শিরোনামঃ

» দু’যুগ পেরুলেও এমপিওভূক্ত হয়নি মনিরামপুরের ইত্যা মাদ্রাসা, শিক্ষকদের মানবেতর জীবন

প্রকাশিত: ০৪. নভেম্বর. ২০২০ | বুধবার

হাবিবুর রহমান।। প্রায় ২যুগ পেরিয়ে গেলেও এমপিও ভূক্ত হয়নি যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ইত্যা স্লুইসগেট মাদ্রাসাটি।

১৯৯৭ সালে মরহুম হাবিবুর রহমান হাবিব নামে এক ব্যক্তির দান করা ১০১ শতক জমির উপর নির্মিত ইত্যা স্লুইসগেট দাখিল মাদ্রাসাটি।

কাশিমনগর ইউনিয়নের হরিহর নদীর কাছে সুন্দর মনোরম পরিবেশে ইত্যা গ্রামের নামে গড়ে ওঠা প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতি বছর শিক্ষার্থীরা পাবলিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে আসছে।

প্রতিষ্ঠার প্রায় দুইযুগ পেরোলোও নির্মিত হয়নি সময়োপয়োগী একটি একাডেমিক ভবন।

২০ বছরের শিক্ষাকতা জীবনে বেতন পাইনি জীবন সংগ্রামের বোঝা টানতে টানতে এখন আমি পরিশান্ত ক্লান্ত। আর পারছি না! ঈদ এলে তো স্ত্রী সন্তানদের সামনে চোখের পানি ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকে না। তবুও পাওয়ার আশায় বুক বেধেছি, কথাগুলো বলেছিলেন এমপিও না হওয়া ইত্যা স্লুইসগেট দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা রুহুল আমিন।

শুধু রুহুল আমিন নন মাদ্রাসা বাকি শিক্ষক কর্মচারীর পরিবারের অবস্থা একই। শিক্ষকদের অনুদানে গড়ে ওঠে প্রতিষ্ঠানটি।

শুরুতে ১৫ জন শিক্ষক আর ৩৫০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। এমপিও হবে বেতন পেয়ে স্ত্রী সন্তানদের মুখে হাসি ফুটবে এই আশায় আজও তাদের পথচলা।

এদিকে শিক্ষকরা বেতন না পেলেও দায়িত্ব পালন করে চলেছেন ঠিকঠাক।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সংসারের ঘানি টানতে সপ্তাহে এক দুইদিন মাদ্রাসা ছেড়ে মাঠে নামতে হয়। তারপরও বর্তমানে সেখানে ২৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে বলে মাদ্রাসার পক্ষ থেকে জানানো হয়। স্থানীয়রাও মাদ্রাসাটির প্রশংসা করেছেন।

মাদ্রাসার সুপার রুহুল আমিন আরও বলেন, গত ২০ বছর ধরে পৈত্রিক সম্পত্তি বিক্রি করে মাদ্রাসার পেছেনে ১৮ লাখ টাকা ব্যয় করছি।

অথচ নিজের অনার্স পড়ুয়া ছেলেকে অর্থের অভাবে লেখা পড়া করাতে পারিনি। এখন সংসার চালাতে পরের কম্পিউটার দোকানে কাজ করে। তাছাড়া ইংরেজিতে অনার্স পড়া মেয়েরও বিয়ে দিয়ে দিতে হলো।

তিনি আরো বলেন, লজ্জার কথা কী বলব! সপ্তাহের এক দিন মাঠের কাজে না গেলে সংসার চলে না। । তাছাড়া মাদ্রাসায় চেয়ার বেঞ্চেরও সংকট রয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের সভাপতি  শহিদুল ইসলাম (ইউপি সদস্য) বলেন, মাদ্রাসাটি খুব ভালো লেখাপাড়া হয়। তবে এই ধারা কতদিন বজায় থাকবে? মাষ্টাররা কেউ তো বেতন পায় না। তাছাড়া জরাজীর্ণ পুরাতন টিনশেড ভবনে একটু বৃষ্টি হলেই শিক্ষর্থীদের ভিজে ক্লাস করতে হয়।

এব্যাপারে একাধিকবার পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ঠদের অবগত করেও ফল পাওয়া য়াযনি। চলতি বর্ষা মৌসুমে মাঠে পানি ভরে গেছে। জলাবদ্ধতায় যোগ হয় দুর্ভোগের নতুন মাত্রা।

দীর্ঘ প্রায় দুই যুগ ধরে বেতন বঞ্চিত ভূক্ত ভোগী শিক্ষকদের তাদের চরম দুরবস্থার কথা বিবেচনা করে দ্রুততার ভিত্তিতে এমপিও ভূক্ত এবং একটি সময়োপযোগী ভবন নির্মানের আকুল নিবেদন জানিয়ে মাননীয় প্রধান মন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিবের সু-দৃষ্টি কামনা করেছেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৬ বার

[hupso]
সর্বশেষ খবর
বেত্রাবতী ডেস্ক।।মার্কিন নির্বাচনে এই মুহূর্তে যে কয়টা অঙ্গরাজ্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ…