শিরোনামঃ

» মনিরামপুরে চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন

প্রকাশিত: ২৩. অক্টোবর. ২০২০ | শুক্রবার

বিশেষ প্রতিনিধি।।মণিরামপুরের ঢাকুরিয়া উত্তরপাড়ায় ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায়, সংঘটিত চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যাকাণ্ডর ক্লু’ উদঘাটিত হয়েছে।

এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে মানিক নামে এক যুবককে আটক করার পর পুলিশ জানতে পারে, ঐদিন নিহত বাদল ও আহাদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধের জের ধরেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে।

মুলত বাদল শায়েস্তা করতে চেয়েছিল আহাদকে, কিন্তু আহাদ পাল্টা আক্রমণ করায় বাদলও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।

বাদলের নারী আসক্তির বিষয়ে আহাদ প্রতিবাদ করায়, বিরোধ বাঁধে তাদের মধ্যে। এরপর বাদল, আহাদকে শায়েস্তা করার জন্য মানিকের সাথে পরিকল্পনা করে। সেই পরিকল্পনার অংশ হিসাবেই ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় এক মোটরসাইকেলে যাওয়ার সময়, পিছন থেকে বাদল আহাদের গলায় ছুরিকাঘাত করে। মোটরসাইকেল চালক আটক মানিক।

বৃহঃস্পতিবার দুপুরে যশোর পুলিশ সুপার
কার্যালয়ে এক ব্রিফিংয়ে চাঞ্চল্যকর এ হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে এসব তথ্য জানান, যশোর পুলিশ সুপার আশরাফ হোসেন।

পুলিশ সুপার বলেন, চাঞ্চল্যকর এই জোড়া হত্যাকাণ্ড ঘটে ২ বন্ধু বাদল ও আহাদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ বিরোধের জের ধরে। বিরোধ টি সৃষ্টি হয় ঐ দিন নিহত ২জনের, একজন বাদলের নারী আসক্তি নিয়ে।বাদল একাধিক মেয়ের সাথে সম্পর্ক রাখতেন। এ নিয়ে ২ বন্ধু বাদল ও আহাদের মধ্যে বিরোধ বাঁধে।

আহাদ এ ব্যাপারে সংশোধন হওয়ার জন্য বাদলকে অনেকবার তাগিদও দেয়। তাঁর চারিত্রিক এ বিষয়টি এক পর্যায়ে অনেকে যেনেযান। এতে আহাদের উপর ক্ষুব্ধ হন বাদল। এক পর্যায়ে তিনি আহাদকে সায়েস্তা করার পরিকল্পনা করেন।

এ নিয়ে তিনি আলোচনা করেন, মানিক নামে তাদের আরেক বন্ধুর সাথে।১৫ অক্টোবর সন্ধ্যার পরে বাদল ও আহাদ বসুন্দিয়া জয়ন্তা বাজারে ক্যারামবোর্ড খোলা করছিলে, এক পর্যায়ে তারা দুজন ও মানিক এক মোটরসাইকেলে রওয়ানা হয়।

মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন মানিক। পিছনে ছিলেন বাদল। তাদের দুজনের মাঝখানে বসেছিলেন আহাদ। তারা ঘটনাস্থলে পৌছালে বাদল পিছন থেকে আহাদের গলায় ছুরিকাঘাত করে। আহাদ বাঁচার জন্য চেষ্টা করায় ৩ জনই মোটর সাইকেল থেকে পড়ে যান।

এ সময় আহাদ, বাদলের কাছ থেকে, ছুরি কেড়ে নিয়ে বাদলের উপর পাল্টা আক্রমণ করে।

এ অবস্থায় গাছের আড়ালে অবস্থান নেয় মানিক। পাল্টা আক্রমণে বাদল নিজে তেজ হয়ে পড়লে মানিক এসে আহাদকে ছুরিকাঘাত করতে থাকে। তখন আহাদ দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে, পাশের একটি বাড়ির সামনে গিয়ে পড়ে যায়। তবে সেও মারা যায়।

অবস্থা বুঝতে পেরে মানিক ছুরি ও বাদলের মোবাইল ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায়। সর্বশেষ তাকে গ্রেফতার করা হলে জিজ্ঞাসাবাদে এই চাঞ্চল্যকর জোড়া হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে এসব তথ্য জানায়।

উল্লেখ্য, বাদল গাজী (২২), যশোর সদর উপজেলার বসুন্দিয়া জয়ন্তা গ্রামের প্রবাসী আক্তার গাজীর ছেলে ও আহাদ মোল্যা (২২), একই গ্রামের নিকমল মোল্যার ছেলে। তারা পরস্পর বন্ধু। এদের মধ্যে বাদল রূপদিয়া বাজারে ইন্টারনেট সংযোগের কাজ করতেন। আহাদ পেশায় ছিলেন কৃষক।

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৯ বার

[hupso]
সর্বশেষ খবর
বেত্রাবতী ডেস্ক।।শার্শার বাগআঁচড়ায় ৯৫ বোতল ফেন্সিডিল ও একটি পালসার মোটর সাইকেল…