শিরোনামঃ

» মোংলা স্থায়ী বন্দর এলাকার শ্রাবন বাহিনীর হয়রানী ও অত্যাচার থেকে পরিত্রান পেতে ঠিকাদার ব্যবসায়ীর সম্মেলন

প্রকাশিত: ০৭. নভেম্বর. ২০২০ | শনিবার

মোংলা বন্দর এলাকার শ্রাবন বাহিনীর হয়রানী ও অত্যাচার হতে পরিত্রান পেতে ঠিকাদার ব্যবসায়ীর সম্মেলন

মোংলা(বাগেরহাট)প্রতিনিধি
মোংলা স্থায়ী বন্দর এলাকার শ্রাবন ও তার বাহিনীর হয়রানী-অত্যচার হতে পরিত্রান পেতে সম্মেলন করেছেন এক ঠিকাদার ব্যবসায়ী।

শনিবার সকাল ১১ টায় মোংলা প্রেস ক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে বন্দরের ঠিকাদার ব্যবসায়ী দেলেয়ার হোসেন জানান, আমি মোংলা বন্দর কতৃপক্ষের একজন ঠিকাদার ব্যবসায়ী ও সাধারণ নিরীহ মানুষ। বন্দর মার্কেটের জন্মলগ্ন হতে এখানে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছি। বিগত দিনে নানা কারনে এ বন্দরটির দূরাব্যবস্থার মধ্যেও এখানকার ব্যবসায়ীও সাধারন মানুষ খেয়ে না খেয়ে দিনযাপন করলেও শান্তি শৃংখলার বিঘ্ন ঘটেনি। অনেক অর্থ কষ্টের মধ্যেও পরস্পর সকলে সু-শৃংখলবদ্ধ থাকলেও সম্প্রতি কথিত সংবাদকর্মীর নাম ব্যবহারকারী সোহেল মাহামুদ ওরফে টাউট শ্রাবন ও তার দালাল বাহিনীর হাতে আমি ও আমার পরিবারসহ স্থানীয় আরও অনেকে জিম্মি হয়ে পড়েছি ।

তিনি জানান, বিগত কয়েক বছর আগে বন্দর বিপনী মার্কেট সংলগ্ন এলাকায় টিভি,রেডিও ঘড়ির মেকার সোহেল মাহামুদ শ্রাবনের অগমন ঘটে। অল্প সময়রের মধ্যেই সু-চতুর এ সোহেল মাহামুদ নিজের নাম পাল্টে শ্রাবন নামে পরিচিত হয়ে ওঠে। বন্দর ও ইপিজেড এলাকায় চাকরি এবং ব্যবসা বানিজ্য ভাগিয়ে আনা ও পাইয়ে দেয়ার কথা বলে সে বিভিন্ন চাকুরি প্রার্থী ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাৎ করে।

এ বিষয় কেউ থানা পুলিশ ও আইনের আশ্রয় নিলেও টাউট শ্রাবনের দালাল বাহিনীর ভয়ে অনেকে মুখ বুঝে সহ্য করে এলাকা ছেড়েছে। তার নেতৃত্বাধীন এ দালাল বাহিনীর একাধিক সদস্য তৎপর রয়েছে বন্দর এলাকায়। তাদের হাতে হয়রানীর শিকার হয়েছেন বন্দরের অনেক কর্মচারীও। মাদক ব্যবসা সহ দূশ্চরিত্র মহিলা দিয়ে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও বন্দর কর্মচারীদের হেস্তন্যস্ত সহ বিভিন্ন ফাঁদে ফেলে তাদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা অর্থ আদায় করা আসছে।

সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের হেনস্হ করে অর্থ আদায়ের লালসা তার নিত্য নৈমত্তিক ঘটনায় পরিনত হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ওই ব্যবসায়ী বলেন, কথিত সংবাদকর্মী পরিচয়দানকারী এই সোহেল মাহামদ শ্রাবন নিজের নামে বন্দর বিপনী মার্কেটের একটি দোকান কক্ষ ব্যবহার এবং মালিকানার দাবীদার হিসেবে সেখানেই অবাঁধে নিজের অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। দিনের আলোতে তার ব্যবহৃত দোকান ঘরের কক্ষটি প্রায় বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যার ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সেখানে তার রামরাজত্ব শুরু হয়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে মাদক সেবনকারীদের বেপরোয়া তৎপরতা।

