শিরোনামঃ

» বহিঃবিশ্ব সুন্দরবন রক্ষায় সহায়তা করছে আর বন সংলগ্ন এলাকার মানুষ তা ধ্বংস করছে–উপমন্ত্রী 

প্রকাশিত: ২১. জানুয়ারি. ২০২১ | বৃহস্পতিবার

মাসুদ রানা মোংলা।।পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী বেগম হাবিবুন নাহার বলেছেন, বিশ্বের সকল দেশ সুন্দরবন সম্পর্কে জানে ও ভালবাসে, তারা সুন্দরবন সুরক্ষায় সহায়তা করছে। সব সময় সুন্দরবন রক্ষায় চিন্তিত তারা। কিন্ত আমার দেশের মানুষ যারা যুগ যুগ ধরে এ বনের সুফল ভোগ করে আসছে, তারা সুন্দরবন রক্ষার কথা চিন্তা করছেন না, উল্টো ধ্বংস করে এবং বন উজাড় করছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে চাদঁপাই ফরেষ্ট রেঞ্জ অফিসের মাঠ চত্ত্বরে সুন্দরবন ব্যাবস্থাপনা সহায়তা প্রকল্প (এস এম পি-১১) এর অধিনে কভিট-১৯ মোকাবেলায় বনজীবি পরিবারের মধ্যে জরুরী পন্য সহায়তা ও নগদ অর্থ প্রদান উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরো বলেন, সুন্দরবনে যে সম্পদ রয়েছে, সেগুলো যদি সঠিক ভাবে লালন-পালন করে ব্যাবহার করা হয় তবে বংশ পরামপরায় তা ভোগ করতে পারে কিন্ত কিছু অসাধু লোক আছে সেটি না করে বনকে ধ্বংস করার পায়তারা করছে। বনের বনজ সম্পদ, মৎস্য সম্পদ, বন্যপ্রানী ও জীব বৈচিত্র সব কিছুই এখন ধ্বংসের দারপ্রান্তে। বনের নদী ও খালে বিষ দিয়ে মাছ শিকার, হরিন ও বাঘ শিকারসহ সুন্দরবনের বড় বড় স্থায়ী সম্পদ এক শ্রেনীর মানুষ রুপী দুরবর্তী দস্যুতা করে তা শেষ করে দিচ্ছে। সুন্দরবনরে উপর নির্ভরশীল মানুষ এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা থেকে দুপুর পর্যন্ত চলে এ অনুষ্ঠান।

খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মইনুল হোসেন খাঁন এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন, ডব্লু ই এস এর কান্টি রিপ্রেজেন্টটিভ ডাঃ জাহাঙ্গির আলম, জি আই জেড এর টেকনিক্যাল এ্যাডভাইজার (প্রযুক্তিবিদ উপদেষ্টা) পঞ্চানন কুমার ঢালী, পুর্ব সুন্দরবনের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা বেলায়েত হোসেন, মোংলা উপজেলা চেয়ারম্যান আবু তাহের হাওলাদার, চাদঁপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা  এনামুল হক ও সি এম সির সদস্য ওলিয়ার রহমান।

এসময় পুর্ব সুন্দরবনের বনরক্ষী ও প্রাকৃকিত সম্পদ রক্ষায় যারা কাজ করে তার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, উপজেলা যুবলীগের যুগ্ন সম্পাদক সবুজ হাওলাদার, স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন রিপন, সিএমসি’র সাবেক সভাপতি জহিরুল গাজী, সাবেক ইউপি সদস্য আঃ মালেক, চাদঁপাই ষ্টেশন কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান, ঢাংমারী ষ্টেশন কর্মকর্তা  আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন করমজল বন্যপ্রানী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির।
জি আই জেড এবং সি এন আর এস এর সহায়তায় চাদঁপাই ও শরনখোলা রেঞ্জের ৭ হাজার বনজীবি পরিবারকে নগদ এক হাজার টাকা ও ২০ কেজি চাল, ৪ কেজি ডাল, দুই লিটার তেল, দুই কেজি লবন, দুইটি সাবান, চারটি মাক্র ও ৪টি স্যানিটারী ন্যাপকিন প্রদান করা হবে।

বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হওয়া এসকল সহায়তা ২৪টি কেন্দ্রের মাধ্যমে দেয়া হবে আগামী ২৮ জানুয়ারী পর্যন্ত।

এছাড়া চাদঁপাই রেঞ্জের ৪০ জন বনরক্ষী (স্মাট টিমের সদস্য) সুন্দরবনের সম্পদ রক্ষায় দিনরাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে যারা দায়ীত্ব সহকারে সফলতার সাথে কাজ করেছে তাদেরকে পুরুস্কৃত করা হয়েছে। পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রনালয়ের উপ-মন্ত্রী নিজ হাতে তাদের এ পুরুস্কার সামগ্রী তুলে দেন।

এছাড়াও বনরক্ষীদের জন্য করোনা সুরক্ষায় বিভিন্ন সরঞ্জামাদী প্রদান করা হবে বলেও জানায় বন সংরক্ষক মইনুল হোসেন খানঁ।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫২ বার

[hupso]