শিরোনামঃ

» মোংলায় স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে দু”সন্তান নিয়ে গৃহবধুর আত্মহত্যার চেষ্টা, হাসপাতালে ভর্তি

প্রকাশিত: ১৮. এপ্রিল. ২০২১ | রবিবার

মোংলা প্রতিনিধি।।স্বামীর অত্যাচার সইতে না পেরে দুই সন্তানসহ রেকসোনা নামের এক গৃহবধু বিষ পান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করে ব্যার্থ হয়েছে। স্থানীয়রা মুমুর্ষ অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করে।

শনিবার গভীর রাতে প্রথমে দুই সন্তানকে নিজ ঘরে খাবারের সাথে বিষ (কীটনাশক) মিশিয়ে খাইয়ে, পরে নিজে বিষ পান করে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে। মা-মেয়ে সুস্থ্য থাকলেও ছোট ৭ বছরের শিশু সন্তানের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছে চিকিৎসক।

প্রত্যাক্ষদর্শীরা ও নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধু জানায়, মোংলা পৌর শহরের ১নং ওয়ার্ড হাজীপাড়া এলাকার ব্যাবসায়ী লুৎফর রহমানের সাথে প্রায় ২০ বছর পুর্বে বিয়ে হয় একই এলাকার হারুন মিয়ার মেয়ে রোকসোনা বেগমের সাথে। তাদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য প্রায়ই মারধর করতো স্বামী লুৎফর রহমান।

এব্যাপারে থানায় বহুবার অভিযোগ দিলেও স্বামী প্রভাবশালী হওয়ায় কোন ব্যাবস্থা নেয়নি পুলিশ বলে নির্যাতিতা ওই গৃহবধু অভিযোগ করে। কিছু দিন পুর্বে স্ত্রীর অমতে স্বামী অন্যত্র বিয়ে করার ফলে স্ত্রী প্রতিবাদ করলে ১৭ এপ্রিল শনিবার বিকালে বেধরক মারধর করে স্বামী লুৎফর রহমান। এসময় তার মারধরে রক্তাক্ত জখম হয় স্ত্রী রোকসোনা বেগম। স্বামীর এহেন অত্যাচার আর নির্যাতন সইতে না পেরে শনিবার গভির রাতে ছোট দুই সন্তান মেয়ে আমেনা আক্তার (১১) ও ছেলে মোঃ আবু বকর (৭) সহ ওই গৃহবধু বিষ পান করে আত্নহত্যা করার চেষ্টা করে।

পার্শ্ববর্তী লোকজন ঘরে কারো সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজাখুলে খাটের উপর ওই গৃহবধুসহ দুই সন্তানকে অচেতন অবস্থা পরে থাকতে দেখে তাদের উদ্ধার করে দ্রুত মোংলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্রে ভর্তি করে।

মা-মেয়ে কিছুটা সুস্থ থাকলেও শিুশু পুত্র আবু বকর সংঙ্কা মুক্ত নয় বলে জানায় হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাঃ মালিহা তাবাচ্ছুম। তবে যৌতুক ও নারী লোভী স্বামী অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে এ আত্নহত্যার পদ বেছে নিয়েছে বলে জানায় গৃহবধু রোকসোনা বেগম। তবে স্বামীর যৌতুক চাওয়া আর অত্যারের ব্যাপারে মোংলা থানায় বেশ কয়েকবার অভিযোগ করেও কোন সুফল পায়নি বলে জানায় নির্যাতনের শিকার গৃহবধু রোকসানা বেগম।

খবর পাওয়ার পর পরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে মোংলা থানা পুলিশের একটি দল। তবে পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে হাসপাতাল থেকে দ্রুত সটকে পরে স্বামী লুৎফর রহমান।

এব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানায় নির্যাতনের শিকার ওই গৃহবধুর সজজনরা।

নির্য়াতনের শিকার গৃহবধু রোকসানা বেগম বলেন, বিয়ের পর থেকে গত ১৫ বছর যাবত নির্যাতন করে আসছিল স্বামী লুৎফর রহমান। যৌতুক না পেয়ে তার নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় মৃত্যুর পথ বেছে নেয় ওই গৃহবধু। তাই শিশুসন্তান নিয়ে বাজে মন্তব্য করায় তাদের নিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করছিল গৃহবধু রোকসোনা বেগম। তবে ঘটনাস্থলে পুলিশ গেলে দ্রুত পালিয়ে যায় স্বামী লুৎফর রহমান বলে গৃহবধু অঅিযোগ করেন।

মোংলা থানার অফিসার ইনচার্জ ইকবাল বাহার চৌধুরী জানায়, পৌর শহরের গৃহবধু নির্যাতন ও শিশু সন্তান নিয়ে আত্মহত্যা করার চেষ্টা করার অভিযোগ পাওয়া না গেলেও ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।

এব্যাপারে অভিযোগ পেলে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়ার হবে বলেও জানায় পুলিশের এ কর্মকর্তা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১০০ বার

[hupso]