গতকাল বুধবার শিক্ষাবিষয়ক সাংবাদিকদের সঙ্গে এক ভার্চুয়াল মতবিনিময়সভায় শিক্ষামন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘ছয় মাস ধরে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে ধরে রাখা যায় না। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে কতগুলো বিষয়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া যায়, সেটা আমরা চিন্তা-ভাবনা করছি। যখন আমরা পরীক্ষা নেব, তখন কেউ যদি করোনা আক্রান্ত হয়, তাদের কিভাবে মূল্যায়ন করা যায়, সেই বিবেচনাও আমাদের থাকবে।’

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়ানো বিষয়ে ডা. দীপু মনি বলেন, ‘বর্তমানে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। তাই আগামী ৩ অক্টোবরের পরও ছুটি বাড়ছে। কত দিন ছুটি বাড়ছে, সেটা আমরা জানিয়ে দেব। কবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলতে পারে, সে ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আগে খোলার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব। আমরা শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারটি বিবেচনা করব। আবার শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের কথাও বিবেচনা করব, তবে কোনো অবস্থাতেই আমরা শিক্ষার্থীদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারি না।’

টিউশন ফির ব্যাপারে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জোর-জবরদস্তি করে কিছু চাপিয়ে দেওয়া ঠিক হবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনের কিছু খরচ বাদে সব খরচই রয়ে গেছে। যাঁরা সরকারি চাকরি করেন তাঁদের আয় আগের মতোই আছে। তাঁদের জন্য কোনো ছাড়ের প্রয়োজন নেই, তবে যাঁরা প্রকৃতপক্ষে ক্ষতিগ্রস্ত তাঁদের ব্যাপারটি বিবেচনায় নিয়ে উভয় পক্ষকে ছাড় দিতে হবে।’

নতুন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ব্যাপারে তিনি বলেন, ‘আমরা এমপিও নীতিমালা আরো যুগোপযোগী করতে চাই। অক্টোবরে এটি আমরা চূড়ান্ত করতে পারব। এরপর নতুন এমপিওভুক্তির জন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কাছে আবেদন চাইব। চলতি অর্থবছরে নতুন এমপিওভুক্তি সম্পন্ন করতে পারব কি না তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে, তবে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। আর অনার্স-মাস্টার্স কলেজের শিক্ষকদের বিষয়টি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে জড়িত। তাদের সঙ্গে বসেই বিষয়টি সমাধান করা হবে।’

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীরা নিজ প্রতিষ্ঠানেই থাকছে। এ কারণে স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদের পরীক্ষা নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আর ইংলিশ মিডিয়ামের ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেলে শিক্ষার্থী কম থাকায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে তাদেরও পরীক্ষার অনুমতি দেওয়া হয়েছে।”

ভার্চুয়াল মতবিনিময়সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন, কারিগরি ও মাদরাসা বিভাগের সচিব মো. আমিনুল ইসলাম খান, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক সৈয়দ গোলাম ফারুক প্রমুখ।