চাঁপাইনবাবগঞ্জ ঐতিহাসিক ৫শত বছরের মসজিদের জন্য নেই রাস্তা

প্রকাশিত: ৯:১৩ অপরাহ্ণ, জুন ২৪, ২০২০

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক সোনমসজিদ এলাকায় প্রায় ৫শ ৪০ বছর আগে খঞ্জনদীঘি মসজিদ নির্মিত হয়। কিন্তু ওই মসজিদে মুসুল্লি বা বহিরাগত দর্শনার্থীদের যাওয়া আসার জন্য নেই কোনা রাস্তা। গত ৫শ ৪০ বছরেও প্রত্ত্নতত্ত্ব বিভাগ রাস্তার ব্যবস্থা করেননি।

ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদটি সোনামসজিদ স্থল বন্দরের ৪ নং গেট থেকে দক্ষিণ দিকে ৪শ গজ ভিতরে অবস্থিত। কাস্টমস অফিস মোড় থেকে পূর্ব দিকে আধা-মাইল পর বালিয়াদীঘি গ্রামের দিকে ৪০ গজ দূরুত্বে এক গম্বুজ বিশিষ্ট খঞ্জনদীঘি মসজিদ।

স্থানীয়রা জানান, বর্তমানে ওই মসজিদটি সংস্কার করে নামাজিদের জন্য উন্মুক্ত করা হয়েছে। এর আগে ওই মসজিদ এলাকার জঙ্গলে ভরপুর ছিলো। প্রত্ত্নতত্ত্ব বিভাগ স্বাধীনতার পর ওই সব জঙ্গল পরিস্কার করে ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদ ও দিঘীটি উন্মুক্ত করে দেয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতি বছর বহিরাগত দর্শনার্থী ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদটি দেখতে আসেন।

এছাড়াও নিয়মিত স্থানীয়রা পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করে থাকেন। কিন্তু মসজিদে যাতায়াতের জন্য বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে রাস্তা। কোনো সরকারি রাস্তা নেই। এলাকার জমির মালিকেরা নিজস্ব দেয়াল দিয়ে নিজ নিজ জমি ঘিরে নেয়ায় বেশি সমস্যা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় প্রশাসন থেকে সরকারের সর্বোচ্চ প্রশাসনের বহু কর্মকর্তারা এই ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদ পরিদর্শন করলেও মাত্র চার (৪শ) গজ রাস্তার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি। এলাকাবাসি, পানামা সোনামসজিদ পোর্ট লিংকের কয়েকজন কর্মকর্তা ইঞ্জিনিয়ার নজরুল ইসলাম, কামাল হোসেন ও বহিরাগত দর্শনার্থীদের জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী জাকির হোসেন ও সুমাইয়া সাবিল ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদটির যাতায়াতের জন্য রাস্তা তৈরি করার জন্য জেলা প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

রাস্তার ব্যাপারে শাহবাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. তোজাম্মেল হকের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, রাস্তার সমস্যার ব্যাপারে ইতির্পূবে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সৈয়দ নজরুল ইসলাম ও সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী রওশন ইসলামকে অবহিত করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হকের সাথে মুঠোফোনে ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদের চলাচলের জন্য রাস্তার সমস্যা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, রাস্তা না থাকলে অবশ্যই রাস্তাকরণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য শামিল উদ্দিন আহমেদ শিমুলের সাথে যোগাযাগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি আগে জানা ছিলো না তবে জরুরী ভিত্তিতে ঐতিহাসিক খঞ্জনদীঘি মসজিদে যাতায়াতের জন্য রাস্তার কাজ শুরু গ্রহণ করা হবে।

খঞ্জনদিঘী মসজিদটি অনুমানিক ১৪৮০ সালের দিকে কোন এক রাজবিবি নির্মাণ বলে এলাকার জৈাষ্ঠ্যে ব্যক্তিরা ধারণা করেন। অনেকে মনে করেন, এটি সুলতান ইলিয়াস শাহের আমলের নির্মিত একটি মসজিদ। ২০০৪-২০০৫ সালে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের উদ্যোগে মসজিদটি সংস্কার করা হয়। ওই সংস্কারের পর এর অলংকরণ ও অঙ্গসজ্জা দারুণভাবে প্রস্ফূটিত হয়েছে। মসজিদটি পূর্ব-পশ্চিমে ৬২ ফুট এবং উত্তর-দক্ষিণে ৪২ ফুট। মসজিদে সর্বমোট ৭টি দরজা রয়েছে। পূর্ব দিকে ৯.৬ ফুট মাপের একটি বারান্দা রয়েছে।

স্থানীয়রা জানান, কথিত রয়েছে, মসজিদটি দুর্ভেদ্য জঙ্গলে আবৃত ছিল এবং হিংস্র জীব-জন্তুর আড্ডা ছিল । বড় বড় অজগর সাপের নিবাস ছিল এ মসজিদে। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পরে জঙ্গল পরিষ্কার করলে মসজিদের অস্তিত্ব ধরা পড়ে। মসজিদের ভেতরে ছিল চামচিকার রাজত্ব। চামচিকার দুর্গন্ধে বাতাস ভারি হয়ে থাকতো, যার কারণে এ এলাকায় কেউ যেতো না।

মসজিদটি সম্পর্কে এলাকাবাসী ও বহিরাগত দর্শনার্থীরা বলেন, মসজিদটি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ করা হচ্ছে না। এমনকি মসজিদে যাতায়াতের জন্য কোনো সরকারি কাঁচা- পাঁকা রাস্তার ব্যবস্থা করা হয়নি। সাধারণ জমির উপর দিয়ে চলাচল করতে হয়। যদি এ মসজিদ সম্পর্কে সরকারি উদ্যোগে গবেষণা করা হতো তাহলে দর্শনার্থীরা এলাকার ইতিহাস-ঐতিহ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারতো।