শিরোনামঃ

» মিথ্যাচার রোধে ইউটিউব-ফেসবুক নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে

প্রকাশিত: ০৩. জুন. ২০২১ | বৃহস্পতিবার

বেত্রাবতী ডেস্ক।‘ইউটিউব, ফেসবুকে এমন অনেক ক্ষেত্রে মিথ্যাচার করা হয়, যেটা ব্যক্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।

এ জন্য সবাই যেন রেজিস্ট্রেশন করে, তেমন আলোচনা হয়েছে। যারা মিথ্যাচার করবে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এগুলো রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আসুক, যাতে আমরা ধরতে পারি। বিষয়টি দেখার জন্য বিটিআরসি চেয়ারম্যানকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া এসবে যারা অ্যাডভার্টাইজমেন্ট দেয়, তারা কিভাবে দেয়, সেটা দেখার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ফেসবুক ও ইউটিউবের অফিস বাংলাদেশে করার জন্য বলা হয়েছে। আমাদের দেশে এত বেশি কাস্টমার যে এখানে অফিস থাকলে সুবিধা হবে। কেউ অন্যায় করলে ধরা যাবে। আইনের অপপ্রয়োগ চাই না।’

গতকাল বুধবার আইন-শৃঙ্খলাসংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে এ কথা বলেন কমিটির প্রধান মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক।

এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্রের কার্যক্রম স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে চালু হওয়ার পর যেকোনো সমস্যা এক মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করার পরিকল্পনা করছে সরকার।

দেশের যেসব এলাকায় রোহিঙ্গারা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে তাদের খুঁজে বের করে ভাসানচরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ভাসানচরে কাউকে যেতে হলে সরকারের অনুমোদন নিয়ে যেতে হবে।

সভা শেষে বিকেল ৩টার দিকে আ ক ম মোজাম্মেল হক সাংবাদিকদের সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্রিফ করেন। তিনি বলেন, যেসব বিদেশি নাগরিকের ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে তাদের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে সভায়। তাদের কেউ বলছে টাকা নেই বলে দেশে যেতে পারছে না।

গোয়েন্দারা তথ্য দিয়েছেন, এদের বেশির ভাগ ক্রাইমের সঙ্গে জড়িত। তাদের সেফ জোনে রেখে টাকা না থাকলে সরকারের তরফ থেকে টিকিট কেটে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

তিনি জানান, দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকায় সভায় সন্তোষ প্রকাশ করা হয়। হেফাজতে ইসলামের নেতাদের ইঙ্গিত করে মন্ত্রী বলেন, যাদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আছে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মন্ত্রী এমপিও যদি অপরাধ করেন, তাহলে আইনের আওতায় আসবেন। বিনা অপরাধে কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেদিকে সতর্ক থাকতে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, ‘প্রায়ই গণমাধ্যমে খবর বের হয়, মাদক নিরাময় কেন্দ্রে অত্যাচার করা হয়।

মোটিভেশনের চেয়ে বেশি অত্যাচার করা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে কতগুলো নিরাময় কেন্দ্র আছে, তারা কিভাবে কী করছে, নিয়মমাফিক হয় কি না, ডাক্তার আছে কি না, পরিবেশ আছে কি না, তা জানতে চেয়েছি।

নতুন নতুন মাদকের বিষয়ে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ১৫টি গ্রুপের কথা বলেছে। এর মধ্যে দুটি গ্রুপকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছে তারা।’

তিনি আরো বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এনআইডির বিষয় দেখবে। তাদের ক্যাপাসিটি বিল্ডিং করতে হবে। এনআইডি সংশোধনের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ এক মাসের মধ্যে করে দিতে হবে। যদি কোনো কারণে করার সুযোগ না থাকে, তাহলে কারণসহ জানিয়ে দিতে হবে। মাসের পর মাস ভোগান্তিতে ফেলা যাবে না।

কোরবানির ঈদ চলে আসছে। চামড়া নিয়ে ঝামেলা এড়াতে আগেভাগেই চামড়ার দাম নির্ধারণ এবং কোরবানির চামড়া পাচার রোধে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো জানান, আনলাইন বাণিজ্যের মাধ্যমে প্রতারণা হচ্ছে কি না, সে বিষয়টি খেয়াল রাখার জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরো বলেন, এখন থেকে ভাসানচর এলাকায় কাউকে যেতে হলে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হবে। সাংবাদিকরা যেতে চাইলে তাঁদেরও অনুমতি নিয়ে যেতে হবে।

এক সাংবাদিকের প্রশ্ন ছিল, দেশের একজন মন্ত্রীর মোবাইল ফোন ছিনতাই হয়েছে, তাহলে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক বলছেন কী করে? এমন প্রশ্নের জবাবে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বলেন, এটা বিচ্ছিন্ন ঘটনা।

সামগ্রিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো আছে। মন্ত্রীর বিষয়টা অবশ্যই দুঃখজনক। তিনি আরো বলেন, ‘ছিনতাই হচ্ছে না, তা বলব না। প্রতিকারের জন্য সর্চোচ্চ চেষ্টা করা হচ্ছে। ক্রাইম যেমন হচ্ছে, জড়িতদের আইনের আওতায়ও আনা হচ্ছে।’

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬৮ বার

[hupso]