শিরোনামঃ

» মোংলায় বিদ্রোহী প্রার্থী হওয়ায় ১৩ আওয়ামী লীগ নেতা কর্মী বহিষ্কার

প্রকাশিত: ৩১. ডিসেম্বর. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

মাসুদ রানা মোংলা প্রতিনিধি।।মোংলা পোর্ট পৌরসভা নির্বাচনে দলের শীর্ষ নেতাদের নিদের্শনা অমান্য করে নির্বাচনে অংশ নেয়া ও দলের শৃংঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে ১৩ নেতা কর্মীকে আওয়ামী লীগের দল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক  ইব্রাহিম হোসেন ও পৌর মহিলা লীগের সভানেত্রী কামরুন্নাহার হাই এর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বহিস্কৃতরা হলেন, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ হাবিবুর রহমান, ১নং ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগ সদস্য মামুন হাওলাদার বাচ্চু, ২নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য আব্দুল জলিল সিকদার, ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গির হোসেন, ৩নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সাধারণ সম্পাদক এমরান হওলাদার, ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সদস্য  মাসুম বিল্লাহ, ৫নং ওয়ার্ডের সাবেক পৌর আওয়ামী সদস্য মনিরুজ্জামান জামাল, ৬নং ওয়ার্ডের-উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগ সহ-সভাপতি ফিরোজ শাহ, ৭নং ওয়ার্ড যুবলীগের সহ-সভাপতি ওবায়দুল হাওলাদার।

এছাড়া সংরক্ষিত মহিলা ১,২,৩ নং-ওয়ার্ডের প্রার্থী ২নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য পারভীন আক্তার, ৪,৫,৬ নং এর প্রার্থী ৬নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য শিরিন বেগম, একই ওয়ার্ডের আওয়ামী সদস্য ৪,৫,৬ নং প্রার্থী কহিনুর বেগম ও ৭,৮,৯ নং ওয়ার্ডের পৌর যুব মহিলা লীগের সভাপতি সুমী লীলা।

বহিষ্কার প্রসঙ্গে পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি ১নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোঃ হাবিবুর রহমান বলেন, আমি বার বার নির্বাচিত কাউন্সিলর, আমাকে দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। আমার প্রতি জনগণের আস্থা আছে। সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে জনগণ আবারও আমাকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে। তবে দলের নীতি নির্ধারকদের সঙ্গে এই বিষয়ে কথা বলছি। দলের সিদ্ধান্ত অবশ্যই মানতে হবে।

এ বিষয়ে সদ্য বহিস্কৃত যুব মহিলা লীগের সভাপতি সুমী লীলা বলেন, বহিস্কারের বিষয়টি জানতে পেরেছি। আমি দলকে ভালবাসি, দলের প্রতি, বঙ্গবন্ধুর আদর্শের প্রতি নূন্যতম ভালবাসার কোনো ঘাটতি আমার নেই। দল যে সিদ্ধান্ত নেবে তা মাথা পেতে নিব।

এ বিষয় জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, আমরা একক কাউন্সিলর প্রার্থী দিতে পারিনি। ফলে তাদের মধ্যে সমস্যা সৃষ্টি হয়ে যেন ভোটাররা কেন্দ্রবিমুখ না হন।সেজন্য আমাদের নেতাকর্মীদের নির্বাচনী দায়িত্ব দেয়া হয়েছে এবং দলের শৃংঙ্খলা ভঙ্গের কারণে আওয়ামী লীগ থেকে ১৩ জনকে বহিস্কার করা হয়েছে। আজ থেকে তাদের দলীয় সদস্যপদ ও সকল দলীয় পদ থেকে বহিস্কার করাসহ সকল রাজনৈতিক ও সামাজিক সম্পর্ক ছিন্ন করা হলো।

এবারের মোংলা পোর্ট পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির একক মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থী থাকলেও আওয়ামী লীগে বিদ্রোহী অনেক। ২৯ ডিসেম্বর ছিল প্রার্থী প্রত্যাহারের শেষ দিন। কিন্ত নির্বাচন ঘোষণার পর থেকে শেষ দিনেও একক প্রার্থী দিতে পারেনি আওয়ামী লীগ। বিধি অনুযায়ী কাউন্সিলর প্রার্থীদের দলীয় হওয়ার কোনো সুযোগ না থাকলেও কয়েক দফা বৈঠকে বিভিন্ন ওয়ার্ডে একক প্রার্থী দেওয়ার প্রচেষ্টা করে আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃবৃন্দরা।

আওয়ামী দলের শীর্ষ নেতা থেকে শুরু করে নিম্ন পর্যায়ের নেতা পর্যন্ত তাদের একক প্রার্থী দেয়ার ঘোষণা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১২৫ বার

[hupso]
সর্বশেষ খবর
মোংলা প্রতিনিধি।। মোংলায় ভুমি দস্যু বাহিনীর হামলায় নারী ও শিশু…