শিরোনামঃ

» নৌযান শ্রমিকদের লাগাতার কর্মবিরতিঃ মোংলা বন্দর কার্যত অচল

প্রকাশিত: ২০. অক্টোবর. ২০২০ | মঙ্গলবার

বিশেষ প্রতিনিধি, মোংলা।।শ্রমিকদের খাদ্য ভাতা, স্বাস্থ্য সু রক্ষা সরঞ্জাম, নিয়োগ পত্র, সার্ভিস বুক ও পরিচয় পত্র প্রদান, নদীতে নিরাপত্তাসহ লাইটার শ্রমিকদের ১৫ ও নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে দেশের অন্যান্য স্থানের মতো মোংলা বন্দরেও নৌযান শ্রমিকরা লাগাতার কর্মবিরতি শুরু করেছে।

সোমবার মধ্য রাত থেকে এ কর্মবিরতি পালন করতে শুরু করেছেনৌযান শ্রমিকরা। এদিকে নৌযান শ্রমিকদের চলমান কর্মবিরতির ফলে মোংলা বন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।

পশুর চ্যানেলে অবস্থানরত জাহাজগুলো থেকে কোন পণ্য বোঝাই খালাস কাজ হচ্ছে না। তবে বন্দর জেটি ও গ্যাস ফ্যাক্টরীতে সামান্য কাজ হচ্ছে। মোংলা বন্দরে গতকাল পর্যন্ত পন্য বোঝাই ১৪টি বানিজ্যিক জাহাজ অবস্থান করেছিল।

নৌযান শ্রমিকরা জানান, মোংলা বন্দরের পশুর চ্যানেল ও মোংলা খাড়িতে এ মুহুর্তে প্রায় ৩থেকে ৪শ’ লাইটারেজ জাহাজ অবস্থান করে কর্মবিরতি পালন করছে। ভোর রাত থেকেই জাহাজের পাশ থেকে সব লাইটারেজ জাহাজ সরিয়ে এনে পশুর নদীতে নঙ্গর করে রাখা হয়েছে।

এ সব কার্গো জাহার ও লাইটারেজ জাহাজের কর্মচারীরা এখন অলস সময় অতিবাহিত করছে। বাংলাদেশ-ভারত নৌ প্রটোকলভ্থক্ত আন্তর্জাতিক রুটসহ দেশের সব রুটে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে। মালিক ও সরকার নৌ শ্রমিকদের দাবি মেনে নেয়া না পর্যন্ত এ কর্মবিরতি লাগাতার চলবে বলে জানিয়েছেন নৌযান শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

এদিকে নৌযান শ্রমিকদের এ কর্মবিরতরি ফলে বন্দর ব্যবহারকারীসহ শিপিং ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীনে পরতেশুরু করেছেন। কর্মবিরতি শুরুর আগ থেকেই বন্দরে অবস্থানরত বিদেশী বাণিজ্যিক জাহাজের সাথে যে সকল নৌযান অবস্থান করছিল সেগুলোতে সোমবার দুপুর পর্যন্ত স্বল্প পরিসরে পণ্য খালাসের কাজ চলেছে। তবে কিছু কিছু জাহাজের সাথে কোন নৌযান অবস্থান না থাকায় সে সকল জাহাজের পণ্য ওঠা-নামার কাজ বন্ধ রয়েছে।

মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের হারবার মাষ্টার কমান্ডার ফখর উদ্দিন বলেন, নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতির প্রভাব ইতিমধ্যে পড়তে শুরু করেছে মোংরা বন্দরে। তবে বন্দর জেটি ও কন্টেইনার ইয়ার্ডে চলছে অভ্যন্তীরন কার্যক্রম।

তিনি আরো বলেন, বন্দরে এর প্রভাব এখনও পুরোপুরী বোঝা যাচ্ছেনা তবে নৌযান শ্রমিকদের লাগাতার কর্ম বিরতী চললে বড় ধরনের সংকটের মুখে পরবে মোংরা বন্দরসহ এর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যাবসায়ীরা বলে জানায় তিনি।

বন্দরের হারবার বিভাগ জানায়, পশুর চ্যানেল ও বহিঃনোঙ্গরে সোমবার বিকেলে ১৫টি বানিজ্যিক জাহাজ পন্য খালাসের অপেক্ষায় অবস্থান করছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত এখান থেকে ৫টি জাহাজ বন্দর ত্যাগ করেছে এবং নতুন করে আরো ৩টি বানিজ্যিক জাহাজ পন্য বোঝাই করে মোংলা বন্দরে খালাসের জন্য নোঙ্গর করেছে।

বাংলাদেশ লাইটারেজ শ্রমিক ইউনিয়নের মোংলা শাখার সহ-সভাপতি মাইনুল হোসেনর মিন্টু ও সাধারণ সম্পাদক মামুন হাওরাদার বাচ্চু জানান, নৌযান শ্রমিকদের সাথে সরকার ও মালিক পক্ষ নানা ধরনের বৈষম্যমুলক আচরন করছে। এর আগে শ্রমিকরা তাদের দাবি আদায়ে কর্মবিরতি পালন করলেও সরকার ও মালিক পক্ষ দাবি মেনে নেয়ার আশ্বাস দীর্ঘদিনেও বাস্তবায়ন না করায় নৌযান শ্রমিকরা ফের বাধ্য হয়ে লাগাতার কর্মবিরতি পালন শুরু করেছে।

তবে যতদিন পর্যন্ত নৌশ্রমিকদের দাবী মানা না হবে, এবারের কর্ম বিরতী লাগাতার চলবে। ইতি পুর্বে মালিক পক্ষ নৌ-শ্রকিদের নিয়ে টালবাহানা করেছে কিন্ত এবার নৌ-শ্রমিকরা হয় চাকরী করবে না হয় মালিক পক্ষের কাছে তাদের নৌযান বুঝিয়ে দিয়ে চলে জাবে বলেও জানায় লাইটার শ্রমিক ইউনিয়নের এ নেতা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫১ বার

[hupso]
সর্বশেষ খবর
বিশেষ প্রতিনিধি।।যশোর সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে উপ-নির্বাচনে নৌকার প্রার্থী…