শিরোনামঃ

» মহান আল্লাহপাক ঘোর বিপদে পড়া বান্দাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নেননা

প্রকাশিত: ১২. জানুয়ারি. ২০২০ | রবিবার

আল্লাহতায়ালা এমনই এক সত্তা যার কাছে কোনো কিছু প্রার্থনা করে কেউ বিফল হয় না। মানুষের যা কিছু প্রয়োজন, তা আল্লাহর নিকটই প্রার্থনা করা প্রয়োজন। পবিত্র কোরআনে এ প্রসঙ্গে ইরশাদ হয়েছে, ‘যখন কোনো প্রার্থনাকারী আমা’র কাছে প্রার্থনা করে তখন আমি তার প্রার্থনা কবুল করি।’ –সূ‍রা আল বাকারা: ১৩৬

আল্লাহপাকের কোনো শরিক নেই, তিনি কাউকে জন্ম দেননি, কারও থেকে জন্ম নেননি। তার সমকক্ষ কেউ নেই, তিনি চিরঞ্জীব এবং চিরস্থায়ী। এই বিশাল পৃথিবী, চন্দ্র, সূর্য, নক্ষত্র, গ্রহ, উপগ্রহ, বৃক্ষলতা, মানব-দানব, পশু-পাখি, সাগর-পাহাড় সবকিছু তিনি সৃষ্টি করেছেন। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিনিই একমাত্র আল্লাহ। তিনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। তিনি দৃশ্য-অদৃশ্য এবং উপস্থিত-অনুপস্থিত সব বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। -সূরা হাশর: ২২
অন্যত্র বলা হয়েছে, তিনি সেই আল্লাহ যিনি আসমান ও জমিন এবং এর মধ্যবর্তী স্থানের সব কিছুর সৃষ্টিকারী। তিনি আলিমুল গায়েব। তিনি সব জায়গায় বিরাজমান। তিনি প্রকাশ্য-অ’প্রকাশ্য সব কিছুই দেখেন ও খবর রাখেন। এ বিষয়ে পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, আল্লাহ সকল দৃশ্য-অদৃশ্য ও উপস্থিত অনুপস্থিত সকল বিষয়ে পুরোপুরি জ্ঞাত। মহান আল্লাহই সব প্রা’ণীর রিজিকদাতা। কোনো সৃষ্টিকেই তিনি রিজিক থেকে বঞ্চিত করেন না।
সকল প্রা’ণী সৃষ্টির পূর্বেই তিনি তাদের রিজিকের ব্যবস্থা করে রেখেছেন। সব প্রা’ণীকেই তিনি রিজিক দেন এবং প্রতিপালন করেন। মহান আল্লাহতায়ালা ক্ষমাশীল। অন্যায় বা ভুল করার তার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তিনি ক্ষমা করে দেন। কাউকে তিনি ফিরিয়ে দেন না। পবিত্র কোরআন মজিদে বলা হয়েছে, ‘আল্লাহ গাফুরুর রাহিম। আল্লাহ পরম ক্ষমাশীল।’ –সূরা আলে ইম’রান: ৩১
আল্লাহ বলতে আম’রা শুধু অদ্বিতীয় এক সত্তাকে বুঝি। যাকে দেখা যায় না। কিন্তু বিপদে ডাকলে তিনি সাড়া দেন। ঘোর বিপদে যখন কেউ সাহায্য করার ক্ষমতা রাখে না- তখনও তিনি সাহায্য করেন।
দশম হিজ’রির ৯ জিলহ’জ, শুক্রবার দুপুরের পর হ’জের সময় আরাফা ময়দানে হযরত মুহাম্ম’দ (সা:) লক্ষাধিক সাহাবার সমাবেশে এক ঐতিহাসিক ভাষণ দেন। হাম’দ ও সানার পর তিনি বলেন , ‘হে মানুষ! তোম’রা আমা’র কথা শোনো। এরপর এই স্থানে তোমাদের সঙ্গে আর একত্রিত হতে পারবো কি না, জানি না। হে মানুষ! আল্লাহ বলেন, হে মানব জাতি! তোমাদেরকে আমি একজন পুরুষ ও একজন নারী থেকে সৃষ্টি করেছি এবং তোমাদেরকে সমাজ ও গোত্রে ভাগ করে দিয়েছি যেন তোম’রা পরস্পরের পরিচয় জানতে পারো’।
অ’তএব শুনে রাখো, মানুষে মানুষে কোনো ভেদাভেদ নেই। আরবের ওপর কোনো অনারবের, অনারবের ওপর কোনো আরবের শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তেমনি সাদার ওপর কালোর বা কালোর ওপর সাদার কোনো শ্রেষ্ঠত্ব নেই। তোমাদের মধ্যে সেই ব্যক্তিই আল্লাহর কাছে বেশি সম্মান ও ম’র্যাদার অধিকারী, যে আল্লাহকে ভালোবাসে। হে মানুষ! শুনে রাখো, অন্ধকার যুগের সকল বিষয় ও প্রথা আজ থেকে বিলুপ্ত হলো। জাহিলি যুগের র’ক্তের দাবিও রহিত করা হলো।
হে মানুষ! শুনে রাখো, অ’প’রাধের দায়িত্ব কেবল অ’প’রাধীর ওপরই বর্তায়। পিতা তার পুত্রের জন্য আর পুত্র তার পিতার অ’প’রাধের জন্য দায়ী নয়। হে মানুষ! তোমাদের র’ক্ত, তোমাদের সম্মান, তোমাদের সম্পদ পরস্পরের জন্যে চিরস্থায়ীভাবে হারাম (অর্থাৎ পবিত্র ও নিরাপদ) করা হলো, যেমন আজকের এই দিন, আজকের এই মাস, এই শহরের সকলের জন্যে হারাম।
হে মানুষ! তোম’রা ঈর্ষা ও হিং’সা- বিদ্বেষ থেকে দূরে থাকবে। ঈর্ষা ও হিং’সা মানুষের সকল সৎ গুণকে ধ্বংস করে। হে মানুষ! নারীদের স’ম্পর্কে আমি তোমাদের সর্তক করে দিচ্ছি। তাদের সঙ্গে নিষ্ঠুর আচরণ করো না। তাদের ওপর যেমন তোমাদের অধিকার রয়েছে, তেমনি তোমাদের ওপর তাদেরও অধিকার রয়েছে। সুতরাং তাদের কল্যাণের দিকে সব সময় খেয়াল রেখো।


হে মানুষ! অধীনস্থদের স’ম্পর্কে সতর্ক হও। তোম’রা নিজেরা যা খাবে তাদেরও তা খাওয়াবে। নিজেরা যা পরবে, তাদেরও তা পরাবে। শ্রমিকের শরীরের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করবে। যে মানুষ! বিশ্বা’সী সেই ব্যক্তি যার হাতে ও মুখ থেকে অন্যের সম্মান, ধন ও প্রা’ণ নিরাপদ। সে নিজের জন্যে যা পছন্দ করে অন্যের জন্যেও তা-ই পছন্দ করে। হে মানুষ! বিশ্বা’সীরা পরস্পরের ভাই। সাবধান! তোম’রা একজন আরেকজনকে হ’ত্যা করার মতো কুফরি কাজে লিপ্ত হয়ো না। …

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৮৬ বার

[hupso]
সর্বশেষ খবর
খুলনা জেলা প্রতিনিধি : খুলনায় ‘আল্লাহর দল’ নামক নিষিদ্ধ জঙ্গি…