শিরোনামঃ

» দেশের সীমান্তবর্তী আরো সাত জেলা লকডাউনের পথে

প্রকাশিত: ০১. জুন. ২০২১ | মঙ্গলবার

বেত্রাবতী ডেস্ক।।সীমান্তবর্তী আট জেলা এখন করোনার সংক্রমণের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকির মুখে। ফলে ওই জেলাগুলোতে লকডাউনের মতো সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে।

স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরাও এ বিষয়ে তাগাদা দিয়ে আসছিলেন।

ঝুঁকিপূর্ণ আট জেলার মধ্যে রয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নাটোর, নওগাঁ, কুষ্টিয়া, সাতক্ষীরা, খুলনা ও যশোর।

এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকা চাঁপাই নবাবগঞ্জে গত মঙ্গলবার থেকে স্থানীয় জেলা প্রশাসনের দেওয়া লকডাউন আরো সাত দিন বাড়ানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বরাত দিয়ে গতকাল সোমবার মন্ত্রি পরিষদসচিব গণমাধ্যমকে জানান, ঝুঁকিপূর্ণ জেলা গুলোতে বা নির্দিষ্ট এলাকায় কঠোর বিধি-নিষেধ বা লকডাউনের বিষয়ে স্থানীয় জেলা প্রশাসকরাই সিদ্ধান্ত নেবেন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের আলোচনার ভিত্তিতে লকডাউনসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা দিয়ে রাখা হয়েছে। অবশ্য কয়েক দিন ধরে সীমান্তবর্তী অন্য জেলাগুলোতেও আগের তুলনায় কড়াকড়ি নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সেই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে করোনায় আক্রান্তদের চিকিত্সার ব্যবস্থা করা হলেও কোথাও কোথাও হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় সব চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় এ ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের বলেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ রোধে কঠোর বিধি-নিষেধ পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে কোনো কোনো জেলায় আম ও লিচুর বাণিজ্যিক বিষয়ের দিকে নজর রেখে কিছুটা মানবিক সুবিধা রাখছে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে রবিবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির এক সভায় সীমান্তবর্তী ওই আট জেলাতেই পূর্ণাঙ্গ লকডাউন দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

এ ছাড়া সিলেট, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের দিকেও নজরদারি বাড়ানোর কথা বলা হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের জনস্বাস্থ্যবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. আবু জামিল ফয়সাল কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকায় এখন সংক্রমণ তুলনামূলক কম বা যেভাবে আশঙ্কা করা হয়েছিল সেভাবে বাড়েনি। তবে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় থাকা জেলাগুলো থেকে অবাধে অন্যত্র যাতায়াতের সুযোগ থেকে গেলে সেসব স্থানেও ছড়িয়ে পড়ার শঙ্কা থেকে যায়। তাই স্বাস্থ্যবিধির ওপর জোর রাখতেই হবে।

এদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোর হাসপাতালে চিকিত্সাব্যবস্থা বাড়ানোর কাজ চলছে।

অক্সিজেন সুবিধা বাড়ানো হচ্ছে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউ বেড বাড়ানো হয়েছে, আরো কিছু বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। এর পরও যদি প্রয়োজন হয় তবে ঢাকায় পাঠানোর জন্যও নির্দেশনা দেওয়া আছে।

লকডাউনের ক্ষমতা দেওয়া আছে  স্থানীয় প্রশাসনকে

গতকাল মন্ত্রিপরিষদ সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘লকডাউনের বিষয়ে মেয়র ও স্থানীয় এমপিরা, জেলা প্রশাসন, সিভিল সার্জন যাঁরা আছেন তাঁরা আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে লকডাউনের প্রস্তাব স্থানীয় পর্যায় থেকে এসেছিল। আমরা তাদের প্রস্তাবে সায় দিয়েছি। অন্যদেরও আমরা বলে দিয়েছি, যেখানে জরুরি প্রয়োজনে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার সেটা তাঁরা নিতে পারবেন।’

তবে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে আমের মৌসুম চলায় এই মুহূর্তে লকডাউন কতটা যৌক্তিক হবে তা-ও সরকারকে চিন্তা করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন খন্দকার আনোয়ারুল।

সীমান্ত জেলাগুলোতে লকডাউন দেওয়ার বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সুপারিশের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে একটা সুপারিশ পাঠানো হয়েছে। এখনো সেটা আমি পাইনি। তবে যে সিদ্ধান্ত দেওয়ার দরকার তা আগেই দেওয়া হয়েছে।’

কয়েকটি জেলায় অক্সিজেনসংকটের বিষয়টি তুলে ধরা হলে খন্দকার আনোয়ারুল বলেন, যে জেলাগুলো ঝুঁকিপূর্ণ সেসব জায়গায় প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো পূরণ করতে গত শনিবার ডিজি হেলথ কে সরাসরি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদি কোনো জেলায় রোগী ব্যবস্থাপনায় সমস্যা হয়, তাহলে কাছাকাছি বড় শহরে যাতে স্থানান্তরের ব্যবস্থা করা হয় সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় ভেরিয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করা যাবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রিপরিষদসচিব বলেন, ‘ভারতীয় ভেরিয়েন্ট অনেক কম ছড়াচ্ছে। ইন্ডিয়া থেকে যারা আসছে তাদের কাউকে ১৪ দিনের বাইরে ছাড়া হয়নি।

সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজের মতো তারকা খেলোয়াড়কেও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয়নি। ক্রিকেট বোর্ড আমাদের ১২ দিনের মাথায় ছাড়তে বলেছিল, কিন্তু আমরা ছাড়িনি।’

সীমান্ত জেলায় করোনা ছড়ানো রুখতে না পারা ব্যর্থতা কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘সারা দেশেই কিছুটা বাড়তির দিকে। সীমান্ত জেলা দিয়ে যারা দেশে ঢুকছে, তাদের কাউকেই কোয়ারেন্টিন ব্যতীত ছাড়া হচ্ছে না।

এরপরও শুধু সীমান্ত জেলায় কেন বাড়ছে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘ঈদের সময় মানুষের যোগাযোগের কারণে এমনটা হতে পারে।’ তবে তিনি নির্দিষ্ট কারণ জানাতে পারেননি।

তিনি বলেন, ‘সীমান্ত জেলা দিয়ে যারা দেশে ঢুকছে, তাদের সবাই তো সেই সব জেলার বাসিন্দা নয়। তবে কেন এসব এলাকায় রোগী বাড়ছে, সে বিষয়টি চিহ্নিত করার চেষ্টা করছে সরকার।’

ভারতে না গিয়েও ভারতীয় ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত যশোরের ৮ জন

যশোরে আট রোগীর নমুনা পরীক্ষায় করোনা ভাইরাসের ভারতীয় ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। তবে তাদের কেউই ভারতে যায়নি।

যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) জিনোম সেন্টারে নমুনা পরীক্ষায় গতকাল তাদের দেহে এই ভেরিয়েন্ট শনাক্ত হয়েছে। তাদের মধ্যে সাতজন পুরুষ ও একজন নারী। সবার বয়সই ৫৬ বছরের নিচে।

জিনোম সেন্টারের সহযোগী পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. ইকবাল কবীর জাহিদের নেতৃত্বে একদল গবেষক সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে করোনা ভাইরাসের ভারতীয় এই ধরন শনাক্ত করেন।

জিনোম সেন্টার থেকে জানানো হয়েছে, গত ২৯ মে চারজনের নমুনা অভয়নগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, তিনজনের নমুনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও একজনের নমুনা ঝিকরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে যবিপ্রবির ল্যাবে পাঠানো হয়েছিল।

সাতক্ষীরায় লকডাউন হবে কি না সিদ্ধান্ত বৃহস্পতিবার

সাতক্ষীরায় লকডাউন হবে কি হবে না, সে বিষয়ে আগামী বৃহস্পতিবার বৈঠক করে জেলা পর্যায়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক এস এম মোস্তফা কামাল।

তিনি জানান, করোনা সংক্রমণ রোধে সাতক্ষীরা জেলায় বেশ কিছু বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসক বলেন, সীমান্তবর্তী উপজেলা সাতক্ষীরা সদর, কলারোয়া, কালীগঞ্জ, দেবহাটা ও শ্যামনগরের কৈখালী ইউনিয়নসংলগ্ন সীমান্ত পাহারায় স্থানীয়ভাবে প্রতিরক্ষা কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিরক্ষা কমিটি সীমান্তের চোরাচালানি, মানুষ পাচারকারী এবং অবৈধ যাতায়াতকারীদের চিহ্নিত করবে।

কুষ্টিয়ায় স্বাস্থ্যবিধি না মানায় বাড়ছে সংক্রমণ

কুষ্টিয়ায় করোনা সংক্রমণ বাড়লেও শুরু থেকে সরকার ঘোষিত রেড জোন, লকডাউন ও স্বাস্থ্যবিধি কোনোটিই মানছে না মানুষ।

জেলার ছয় উপজেলায় গতকাল পর্যন্ত করোনা শনাক্ত রোগীর সংখ্যা চার হাজার ৯৪৭। এর মধ্যে চিকিত্সক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও পুলিশ কর্মকর্তাসহ ১১১ জন আক্রান্ত হওয়ার পর মারা গেছে এবং করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছে আরো ২৫ জন।

অন্যদিকে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত দিয়ে গোপনে চোরাই পথে বাংলাদেশিদের ভারতে যাতায়াতের ফলে সীমান্ত এলাকাসহ জেলায় করোনা সংক্রমিত হওয়ার শঙ্কা বেড়েছে।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের সিনিয়র মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মুসা কবির জানান, ঈদের আগে হাসপাতালে করোনা রোগীর চাপ কিছুটা কমে এলেও ঈদের পর থেকে তা আবারও বেড়েই চলেছে।

 

 

 

 

 

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১০৯ বার

[hupso]