শিরোনামঃ

» পল্লবীতে সন্তানের সামনে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা।। মাস্টারমাইন্ডসহ আটক-২

প্রকাশিত: ২০. মে. ২০২১ | বৃহস্পতিবার

বেত্রাবতী ডেস্ক।।রাজধানীর পল্লবীতে চাঞ্চল্যকর সাহিনুদ্দিন হত্যা মামলায় আরো দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ।

গ্রেফতাররা হলেন- মো. সুমন বেপারী (৩৩) ও মো. রকি তালুকদার (২৫)। এদের মধ্যে সুমন বেপারী হত্যার মূল পরিকল্পনাকারী বা মাস্টারমাইন্ড।

বৃহস্পতিবার ডিএমপির মিডয়া উইংয়ের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার ইফতেখায়রুল ইসলাম ডেইলি বাংলাদেশকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, বুধবার দিবাগত রাতে রাজধানীর পল্লবী ও রায়েরবাগ এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা মিরপুর জোনাল টিম।

ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আহসান খান জানান, মামলাটির তদন্ত শুরু করে গোয়েন্দা মিরপুর জোনাল টিম। তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় যাত্রাবাড়ীর রায়েরবাগ এলাকা থেকে হত্যার পরিকল্পনা ও নেতৃত্বদানকারী সুমনকে গ্রেফতার করা হয়।

সুমনের দেওয়া তথ্য মতে, পল্লবী থানার স্কুল ক্যাম্প কালাপানি এলাকা থেকে অপর অভিযুক্ত রকিকে গ্রেফতার করা হয়।এদিকে সাহিনুদ্দিন হত্যার ঘটনায় সাবেক সংসদ সদস্য এম এ আউয়ালকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাব। বৃহস্পতিবার সকালে র‍্যাব সদর দফতর থেকে পাঠানো এক ক্ষুদে বার্তায় এতথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এম এ আউয়াল লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি ও ইসলামী গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান, তরিকত ফেডারেশনের সাবেক মহাসচিব।বিষয়টি নিশ্চিত করে র‌্যাব সদর দফতরের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন জানান, র‍্যাবের অভিযানে ভৈরব থেকে এম এ আউয়ালকে গ্রেফতার করা হয়।

তিনি রাজধানীর পল্লবীতে সন্তানের সামনে বাবাকে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও হত্যা মামলার ১ নং আসামি।

উল্লেখ্য, গত ১৬ মে বিকেল ৪টায় সন্ত্রাসীরা জায়গা-জমির বিরোধের বিষয়ে মীমাংসার কথা বলে সাহিনুদ্দিনকে সেকশনের ডি-ব্লকের একটি বাড়ির সামনে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে হত্যা করে।

প্রকাশ্য দিবালোকে রোমহর্ষক এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভিকটিমের মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ১৭ মে পল্লবী থানায় হত্যা মামলা করা হয়।মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ১৬ মে বিকেল ৪টার দিকে সুমন ও টিটু নামের দুই যুবক শাহীন উদ্দিনকে জমির বিরোধ মেটানো হবে জানিয়ে ফোন করে ডেকে নেন।

শাহীন উদ্দিন মোটরসাইকেলে পল্লবীর ডি-ব্লকের ৩১ নম্বর সড়কের ৪০ নম্বর বাসার সামনে গেলে সুমন ও টিটুসহ ১৪-১৫ জন মিলে তাকে টেনে-হিঁচড়ে ওই বাড়ির গ্যারেজে নিয়ে যায়।

এ সময় শাহীন উদ্দিনের ছয় বছরের ছেলে মাশরাফি গেটের বাইরে ছিল।

গ্যারেজে ঢুকিয়ে শাহীনকে চাপাতি, চায়নিজ কুড়াল, রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে তারা। এরপর তাকে ওই গ্যারেজ থেকে বের করে ৩৬ নম্বর বাড়ির সামনে আবার কুপিয়ে ফেলে রেখে চলে যায়।

ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।নিহতের মায়ের অভিযোগ, পল্লবীর সেকশন-১২ বুড়িরটেকের আলীনগর আবাসিক এলাকার হ্যাভেলি প্রোপার্টিজ ডেভেলপার লিমিটেডের এমডি এবং লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এম এ আউয়ালের সঙ্গে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ভাড়া করা স্থানীয় সন্ত্রাসীরা শাহীন উদ্দিনকে হত্যা করেছে।

আনুমানিক পাঁচ কোটি টাকা মূল্যের ১০ একর জমি জবরদখলে বাধা দেয়ায় তাকে খুন করা হয়। নিহত শাহীন উদ্দিনের বাসা পল্লবীর ডি-ব্লকে।মামলায় প্রধান আসামি করা হয় লক্ষ্মীপুর-১ আসনের সাবেক এমপি এম এ আউয়ালকে। অন্য আসামিরা হলেন- সুমন, মো. আবু তাহের, মুরাদ, মানিক, মনির, শফিক, টিটু, কামরুল, কিবরিয়া, দিপু, আবদুর রাজ্জাক, মরন আলী, লিটন, আবুল, বাইট্যা বাবু, বড় শফিক, কালু ওরফে কালা বাবু, নাটা সুমন ও ইয়াবা বাবু। আসামিরা সবাই পল্লবী থানা এলাকার বাসিন্দা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১১০ বার

[hupso]