শিরোনামঃ

» ‘প্রশংসায় ভাসছে যশোর জেলা পুলিশ”

প্রকাশিত: ১৫. জানুয়ারি. ২০২১ | শুক্রবার

শাহরিয়ার হুসাইন।।গত বছরে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছে যশোর জেলা পুলিশের সকল বিভাগ।

যশোর জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেনের নির্দেশনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশের সকল বিভাগ তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে এবং অক্লান্ত পরিশ্রম করে যশোর জেলার বিভিন্ন থানায় অভিযান পরিচালিত করে ব্যাপক সাফল্য দেখিয়েছেন।

বহু কুলু-লেস মামলার তদন্ত করে অস্ত্র, গুলি উদ্ধার, দূর্ধর্ষ সন্ত্রাসী, ও চরমপন্থি আটক, চোর সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি হওয়া মালামাল উদ্ধারসহ আসামি আটক, প্রতারকচক্র আটক, বহু মাদক উদ্ধারসহ সকল তৎপরতায় সাফল্য দেখিয়েছে তারা।

সুত্রমতে, জেলার ৯টি থানা এলাকার বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চলাকালে মোট ১ হাজার ৪শ’ ৭৩ জন আসামি আটক ও মামলা হয়েছে ১হাজার ১শ’৩৪টি এবং ৮ কোটি ৯০ লাখ ১৪ হাজার ৭০ টাকা মুল্যের বিভিন্ন মালামাল জব্দ করে সরকারি কোষাগারে জমা করা হয়েছে।

প্রতিটি মামলার আসামিকে আটকের পর আদালতে পাঠানো হয়েছে এবং আদালত তাদের জেল হাজতে প্রেরন করেছেন।

যশোর জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি)  তৌহিদুল ইসলাম বলেন, গত এক বছরে (১জানুয়ারী থেকে ৩১ ডিসেম্বর ২০২০পর্যন্ত) জেলা পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন নিজে তদারকি করে জেলার ৯টি থানা এলাকায় ১হাজার ১শ’৩৪টি অভিযান পরিচালনা করেছেন।

এরমধ্যে কোতয়ালী থানায় ২৩৫টি, চৌগাছা থানায় ১২৭টি, ঝিকরগাছায় ১০২টি, শার্শায় ২৪১টি, বেনাপোল পোর্ট থানায় ২৬৬টি, মনিরামপুরে ৫৯টি, কেশবপুরে ৪৬টি, অভয়নগরে ৮৩টি, বাঘাপাড়া থানায় ২৬টি এবং ডিবি ২৬টি।

অভিযানে উদ্ধার হয়েছে, পিস্তল ১৪টি, সার্টারগান ১৪টি, পাইপগান ৭টি, গুলি ১৩০টি, ফেনসিডিল ২১ হাজার ৪৯১ বোতল, ৪৬১.৫৮০ কেজী গাজা, ইয়াবা ট্যাবলেট ৫৬ হাজার ৭৩৫ পিস, হেরোইন ২২২ গ্রাম ৫৯৮, দেশি বাংলা মদ ৫৯৮ লিটার ও বাড়তি ১৪৭ বোতল।

উল্ল্যেখ্য, গত বছরে যশোর জেলা পুলিশ প্রধান (এসপি)র নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশ যশোরে চাঞ্চল্যকর বেশ কয়টি ক্লু-লেস মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে। এরমধ্যে গত জুলাই মাসে মণিরামপুরের ইজিবাইক চালক রফিক হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করে আসামি আটক।

একজন অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্যের কাছ থেকে ডলার প্রতারকচক্র ১০ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ঐ প্রতারকচক্রের তিন সদস্যকে আটক করে ডিবি। আগস্ট মাসে মণিরামপুর ও ঝিকরগাছায় দুটি ডাকাতির মামলা তদন্ত করে লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার ও ডাকাত দলের কয়েক সদস্যকে আটক করা হয়। ওই মাসে অভয়নগরের সংঘবদ্ধ ইজিবাইক চোর সিন্ডিকেটের কয়েক সদস্য আটক হয়।

গত বছরের সবথেকে আলোচিত ঘটনা সেপ্টেম্বর মাসে থানার পাশেই ইউসিবিএল ব্যাংকের সামনে থেকে ছুরিকাঘাত করে এক ব্যবসায়ীর ১৭ লাখ টাকা ছিনতাই। চাঞ্চল্যকর ওই মামলার ৭ আসামি কে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আটক করে ডিবি পুলিশ।

অক্টোবর মাসে যশোর সদরের জয়ন্তা গ্রামের দুই যুবককে মণিরামপুর উপজেলার উত্তর পাড়ায় গলাকেটে হত্যা করা হয়। ওই ঘটনার তদন্ত করে একমাত্র আসামিকে আটক ও ছুরি উদ্ধার করা হয়। ওই মাসে নির্মাণ শ্রমিক মান্নাত ও কাঠ ব্যবসায়ী গোলাম মোস্তফা হত্যা মামলার আসামিকে আটক।

নভেম্বর মাসে ইজিবাইক চোরচক্রের ৮ সদস্যকে বিভিন্ন জেলা থেকে আটক এবং বেশকিছু চোরাই ইজিবাইক উদ্ধার।

এরপর গত ডিসেম্বর মাসে অভয়নগরের আল মামুন আকুঞ্জি হত্যা মামলার আসামি ও চরমপন্থি দলের সদস্য কে আটক করেছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৩৩ বার

[hupso]