শিরোনামঃ

» মোংলায় দিন মজুরের সম্পত্তি দখলে প্রভাবশালী মহল মরিয়া।।বসতঘর ভাংচুর ও লুটপাট

প্রকাশিত: ২৪. ডিসেম্বর. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

মোংলা প্রতিনিধি।।মোংলার চিলা ইউনিয়নের হলদিবুনিয়া গ্রামে দিনমজুর এক পরিবারের বসত ভিটাসহ প্রায় দু’একর সম্পত্তি দখলে মরিয়া হয়ে উঠেছে প্রভাবশালী একটি মহল।

মহলটি ইতিমধ্যে গরীব ওই পরিবারের সম্পত্তি দখলে নেয়ার উদ্দেশ্যে বসত ভিটায় হামলা চালিয়ে ভাংচুর ও লুটপাট চালিয়েছে।

এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী পরিবারটি স্থানীয় জন প্রতিনিধি সহ থানা পুলিশের দারস্থ হলেও এখন পর্যন্ত কোন প্রতিকার তো পায়নি বরং উল্টো প্রভাবশালী মহলটি অসহায় ওই পরিবারের সদস্যদের নানা ভাবে হুমকি ধামকিসহ ভয়ভীতি প্রদর্শণ করে চলেছে।

ভুক্তভোগী পরিবারের থানায় দেয়া অভিযোগের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হলদিবুনিয়া মৌজায় ভোলা নাথের মুত্যুতে তিন জন ওয়ারেশ রেখে যান।

তার তিন ছেলে শরিকের মধ্যে বড় ছেলে সদানন্দ মৌলিক ১৯৫২ সালে ভারতে চলে গেলে সে আর ফিড়ে না এসে সেখানে মৃতু বরন করেন। সদানন্দ ভারতে যাওয়ার পর তার যাবতীয় জমি-জমা সরকারের অর্পিত সম্পত্তি হিসেবে গন্য হয়।

সদানন্দ মৌলিকের তিন অংশীদার যথা কালা মজুমদার, বিশ্বজিৎ মজুমদার ও মহানন্দ মজুমদারকে তাদের প্রাপ্য হলদিবুনিয়া মৌজার এস এ ৬৭৬ খতিয়ানে ৩০০৭/৩০১১সহ আরো ১১ টি দাগে মোট ১ একর ৮৫ শতক জমি মৃত ভোলানাথ অন্য অংশী দারগন ওই জমি দখলে নিয়ে তার ভোগদখল করে আসছিল। পরে সদানন্দের ওয়ারেশগন আদালতে মামলার মাধ্যমে ৩ শরিকের অনুকূলে আনা হয়। কিন্ত মৃত ভোলা নাথের অপর দু’ শরিকের লোকজন ওই জমি দখলে না দেয়ার জন্য দীর্ঘ বছর ধরে নানা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে আসছে।

এক পর্যায়ে এ নিয়ে জমি দখলে আনার আদালতে মামলা হলে কালা মজুমদার, বিশ্বজিৎ মজুমদার ও মহানন্দ মজুমদার তাদের অনুক্থলে রায় পান। এর পরও এ তিন শরিক তাদের সম্পত্তি দখলে ব্যর্থ হয়ে স্থানীয় চিলা ইউনিয়ন পরিষদে আবেদন করে। ইউপি চেয়ারম্যান গাজী আকবার হোসেন ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নিউটন ওরফে শান্ত ডাকুয়াকে দায়িত্ব প্রদান করেন।

ইউপি সদস্য শান্ত ডাকুয়া দিন মজুর বিশ্বজিৎ মজুমদারের কাছে মোটা অংকের টাকা দাবী করায় বিষয়টি নিয়ে উপজেলা চেয়ারম্যানের শরাণাপন্ন হন।

এ নিয়ে জনপ্রতিনিধিরা দু’পক্ষকে ডেকে বিরোধ মিমাংসা করলে এ তিন শরিকের মধ্যে বিশ্বজিত মজুমদার তার প্রাপ্য সম্পত্তির উপর বসত ভিটা তৈরী করে বসবাস শুরু করলেও প্রতিপক্ষের লোকজন নানাভাবে এ পরিবারটির উপর জুলুম অত্যাচার চালাতে থাকে।

এক পর্যায়ে গত ২৮ নভেম্বর প্রতিপক্ষ চিত্ত রঞ্জণ মৌলিক, মহেন্দ্রনাথ মৌলিক, কিশোর কুমার কর, তুষার কর, বিমান কর, অশোক কুমার, ভূষণ রায়সহ ১০/১৫ জনের একদল সন্ত্রাসী বিশ্বজিত মজুমদারের পরিবারের উপর হামলা চালায়।

এ ঘটনায় মোংলা থানায় অভিযোগ দেয়ার পর ওই সন্ত্রাসীরা আরো বেপরোয়া হয়ে ওঠে।

এরপর বিশ্বজিত মজুমদার তার পরিবার নিয়ে অন্যত্র বেড়াতে গেলে গত ১৯ ডিসেম্বর রাতে সন্ত্রাসীরা সুযোগ বুঝে ওই পরিবারের বসত বাড়ির উপর ফের হামলা চালিয়ে মালামাল ভাংচুর ও লুটপাট চালায়।

সন্ত্রাসীরা এক পর্যায়ে বসত ঘরের খুঁটি কেটে পার্শ্ববর্তী ঘেরে ফেলে দিয়ে সম্পত্তি দখলে নেওয়ার চেষ্টা চালায়। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দেয়া হয়েছে।

এ ব্যাপারে অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা মোংলা থানার উপ সহকারী পুলিশ পরিদর্শক আতিকুর রহমান জানান, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ঘর ভাংচুর ও লুটপাটের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দ্রুত এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অপরদিকে অভিযুক্ত চিত্ত্ব রঞ্জণ মৌলিকসহ অপর প্রতিপক্ষরা এ ব্যাপারে বিশ্বজিত মজুমদারের সাথে জমিজমা বিরোধ থাকার কথা স্বীকার করলেও বসত ঘরে ভাংচুরসহ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে তাদের জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১০৬ বার

[hupso]