২০২০-২১-এ ৫ লাখ ৬০ হাজার টনের বেশি উৎপাদন হবে বলে আশা করছি। মা ইলিশ রক্ষায় আরও সচেতন হলে এর চেয়েও বেশি উৎপাদন সম্ভব।

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান ২০২০-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বুধবার এ উপাত্ত উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ।

মন্ত্রীর সঙ্গে আরও ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব রওনক মাহমুদ, অতিরিক্ত সচিব শাহ ইমদাদুল হক, শ্যামল চন্দ্র কর্মকার, সুবোল বোস মনি ও তৌফিকুল আরিফ, মৎস্য অধি দফতরের মহাপরিচালক কাজী শামস আফরোজ, নৌপুলিশের ডিআইজি মো. আতিকুল ইসলাম, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক মাজেদুর রহমান খান, পুলিশ সুপার  মাহমুদুর রহমান, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা আসাদুল বাকী, মতলব উত্তর উপজেলা চেয়ারম্যান এমএ কুদ্দুস প্রমুখ।

মা ইলিশ রক্ষায় ১৪ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ইলিশ আহরণ, পরিবহন, মজুদ, বাজারজাত করণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

এ সময়ে এসব কর্মকাণ্ড থেকে সবাইকে বিরত রাখতে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।

অভিযানে মন্ত্রী বলেন, ‘মৎস্য খাতে একটা বিপ্লবের সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সব মানুষের মাছের চাহিদা আমরা পূরণ করতে পেরেছি।

ইলিশের উৎপাদন এবার অতীতের সব রেকর্ড ভেঙেছে, বড় ইলিশ আমরা পেয়েছি। এ ক্ষেত্রে মৎস্যজীবী, জেলে, বিপণনকারী-সবার ভূমিকা রয়েছে।

তিনি বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণের সময় মৎস্য জীবীরা যাতে কষ্টে না থাকেন, সে জন্য এবার অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি ভিজিএফ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। আগামী বছর আরও বেশি বরাদ্দ করা হবে।

মৎস্যজীবীদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, মা ইলিশ সংরক্ষণে আমাদের সহায়তা করুন।

ইলিশের উৎপাদন এমন জায়গায় নিয়ে যাব, যাতে প্রতিটি ঘরে সবার পাতে ইলিশ পৌঁছার পরও অতিরিক্ত থাকে। তখন ইলিশ আমরা রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে শেখ হাসিনার উন্নয়নের অগ্রযাত্রা আরও ত্বরান্বিত করব।

মন্ত্রী আরও যোগ করেন, আমরা এবার কঠোর। কেউ যদি গভীর রাতেও মা মাছ ধরতে আসে, তাদের আটকানোর জন্য নৌ-পুলিশ, কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনীর অভিযান চলমান থাকবে।

এমনকি আকাশপথে নজরদারির জন্য বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার থাকবে। যারা মা ইলিশ সংরক্ষণে সহায়তা করবেন না, তাদের ঠিকানা হবে জেলখানা। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে তাদের সাজা দেয়া হবে।

আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সংস্থাগুলো বলছে, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোয় প্রাকৃতিক উৎসের মাছের মধ্যে সবচেয়ে মূল্যবান হচ্ছে ইলিশ। শুধু আর্থিক দিক থেকে নয়, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, ধর্মীয় ও জীবনযাত্রার দিক থেকেও এর বিশেষ মূল্য রয়েছে।

গত বছর দেশে ধরা পড়া ইলিশের পরিমাণ, আয়তন ও ওজন বেড়েছে। ফলে এক সময় যে ইলিশ হয়ে গিয়েছিল উচ্চমধ্যবিত্ত ও ধনীদের আহার, তা মধ্যবিত্তের নাগালে এসেছে।