শিরোনামঃ

» ত্রান দেওয়ার নাম করে এক গৃহবধূকে ধর্ষন করে ইউপি সদস্য

প্রকাশিত: ০৮. এপ্রিল. ২০২০ | বুধবার

বরগুনার তালতলীতে করোনাভাইরাসের কারণে বেকার হয়ে খাদ্য সংকটে পড়ে একটি দিনমজুর পরিবার। ওই পরিবারকে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার নাম তালিকাভুক্তি করার জন্য স্থানীয় ইউপি সদস্য সেই দিনমজুরের বিবাহিত মেয়েকে তার বাড়িতে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়ের পূর্ব বাদুরগাছা এলাকায় করোনাভাইরাসের কারণে কোনো কাজকর্ম না করতে পেরে বেকার হয়ে পড়ে একটি দিনমজুর পরিবার। গত সোমবার সরকারি সহায়তায় তালিকাভুক্ত করার জন্য স্থানীয় ইউপি ও ওয়ার্ড আওয়ামীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন খানের কাছে যায় ভূক্তভোগী দিনমজুর। ইউপি সদস্য তার মেয়েকে ভোটার আইডিকার্ড নিয়ে তার কাছে পাঠিয়ে দিতে বলেন। পরের দিন মঙ্গলবার বিকেল ৫ টার দিকে ঐ দিনমজুরের বিবাহিত মেয়ে ভোটার আইডি কার্ড নিয়ে ইউপি সদস্যর বাড়িতে যায়। সেখানে গিয়ে দেখে বাড়িতে সে একা এই সুযোগে দিন মজুরের কন্যাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। এ সময় ওই নারীর স্বামী ইসরাফিল ইউপি সদস্যর বাড়িতে গিয়ে ঘটনাটি দেখে ফেলে। এই ঘটনা কাউকে না বলার জন্য ইউপি সদস্য আনোয়ার হোসেন খান খুন করে ফেলার ভয় দেখিয়ে তাদের শাসায়। ভূক্তভোগী পরিবার থানায় যাতে মামলা না করতে পারে সেজন্য তাদের এলাকা ছাড়ারও হুমকি দেওয়া হয়।

পরে বিষয়টি এলাকায় জানাজানি হলে ভূক্তভোগীর স্বামী ইসরাফিলকে তুলে নিয়ে যায় ইউপি সদস্য ও তার লোকজন। আজ বুধবার পর্যন্ত ভিকটিমের স্বামীর কোনো খোঁজখবর পাওয়া যায়নি। ইউপি সদস্যদের লোকজন বর্তমানে ঐ দিনমজুর পরিবারটিকে অবরুদ্ধ করে রেখেছেন বলে জানান পরিবার।

এদিকে ইউপি সদস্যর এমন কর্মকান্ডে হতবাক এলাকাবাসী। অভিযুক্ত আনোয়ার খান তালতলী উপজেলার শারিকখালী ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ও একই ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি। তার এমন কর্মকান্ডের বিচারের দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

ভূক্তভোগীর বাবা বলেন, মুই মানষের বারতে কাম হইর‌্যা খাই। এ্যাহন ভাইরাসের লইগ্যা মুই অসহায় হইয়া পরছি। এইয়ার মদ্যে মোর মাইয়াডা হ্যার  স্বামীরে (ইসরাফিল) লইয়া বাড়তে বেড়াইতে আইছে। এ্যাহন মোর সোংসার চালাইতে খুব কষ্ট। হেইর লইগ্যা মোগ মেম্বার আনোয়ার খার ধারে গেল্লাম। হে মোর মাইয়াডারে ভোটার আইডিকার্ড লইয়া হ্যার লগে বাড়তে যাইয়া দেহা করতে বলেন। পরের দিন বিয়ালে মোর মাইয়া হ্যার বাড়তে গেছে বাড়তে আর কেউ না থাহার সুযোগে মাইয়াডারে জোরকইর‌্যা ধর্ষণ করেন। মুই থানায় মামলা করলে মোরে এলাকা ছাড়া করবে বোলে হুমকি দেন। মোর জামাইডারে দুই দিন ধইর‌্যা কুম্মেজানি আটকাইয়া রাখছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ইউপি সদস্য আনোয়ার খান বলেন, আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ দিচ্ছে। এগুলো সব মিথ্যা। এই মেয়ে যাকে স্বামী হিসেবে পরিচয় দেয় সে তার আসল স্বামী না। তাকে তুলে আনা হয়নি বরং ছেলের পরিবারের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগ সভাপতি আবুল বাশার বাদশা তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, নিউজ করার দরকার নেই আপনাদের সাথে যোগাযোগ করা হবে।

তালতলী থানার অফিসার্স ইনচার্জ (ওসি) কামরুজ্জামান মিয়া বলেন, বিষয়টি শুনে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়েছি। তবে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

তালতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ সেলিম মিঞা মুঠোফোনে বলেন, খাদ্য সহায়তা দেওয়ার কথা বলে ধষর্ণের ঘটনাটি যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে তদন্ত করে দোষীর বিরুদ্ধে কঠোর থেকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

সূত্র :কালের কন্ঠ

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৩০ বার

[hupso]
সর্বশেষ খবর