শিরোনামঃ

» মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মাথায় একে একে নিভে যায় তিনটি প্রাণ,রক্তস্রোত মার্কেটের প্রবেশপথ

প্রকাশিত: ১৩. জুন. ২০২১ | রবিবার

বেত্রাবতী ডেস্ক।।ঘড়িতে তখন ১২টা বেজে ৪৪ মিনিট। মার্কেটে যে যার মতো কেনাকাটা কিংবা আড্ডা দিচ্ছিলেন।

কিন্তু মিনিটের কাঁটা না ঘুরতেই পাল্টে গেল পুরো দৃশ্যপট। মাত্র ৯০ সেকেন্ডের মাথায় একে একে নিভে যায় তিনটি প্রাণ।

রক্তস্রোতে রূপ নেয় মার্কেটের প্রবেশপথ। আর তিনটি জীবন নিতে খরচ করা হয় ১১টি গুলি।

রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে মর্মস্পর্শী এ ঘটনার সাক্ষী হলেন কুষ্টিয়ার মানুষ।

ঘটনাটি ঘটেছে শহরের কাস্টমস মোড় এলাকায় নাজ ম্যানশন মার্কেটের একটি বিকাশের দোকানের সামনে।হত্যাকাণ্ডটি ঘটান এএসআই সৌমেন মিত্র। তিনি খুলনার ফুলতলা থানায় কর্মরত। তার বাড়ি মাগুরা সদর উপজেলার আসবা গ্রামে।

সৌমেনকে ধরে পুলিশে দেন উপস্থিত লোকজন

সৌমেনকে ধরে পুলিশে দেন উপস্থিত লোকজন

নিহতরা হলেন- সৌমেনের সাবেক স্ত্রী আসমা, তার সাত বছরের ছেলে রবিন ও ছেলে বন্ধু শাকিল। তাদের সবার বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার সাওতা গ্রামে। শাকিল একজন বিকাশকর্মী ছিলেন।পরকীয়ার কারণেই তরতাজা এই তিনটি জীবন ঝরেছে বলে ধারণা করছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।

আবার কেউ কেউ ধারণা করছেন- সৌমেনকে ছেড়ে শাকিলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ানোর কারণেই বয়ফ্রেন্ড-সন্তানসহ বলি হলেন আসমা। তবে এখনো হত্যার প্রকৃত কারণ জানা যায়নি।

হত্যার রহস্য উদঘাটনে এরই মধ্যে মাঠে নেমেছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

ঘটনাস্থলে ভিড় জমান স্থানীয়রা

          ঘটনাস্থলে ভিড় জমান স্থানীয়রা

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, নাজ ম্যানশন মার্কেটে বিকাশের দোকানে বিকাশকর্মী ছেলে বন্ধু শাকিলের সঙ্গে দেখা করতে আসেন আসমা।

এ সময় আসমার সঙ্গে তার ছেলে রবিনও ছিল। হঠাৎ সেখানে হাজির হন আসমার সাবেক স্বামী এএসআই সৌমেন। মার্কেটের ভেতরে প্রথমেই শাকিল ও আসমার মাথায় গুলি চালান তিনি।

এ সময় রক্ত দেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে রবিন। কিন্তু তাকেও ছাড়েননি সৌমেন। তেড়ে ধরে তার মাথায়ও গুলি চালান।

এসব দৃশ্য দেখে ইট-পাটকেল ছুড়ে সৌমেনকে থামানোর চেষ্টা করেন উপস্থিত লোকজন। খবর পেয়ে পুলিশও ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

একপর্যায়ে ধরা দেন সৌমেন। পরে স্থানীয়রা তিনজনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনাস্থলে পুলিশ

                    ঘটনাস্থলে পুলিশ

জানা গেছে, সৌমেন কুষ্টিয়ার হালশা ক্যাম্পে থাকা অবস্থায় কুমারখালী উপজেলার সাওতা গ্রামের আসমার সঙ্গে পরিচয় হয়।

এরপর আসমার সঙ্গে তার বিয়ে হয় বলে দাবি পুলিশের। পরে সৌমেন (বর্তমান পোস্টিং) খুলনার ফুলতলা থানায় বদলি হন। ফুলতলায় গেলে তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন আসমা। এরপর বর্তমান ছেলে বন্ধু বিকাশকর্মী শাকিলকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েন তিনি। এতে ক্ষেপে যান সৌমেন। সেই ক্ষোভ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি সাব্বিরুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরই অভিযুক্তকে আটকে করে পুলিশে দিয়েছে স্থানীয়রা। হত্যাকাণ্ডের কারণ জানা যায়নি। তদন্ত চলছে।

এ ব্যাপারে খুলনার এসপি মোহাম্মদ মাহবুব হাসান বলেন, আটক সৌমেন রায় ফুলতলা থানার এএসআই। আজ সকাল থেকে তাকে পাওয়া যাচ্ছিল না।

তিনি ছুটি না নিয়ে আনঅফিশিয়ালি কুষ্টিয়ায় চলে গেছেন। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২০ বার

[hupso]