এ ছাড়া গভীর রাত অবধি তার দালাল চক্রের সদস্য ছাড়াও অপরিচিত লোকজনের আনাগোনায় স্থানীয় ব্যবাসীয় ও সাধারণ মানুষকে আতংকগ্রস্থ হয়ে থাকতে হয়। তার এহেন অপকর্মের বিরুদ্ধে কেহ মুখ খোলাস সাহস পর্যন্ত পায় না।

ঠিকাদার ব্যবসায়ী লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করেন, স্থায়ী বন্দর এলাকায় অবাধে মাদকসেবন, উশৃংখল আচরনের বিরুদ্ধে কথা বলায় আমার স্ত্রী ৪ নং ওয়ার্ড মহিলা আওয়ামীলীগের সভানেত্রী ও মানবাধীকার কর্মী শিউলী ইয়াসমীন এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা সোহেল মাহামুদ ওরফে শ্রাবনের আক্রশের মুখে পড়েন। এমনকি আমার স্ত্রী শিউলী ইয়াসমীনকে কয়েক দফা হুমকি ধামকিও দেয়।

গত ৯ অক্টোবর আমার স্ত্রী শিউলী ইয়াসমীন পাওয়ার হাউজ মোড় সংলগ্ন দলীয় কার্যালয় যাওয়ার পথে সোহেল মাহামুদ ওরফে শ্রাবন তার দলবল নিয়ে বন্দর এলাকার বাইপাস সড়কে আকস্মিক হামলা- মারধর সহ প্রকাশ্য শ্লীলতাহানী ঘটনায়।

পরবর্তীতে নিরুপায় হয়ে আদালতে মামলা দায়ের ও আইনের আশ্রয় নেই। মামলাটি পুলিশের বিশেষ গোয়েন্দা বিভাগে তদন্তনাধীন রয়েছে।

এ কারনে ক্ষুব্ধ হয়ে গত ২৩ অক্টোবর মধ্য রাতে শ্রাবন মদ্যপান সহ দূস্কৃতকারীদের সঙ্গে নিয়ে দোকান ঘরের বিদ্যুৎ মিটার ভাংচুর সহ সংযোগ বিছিন্ন সহ বিদুৎ সরবরাহের লাইনের তার কেটে নিয়ে যায়।

এ বিষয় বিদ্যুৎ বিভাগকে অবগত সহ মোংলা থানায় সাধারণ ডায়রী করা হয়।

এ ছাড়া শ্রাবনের অপরাধ কর্মকান্ড ও নানা অপকর্মের প্রতিবাদ করায় বছর তিনেক আগে বন্দর মাকের্টের মধ্যে মধ্যরাতে সে নিজেই বোমা বিস্ফোরন ঘটিয়ে মোংলা থানার তৎকালীন ওসি লুৎফর রহমানকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে অন্যকে ফাঁসানোর চেষ্টা করে।

পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে বিপনী মার্কেটের দোকান কক্ষে শ্রাবনের ব্যবহৃত টেবিলের ড্রয়ারে রক্ষিত ৪টি বোমা উদ্ধার করে। পরে গভীর রাতে মুচলেকা দিয়ে পুলিশের হাত থেকে ছাড়া পায় সে। তার এহেন কর্মকান্ডে স্থায়ী বন্দর এলাকার সুনাম নষ্ট হচ্ছে।

এই টাউট শ্রাবন নিজের অপকর্ম আড়াল করতে প্রলোভনের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোককে ব্যবহার করে অণ্যকে জব্ধ করতে মিথ্য অপবাদসহ নামে,বে-নামে বন্দর কতৃপক্ষ সহ নানা দপ্তরে মিথ্য কল্পকাহিনীর অভিযোগ দায়ের সহ হয়রানী করে থাকে। তার এমন হয়নারী হতে রক্ষা পায়নি কর্মচারীরাও।

তার এহেন কর্মকান্ডে স্থায়ী বন্দর বিপনী মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েছেন। এ অবস্থা হতে পরিত্রান পেতে স্থানীয় প্রশাসন ও বন্দর কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন ব্যবসায়ী  দেলোয়ার হোসেন।

সংবাদ সম্মেলেনে ওই ব্যবসায়ী ও তার পরিবারের সদস্য ছাড়াও ক্ষতিগ্রস্থরা উপস্থিত ছিলেন।

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩১ বার

[hupso]
সর্বশেষ খবর
মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।।মোংলায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্য দিবালোকে হামলা চালিয়ে মুক্তিযোদ্ধার…