শিরোনামঃ

» বেনাপোল কাস্টমসে ১১ মাসে ৩৭৫৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়

প্রকাশিত: ০৩. জুন. ২০২১ | বৃহস্পতিবার

বিশেষ প্রতিনিধি।।যশোরের বেনাপোল কাস্টমস হাউসে চলতি অর্থ বছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে এক হাজার ২৮৫ কোটি টাকার রাজস্ব বেশি আদায় হয়েছে।

২০২০-২০২১ অর্থবছরে এই সময়ে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৭৫৬ কোটি টাকা। গত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২ হাজার ৪৩১ কোটি টাকা।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, গত দেড় বছর করোনার কারণে উচ্চ শুল্কহারের পণ্য আমদানি কমে গেছে। তারপরও ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ এই স্থলবন্দর দিয়ে সরকারের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়।

কাস্টমস হাউস সূত্র জানা যায়, গত ২০১৯-২০২০ অর্থবছরে প্রথম ১১ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ২৪৩১.৭৩ কোটি টাকা।

২০২০-২০২১ অর্থবছরে প্রথম ১১ মাসে একই সময়ে রাজস্ব আদায় হয় ৩৭৫৬.৯১ কোটি টাকা। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১২৮৫.৪৮ কোটি টাকা বেশি।

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, গত দেড় বছর করোনার কারণে উচ্চ শুল্কহারের পণ্য আমদানি কমে গেছে। তারপরও ১১ মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে।

দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল। এ বন্দর দিয়ে সরকারের সবচেয়ে বেশি রাজস্ব আদায় হয়। দেশের সিংহভাগ

শিল্পকলকারখানা ও গার্মেন্টস ইন্ডাস্ট্রির শতকরা ৮০ শতাংশ কাঁচামাল আমদানি হয় এ বন্দর দিয়ে। রপ্তানি হয় অর্ধেক পরিমাণ। বেনাপোল বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া পণ্যের মধ্যে রয়েছে শিল্প-কারখানায় ব্যবহৃত কাঁচামাল, মেশিনারিজ, তৈরি পোশাকের কাঁচামাল, কেমিক্যাল, মেশিনারি যন্ত্রাংশ, টায়ার, মোটর গাড়ি, বাস ও ট্রাকের চেসিস, ফল, পেঁয়াজ, মাছ, চাল, সুতা ও বিভিন্ন ধরনের খাদ্যদ্রব্য। আর রপ্তানি পণ্যের মধ্যে পাট ও পাটজাত পণ্য, মাছ, সিরামিক, মেলামাইন, তৈরি পোশাক ও বসুন্ধরা টিস্যু, মশারি, লুঙ্গি, মাছ উল্লেখযোগ্য।

কাস্টমস হাউসের সূত্র মতে, গত ৫ বছরে ভারত থেকে আমদানি হয়েছে ৮৮ লাখ ৮৯ হাজার ৮১১ মেট্রিক টন পণ্য। বিপরীতে রপ্তানি হয়েছে ১৮ লাখ ৭২ হাজার ২১০ মেট্রিক টন পণ্য।

ভারতের সঙ্গে বেনাপোল বন্দর দিয়ে ৪০ হাজার কোটি টাকার বাণিজ্য সম্পন্ন হয়ে থাকে। রপ্তানি হয় ৮ হাজার কোটি টাকার পণ্য।

বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ীরা বলছেন, করোনা মহামারির কারণে এবার রাজস্ব আদায়ে প্রভাব পড়তে পারে।

বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা বলেন, করোনার কারণে উচ্চ শুল্ক হারের পণ্য আমদানি কমে গেছে।

পাশাপাশি চাহিদা অনুপাতে বেনাপোল বন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন হলে দ্বিগুণ রাজস্ব আদায় সম্ভব হতো।

ইন্দো-বাংলা চেম্বার অফ কমার্স সাব কমিটির পরিচালক মতিয়ার রহমান জানান, দেশের স্থলপথে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ৮০ শতাংশ পণ্য আমদানি হয় বেনাপোল বন্দর দিয়ে। তবে কাঙ্ক্ষিত অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় অনেকে এ পথে বাণিজ্যে আগ্রহ হারাচ্ছেন।

বন্দরের অবকাঠামোর উন্নয়ন হলে বেনাপোল দিয়ে সরকারের রাজস্ব আদায় দ্বিগুণ হবে।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক আব্দুল জলিল বলেন, বন্দরের জায়গা অধিগ্রহণের পাশাপাশি বন্দরে নির্মাণ করা হয়েছে কয়েকটি আধুনিক পণ্যাগার। সিসি ক্যামেরার কাজও চলছে। বন্দরের নিরাপত্তা বাড়াতে উঁচু প্রাচীরও নির্মাণ করা হচ্ছে।

বেনাপোল কাস্টমসের কমিশনার মো. আজিজুর রহমান বলেন, দেশে করোনার প্রভাব চলছে দেড় বছরের বেশি সময় ধরে।

চলতি অর্থ বছরে আমদানি বাড়লেও উচ্চ শুল্কহারের পণ্য কম এসেছে। আমরা ব্যবসায়ীদের বৈধ সুবিধা বাড়ানোর পক্ষে। এরই মধ্যে বন্দর কর্তৃপকে অবকাঠামো সুবিধা বৃদ্ধির জন্য চিঠি দিয়েছি।

বন্দরের সক্ষমতা বাড়লে বেনাপোল বন্দর দিয়ে পণ্য আমদানি বেড়ে রাজস্ব আদায় দ্বিগুণ করা সম্ভব। তিনি আরো বলেন, করোনাকালীন বেনাপোল কাস্টম হাউসে দায়িত্বরত কর্মকর্তারা রাজস্ব বৃদ্ধির জন্য নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৮ বার

[hupso]