পুলিশের পক্ষ থেকে নয়টি ঘটনার ব্যাপারে ঢাকার বিভিন্ন থানায় অগ্নিসংযোগে এবং নাশকতার অভিযোগে মামলা করা হচ্ছে।

পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন, বৃহস্পতিবার ঢাকায় জাতীয় সংসদের ঢাকা-১৮ আসনে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির লক্ষ্যে নগরীতে একের পর এক যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে।

পুলিশ কমিশনার মো: শফিকুল ইসলাম বলেছেন, এই ঘটনাগুলোর পেছনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে তারা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন।

“আজকে ঢাকা শহরে একটা নির্বাচন আছে, সেটার সাথে এটার সম্পর্ক থাকতে পারে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। সেরকম কিছু তথ্য প্রমাণ আমরা পাচ্ছি। একটা দু’টা ঘটনা ঘটলে আমরা মনে করতাম অন্যকিছু। কিন্তু ধারাবাহিকভাবে যেহেতু আট নয়টা গড়িতে ঘটনা ঘটেছে, সুতরাং এটা পেছনে অবশ্যই সংঘবদ্ধ কোন গ্রুপের হাত আছে এবং রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার সম্ভবনাও বেশি।”

তিনি বলেছেন, তারা ভিডিও ফুটেজ পেয়েছেন। সেগুলো পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং দ্রুতই দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্ত করা যাবে বলে মি. ইসলাম জানিয়েছেন।

পুলিশ পল্টন ও বিএনপি কার্যালয় এলাকা থেকে সন্দেহভাজন নয়জন এবং উত্তরা থেকে একজনকে আটক করার কথা জানিয়েছে।

শাহবাগ, প্রেসক্লাব, মতিঝিল, গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজার এলাকা, বিজয়নগরের নাইটএঙ্গেল মোড় এবং অন্যদিকে ভাটারার প্রগতিসরনীসহ ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাগুলো ঘটেছে আকস্মিকভাবে দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত।

আজকের ঘটনা আকস্মিক হলেও এর পেছনে পূর্বপরিকল্পনা ছিল বলে পুলিশ কর্মকর্তারা বলেছেন।

ঢাকা নগরীতে একের পর এক বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও সমাবেশ এবং বিবৃতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি অভিযোগ পাল্টা অভিযোগ করেছে।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ঢাকা দক্ষিণ শাখার নেতা কর্মীরা নগরীতে এক বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় বিএনপিকে দায়ী করেছেন।

আর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ঢাকায় উপনির্বাচনে কারচুপি এবং কেন্দ্র দখলসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ থেকে জনগণের দৃষ্টি সরাতে আওয়ামী লীগ বিভিন্ন জায়গায় বাসে এসব অগ্নিসংযোগ করেছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের মুখপাত্র ওয়ালিদ হোসেন বলেছেন, “দুর্বৃত্তরা যাত্রী সেজে বাসে ওঠার পর প্রথমে তারা বাসের সিটে আসনে আগুন ধরিয়ে দেয়। এরপর বাসের বিভিন্ন অংশে আগুন দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

এতে বাসগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে হতাহতের কোন খবর আমরা পাইনি।”

পুলিশ বলছে, বাসগুলোর যাত্রী এবং প্রত্যক্ষ দর্শীদের সাথে কথা বলার পাশাপাশি তারা ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন।

পুলিশ কমিশনার জানিয়েছেন, অগ্নিসংযোগ বা নাশকতার ঘটনার প্রেক্ষাপটে ঢাকা নগরীতে পুলিশের নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে।

“সব জায়গায় আমরা পুলিশের উপস্থিতি এবং চেকপোস্টের সংখ্যা বাড়িয়েছি। এর পাশাপাশি গোয়েন্দা পুলিশ মাঠে নেমেছে। এছাড়া পরিবহনের মালিক শ্রমিক প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলেছি, তারাও আমাদের সহযোগিতা করবে।”

এদিকে ঢাকায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে ঘিরে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বাংলাদেশে গত কয়েক বছরে যানবাহনে অগ্নিসংযোগের এমন ঘটনা শোনা যায়নি।