শিরোনামঃ

» মোংলায় সীমানা প্রাচীরের গাছকাটা নিয়ে  পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

প্রকাশিত: ০৭. মে. ২০২১ | শুক্রবার

মোংলা প্রতিনিধি।।মোংলায় বাড়ীর সীমানা প্রাচীরে সরকারি জমিতে গাছ কাটাকে কেন্দ্র করে দুগ্রুপের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ পাওয়া গেছে। মোংলা পৌর শহরের ৯নং ওয়ার্ডের পশুর নদীর পাড় সংলগ্ন বেড়ীবাধ নামার চর এলাকায় এ ঘটনাটি ঘটে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে থানা পুলিশের সহায়তায় পুনরায় ওই গাছ কাটার চেষ্টা করলে স্থানীয় লোকদের তোপের মুখে তা বন্ধ হয়ে যায়।

এব্যাপারে থানায় পৃথক অভিযোগ দায়ের হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও থানায় অভিযোগ সুত্রে পাওয়া যায়, মোংলা পৌর শহরের নামারচর এলাকায় আলাল ও কাওসার এ দুইজনেরই পাশাপাশী বসত ঘর। এ বসত ঘরের মাঝখানে সীমানা প্রাচীরের মধ্যে একটি সরকারী গাগ কাটা নিয়ে দ্বন্ধ হয় আলালের সাথে পারভিন বেগম ও তার স্বামী কাওসার আকনের সাথে।

পুর্ব থেকেই তাদের সাথে অহেতুক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দন্ধ চলে আসছিল এ দুই পরিবারের। আলাল হোসেন এলাকার একজন চিহ্নিত মাদক কারবারী এবং সন্ত্রাসী প্রকৃতির লোক বলে এলাকার অনেকেই অভিযোগ করে।

বেশ কয়েকদিন যাবত ঘরের পাশে একটি সরকারী গাছকে কেন্দ্র করে বাকবিতান্ডা জড়িয়ে পরে প্রতিপক্ষ আলাল হোসেন ও তার স্ত্রী নাজমা বেগম। এসময় কাওসার ও তার স্ত্রী পারভিন বাধা দিলে তাদের উপর চড়াও হয় সন্ত্রাসী আলাল হোসেন।

এসময় আলালের ঘরে থাকা দেশীয় অস্ত্র দাও ও লোহার রড নিয়ে কাওসার ও তার পরিবারের উপর হামলা চালায় চালায় আলাল।

এঘটনা শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে এসে তাদের উভয় পক্ষকে সমঝোতার  আশ্বাস দিয়ে নিয়ন্ত্রন করে।

কাওসার ও তার স্ত্রী পারভিন বেগম জানায়, তাদের ঘরের পাশে একটি সরকারী গাছ আলাল কেটে ফেলার চেষ্টা করে। পুনরায় এতে বাধা প্রদান করে এলাকাবাসী ও কাওসার পরিবারের লোকজন।

আলাল ওই এলাকায় বসবাস করা থেকে শুরু করে তার সন্ত্রাসী কার্মকান্ডে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায়না।

ইতি পুর্বেও আলাল আরো অনেক সরকারী গাছ কেটে নিয়েছে বলে এলাকাবাসী অভিযোগ করে। কিন্ত পুলিশ এসে কোন কিছু না শুনেই কাছ কেটে পেলতে নিদের্শনা প্রদান করে। না হয় তারা নিজেরাই গাছ কেঠে ফেলবে বলে অভিযোগ করে বলেন পারভিন বেগম ও নারী নেতৃ বকুল বেগম।

একদিকে সরকারী গাছ, অন্যদিকে পরিবেশ রক্ষার দিকে লক্ষ রেখে গাছ কাটায় বাধা দিলে এমতাবস্থায় রাত্রে কাওসারের স্ত্রী ঘরে একা থাকায় গতকাল রাত ১২টার দিকে আলাল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে পুনরায় ওই গাছ কেটে নেয়ার চেষ্টা করে।

এসময় কাওসারের স্ত্রী ডাক-চিৎকার দিলে বিবাদীরা কাওসারের ঘরকে লক্ষ করে ইট পাটকেল ছোড়া শুরু করে এবং অকথ্য ভাষায় গালীগালাজ করতে থাকে।

পরবর্তীতে এ খবর শুনে স্থানীয় লোকজন ছুটে আসলে আলাল ও তার সন্ত্রাসী বাহিনী তাদের উদ্দেশ্য করেও বিভন্ন রকম গালীগালাজ করে এবং মারপিট ও মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করিবে বলিয়ে হুমকি ধামকি প্রদান করে বলে অভিযোগ করে কাওসার ও স্থানীয় লোকজন।

এব্যাপারে সুষ্ঠ বিচারের আশায় পারভিন বেগম বাদী হয়ে আলাল হোসেন ও তার স্ত্রী নাজমা বেগমসহ কয়েকজনকে আসামী করে মোংলা থানায় অভিযোগ দায়ের করে।

এ খবর শুনে আলালও পাল্টা অভিযোগ করে কাওসার পরিবারের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর মোঃ মজনু গাজী বলেন, আলাল ওই এলাকায় বসবাস শুরুর পর থেকে একের পর এক অভিযোগ আসছে আলাল ও তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে।

আবার গাছ কাটা নিয়ে দুই পক্ষে দ্বন্ধ চলছে। তবে সরকারী গাছ কাটা কোন প্রকার সম্ভব নয় এতে পরিবেশের ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে আমাদের বলে জানায় এ কাউন্সিলর।

স্থানীয় আওয়ামীলীগের মহিলা নেতৃ বকুল বেগম জানায়, ইতি পুর্বেও আলাল সরকারী গাছ কেটে নিয়েছে। পুনরায় এ সরকারী গাছ কাটার ব্যাপারে পুলিশের ভুমিকা সন্দেহজনক বলে জানায় তিনি।

এব্যাপারে আলাল হোসেন জানায়, পুর্বে কোন গাছ কাটা হয়নী তবে আমার ঘরে উপর একটি গাছ ঝুকে পরেছে তাই এ গাছটি কেটে ফেলতে কাওসার ও তার পরিবারকেকে বলা হয়েছে মাত্র।

মোংলা থানার এসআই জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, একটি গাঠ কাটা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বাকবিতান্ডা ও তুমুল ঝগড়া হয়েছে।

পরবর্তীতে দুই গ্রুপের আরো বড় সংঘর্ষের সম্ভাবনা। এ জন্য ঘরের বিতরে ঢুকে যাওয়া গাছের একটি ডাল কেটে নিলে দুই পক্ষে মধ্যে সমস্যার সমাধান হবে বলে জানায় পুলিশের এ কর্মকর্তা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩০ বার

[hupso]