর থেকে নামতে পারছিলনা।

অপরদিকে, দুর্যোগপুর্ন আবহাওয়ার সাথে কখনও হালকা ও আবার কখনও ভারী বৃষ্টির ফলে বন্দরে অবস্থানরত বানিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কাজও ব্যাহত হচ্ছিল।

বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের আধিক্য বিরাজ করায় বুধবার সকালেও সুন্দরবন উপকূল অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়া বিরাজ অব্যাহত ছিল।

থেমে থেমে কখোনও মাঝারী আবার মুষলধারেও বৃষ্টি হাচ্ছল অবিরাম। উপকূলীয় এলাকায় প্রচন্ড বাতাস ছাড়াও বিরাজ করছিল দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া।

ঘুর্ণিঝড়টি পুর্ণিমার ভরাগোনে সৃস্টি হওয়ায় স্বাভাবিকের তুলনায় ৪ থেকে ৫ ফুট পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সুন্দরবনসহ উপক্থলীয় নিম্নাঞ্চল এলাকায় ঢুকে পরে পানি। জোয়ারের পানিতে তলিয়ে যায় সুন্দরবনের করমজল পর্যটন ও বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রটি।

এছাড়াও বনের দুবলার চরের জেলেপল্লীর টহল ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা প্রহ্লাদ চন্দ্র রায় জানান, দুবলা ও এর আশপাশ এলাকার সুন্দরবনের ভেতরে পানি ঢুকে পরে। আর এ ঘুর্ণিঝড়ের পানি বনের অভ্যান্তরে ঢুকে পরায় এখানকার জেলে ও বন্যপ্রানীদের মিস্টি পানির এক মাত্র পুকুর তলিয়ে যায়। বনে পানি ঢোকায় প্রায় বাচ্চাসহ ৪শ’ থেকে ৫শ’ হরিণ ও অন্যান্য প্রানী এ মিষ্টি পানির পুকুর পাড়ে আশ্রয় নিতে দেখা গেছে।

নদীর এ পানি বনের কতদুর গিয়ে গড়িয়েছে তা আমাদের অজানা। তবে ভিতরে ঢুকে দেখলে জানা যাবে পানি কতটুকু ভিতরে পৌঁছেছে।

এছাড়া মোংলার কাইনমারী সুইস গেট উপচে পানি পৌর শহরে প্রবেশ করছে। পৌরসভার মধ্যে পানি ঢুকছে মাছমারা এলাকার মানুষের চলাচলের রাস্তাও তলিয়ে যায়। জলোচ্ছাসে সুন্দরবনের দুবলার চরের অন্যান্য জায়গায়ও স্বাভাবিকের তুলনায় পাঁচ-ছয় ফুট পানিতে তলিয়ে গেছে। ঝড়ে ভেঙে গেছে বন বিভাগের দুবলা জেলেপল্লী টহল ফাঁড়ির কাঁচাঘরও।

অপরদিকে, ঘুর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে নদীর পানি বিপদ সীমার উপরদিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় মোংলার প্রায় সাড়ে ৬শ’ পরিবার জলোচ্ছাসে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। বুধবার দুপুরের দিকে পৌরসভাসহ তিনটি ইউনিয়নের প্রায় ১০টি গ্রামে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

মোংলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কমলেশ মজুমদার জানান, দুপুরে খবর পাওয়ার সাথে সাথে ওই এলাকায় গিয়ে বন্যা দুর্গতদের উদ্ধার তৎপরতার পাশাপাশি জরুরী খাদ্য সহায়তার শুরু করা হয়েছে। প্রথমে শুকনা খাবার এবং রাতে তাদের জন্য খিচুড়ীর ব্যবস্হা করা হয়েছে।

এছাড়া যাদের কাচা ঘর ভেঙ্গে গেছে তাদের আশ্রয় কেন্দ্রে থাকার ব্যাবস্থা করা হবে বরেও জানায় এ কর্মকর্তা।

এদিকে ঘুর্ণিঝড় আঘাত হানবে এমন খবরে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছিল উপজেলা প্রশাসন। প্রস্তুত রেখেছে সিপিপি সেচ্ছাসেবকদের। কন্টোল রুমের মাধ্যমে উপক্থলীয় এলাকার সব কিছুই পর্যবেক্ষন করছিল উপজেলা প্রশাসন।

নৌবাহিনী, কোষ্টগার্ড ও বন বিভাগ তাদের নৌযান সমুহ নিরাপদে সারিয়ে রাখা হয়েছিল। সুন্দরবনে ঝুঁকিপুর্ন ৮টি অফিসের বনরক্ষীদের তাদের অফিস থেকে সরিয়ে আনা হয়েছে নিরাপদ স্থানে বলে জানায় বন বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন।

সাগর ও পশুর চ্যানেলে বৈরী আবহাওয়া আর বৃষ্টির ফলে মোংলা বন্দরে অবস্থানরত বানিজ্যিক জাহাজ থেকে পণ্য খালাস কাজ ব্যাহত হচ্ছিল।

বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এ বন্দরে সার, ক্লিংকার, পাথর, গ্যাস, ফ্লাই আ্যাশসহ ১১টি বাণিজ্যিক জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় এখানে অবস্থান করছিল বলেও জানায় বন্দরের হারবার মাস্টার কমান্ডার শেখ ফকর উদ্দিন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৬ বার

[hupso]