শিরোনামঃ

» জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে পড়ে পানিতে বরগুনায় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি

প্রকাশিত: ২৬. মে. ২০২১ | বুধবার

বেত্রাবতী ডেস্ক।।অস্বাভাবিক জোয়ারের পানিতে দিন-রাতে দু’বার করে প্লাবিত হচ্ছে বরগুনার উপকূল।
সাগর ও নদীতে জোয়ারে পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় তলিয়ে গেছে শত শত গ্রাম, বাড়িঘর, নিম্নাঞ্চলের আবাসন প্রকল্প, ফসলি জমি, পুকুর ও ঘের। পানিতে প্লাবিত হয়েছে বাড়িঘর।

অস্বাভাবিক জোয়ারের কারণে জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের দুটি ফেরির (আমতলী-পুরাকাটা ও বাইনচটকী-বড়ইতলা) পন্টুন তলিয়ে যোগাযোগ বিচ্ছিন্নপ্রায়। এর আগে মঙ্গলবার (২৫ মে) জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধ ভেঙে ও উপচে পড়ে প্লাবিত হয়েছেবরগুনার শতাধিক গ্রাম। এতে পানিবন্দি হয়ে পড়েছে লক্ষাধিক পরিবার।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রধান তিনটি নদী পায়রা, বলেশ্বর ও বিষখালীতে আজ ৩.৫৮ মিটার উচ্চতায় বিপদ সীমার ১২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়েছে।

এর আগে মঙ্গলবার সকালে বিপৎসীমার ৭৭ সেন্টিমিটার ও রাতে বিপদসীমার ১০৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে জোয়ারের পানি প্রবাহিত হয়েছে।

বরগুনা সদর উপজেলার ঢলুয়া ইউনিয়নের লতাকাটা এলাকার বাসিন্দা সরোয়ার বলেন, মঙ্গলবার রাতে জোয়ারের চাপে আমাদের এলাকার বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করে। আর আজ সকালে বেড়িবাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে এলাকার পাঁচ হাজারেরও বেশি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে।

এছাড়াও পুকুর ও মাছের ঘের তলিয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে আউশ ধানের বীজতলাসহ বিস্তৃর্ণ ফসলের মাঠ।

বরগুনা সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের লবণগোলা এলাকার বাসিন্দা দুলাল মৃধা বলেন, আমাদের এলাকার বেড়িবাঁধ উপচে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করেছে। এতে অন্তত পাঁচটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। তাই পানিবন্দি হয়ে পড়েছে সাত হাজারেরও বেশি পরিবার।

সদর উপজেলার আয়লা-পাতাকাটা ইউনিয়নের বাসিন্দা দুলাল বলেন, পায়রা নদীর জোয়ারের চাপে মঙ্গলবার সকালে আমাদের এলাকার অন্তত ৩০ ফুট বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়।

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী কায়ছার আলম বলেন, আগে থেকেই বরগুনায় ২৯ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। ঘূর্ণিঝড় ইয়াস ও পূর্ণিমার জোয়ারের চাপে এসব বাঁধ দিয়ে বিভিন্ন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। আমরা এসব ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামতের জন্য কাজ শুরু করেছি।

বরগুনার জেলা প্রশাসক হাবিবুর রহমান বলেন, ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের প্রভাবে সৃষ্ট জোয়ারে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে ইতোমধ্যে আমরা কাজ শুরু করেছি। দুর্গত এলাকার মানুষের জন্য পর্যাপ্ত সহায়তা মজুত আছে।

ইতোমধ্যেই আমরা ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা প্রস্তুতের কাজ শুরু করেছি। তালিকা অনুযায়ী তাদেরকে সহায়তা করা হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৪ বার

[hupso]