শিরোনামঃ

» যমজ নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে বাবা

প্রকাশিত: ০২. নভেম্বর. ২০২০ | সোমবার

যমজ নবজাতকের লাশ নিয়ে হাইকোর্টে এসেছিলেন মো. আবুল কালাম আজাদ। তার অভিযোগ সরকারি-বেসরকারি তিনটি হাসপাতাল ঘুরেও নবজাতকের চিকিৎসা মেলেনি। আর এতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে সদ্য ভূমিষ্ঠ দুই শিশু।

এমন ঘটনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ), ঢাকা শিশু হাসপাতাল ও মুগদা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে উচ্চ আদালত। আদালতের আদেশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে লিখিতভাবে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

মৃত নবজাতকদের লাশ নিয়ে আদালত চত্বরে আসার পর বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি আহমেদ সোহেলের হাইকোর্ট বেঞ্চ স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুলসহ এ আদেশ দেয়।

দুই শিশু মুমূর্ষু হওয়ার পরও চিকিৎসা অবহেলায় বিবাদীদের (তিন হাসপাতাল) অবহেলা ও নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না, রুলে তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট।

সংশ্লিষ্ট বেঞ্চের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক জানান, আবুল কালাম আজাদ সুপ্রিম কোর্টের এমএলএসএস (অফিস সহকারী)। সোমবার সকালে তার সাড়ে ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী সায়েরা খাতুন হঠাৎ অসুস্থ বোধ করলে মুগদা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল নেয়ার পথে অটোরিকশাতেই তিনি যমজ সন্তান প্রসব করেন।

পরে ওই হাসপাতালে দায়িত্বরতরা প্রসূতি সায়েরা খাতুনকে ভর্তি নিলেও নবজাতক অপরিণত হওয়ার কথা বলে এবং হাসপাতালে পরিচর্যার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টি জানিয়ে নবজাতকদের নিয়ে ঢাকা শিশু হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানান, স্ত্রীকে ইসলামী ব্যাংক হাসপাতালে ভর্তি করে নবজাতকদের নিয়ে শিশু হাসপাতালে যাওয়ার পর সেখানকার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় সেখানে নবজাতক নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (এনআইসিইউ) শয্যা খালি নেই। একপর্যায়ে তাদের নিয়ে বিএসএমএমইউতে গিয়ে সেখানে ঊর্ধ্বতনদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে ও নবজাতকদের ভর্তি করাতে ব্যর্থ হন আবুল কালাম আজাদ।

একপর্যায়ে বিএসএমএমইউ’র পরিচালকের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা একজন চিকিৎসক নিয়ে হাসপাতাল প্রাঙ্গণে থাকা অ্যাম্বুলেন্সে এসে দেখেন, যমজ নবজাতক দুটি আর বেঁচে নেই। এরপর আবুল কালাম আজাদ দুপুর আড়াইটার দিকে নবজাতকদের লাশ অ্যাম্বুলেন্সে করে সুপ্রিম কোর্টে চত্বরে নিয়ে আসেন।

এ একে এম আমিন উদ্দিন মানিক বলেন, ‘আবুল কালাম আজাদ সংশ্লিষ্ট বেঞ্চেই অফিস সহকারী হিসেবে কাজ করেন। হাসপাতাল চত্বরে লাশ নিয়ে এসে পুরো ঘটনাটি তিনি বেঞ্চের বিচারককে অবহিত করেন। শিশু দুটি অপরিণত হলেও হাসপাতালে সঠিক চিকিৎসা পেলে হয়তো বাঁচানো যেত। আদালত স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল ও কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছেন।’

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৭ বার

[hupso]
সর্বশেষ খবর
মিজানুর রহমান মিনু কাজিপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি।।জাতীয় নেতা শহীদ এম মনসুর…