শিরোনামঃ

» যশোরের শার্শায় শিক্ষাঙ্গন ঘিরে বখাটেদের উৎপাত বাড়ছে

প্রকাশিত: ০৫. মার্চ. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

জসিম উদ্দিন, বেনাপোল : যশোরের শার্শা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় স্কুল-কলেজ, মাদরাসা ও কোচিং-পাইভেট সেন্টারের আশপাশ ঘিরে বখাটেদের উৎপাত বেড়েছে। প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে বখাটেদের অবস্থান এখন চোখে পড়ার মতো। কখনও এককভাবে আবার কখনও দলবদ্ধভাবে এসব বখাটেরা স্কুল-কলেজ, মাদরাসায় কোচিং পড়ুয়া মহিলা শিক্ষার্থীদের চলার পথে উত্ত্যক্ত করে আসছে।

জানাজানি হলে সামাজিকভাবে পরিবারের ওপর নানা অপবাদ আসতে পারে- এমন ভয়ে ছাত্রীদের অভিভাবকরাও প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করতে সাহস করেন না। ঝামেলা এড়াতে অনেক ক্ষেত্রে অভিভাবকরা মেয়েদের বাল্যবিবাহ দিতে বাধ্য হচ্ছেন। তাই বখাটেদের এই বিচরণ বন্ধ করতে পুলিশের নিয়মিত টহলের পাশাপাশি প্রতিনিয়ত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার দাবি সচেতন মহলের।

উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঘুরে জানা গেছে, বিভিন্ন স্কুল-কলেজ মাদরাসাসহ এলাকার নামে-বেনামে গড়ে ওঠা কোচিং-পাইভেট প্রতিষ্ঠান ঘিরে বখাটেদের বিচরণ বাড়ছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চলাচলের রাস্তায় আগত বখাটেদের রুখতে শিক্ষক কর্মচারীরা তাদের নিজস্ব উদ্যোগে অভিযান পরিচালনা করলেও বখাটেরা ভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছে।শিক্ষার্থীরা স্কুলে প্রবেশ কিংবা ছুটির সময় বখাটেরা স্কুল গেট ও তার আশপাশে রোমিও সেজে অবস্থান করছে।

বখাটেরা সুযোগ বুঝে স্কুল, মাদরাসা ও কলেজগামী ছাত্রীদের অশালীন উক্তি ছুড়ে দিচ্ছে। বখাটেদের এসব অশালীন উক্তি স্কুল-কলেজগামী ছাত্রীরা নীরবে সহ্য করে গন্তব্যে যাচ্ছে। বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও এ ব্যাপারে কোনো প্রতিরোধ না থাকায় তা দিন দিন বেড়েই চলেছে। ছাত্রীদের মধ্যে অনেকেই বখাটে দ্বারা উৎপাতের শিকার হলেও লোকলজ্জার ভয়ে কেউ ঘটনা তাত্ক্ষণিক প্রকাশ করছে না। এতে ছাত্রীরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত ছাত্রীদের অভিভাবকরা থাকছেন অত্যান্ত চাপা দুশ্চিন্তায়।

অভিভাবকরা বলেন, সকালে বাচ্চা নিয়ে স্কুলে ঢুকার সময় স্কুল গেটে বহিরাগত ছেলেরা অনেকটাই বিরক্ত করে।আবার ছুটির সময়ও একই চিত্র দেখা যায়।

বখাটেদের উৎপাতে শিক্ষার্থীরা অতিষ্ঠ। শিক্ষকরা ইচ্ছে করলেও বখাটেদের সাথে সংঘাতে জড়াতে পারেনা। এটা একটি মহৎ পেশা। তারপরও নিজ নিজ অবস্থান থেকে আমরা চেষ্টা করছি বখাটেদের প্রতিরোধ করার। তবে প্রশাসন প্রতিনিয়ত অভিযান পরিচালনা করলে ও এলাকার সব শ্রেনী পেশার মানুষ এগিয়ে আসলে এদের প্রতিরোধ করা সম্ভব।

বখাটেদের দৌরাত্ম্য বন্ধে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে ভ্রাম্যমান আদালতের পরিচালনা এবং অভিভাবক ও শিক্ষকদের আরো সতর্কতা বৃদ্ধি হলে বখাটেদের রুখে দেওয়া সম্ভব হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল ।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, শার্শা উপজেলার নাভারণ মহিলা আলিম মাদরাসা, বুরুজবাগান পাইলট বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বুরুজ ফাযিল মাদরাসা সহ শহর কেন্দ্রীক বিভিন্ন মহিলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা বখাটেদের অত্যাচার বেশি সহ্য করছে। শিক্ষকরা তাদের রুখতে গেলে ঐ সমস্ত বখাটেদের দ্বারা শারীরিক ও মানষিক ভাবে অত্যাচারের শিকার হচ্ছেন।

জানতে চাইলে নাভারণ মহিলা আলিম মাদরাসা ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাবা আলেয়া পারভীন বলেন, প্রতিনিয়ত শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছ থেকে বখাটেদের দ্বারা শারীরিক ও মানষিক ভাবে নির্যাতনের খবর পাচ্ছি। এবং আমার শিক্ষক কর্মচারীগন নজরদারি বাড়ালেও তারাও লাঞ্চনার শিকার হচ্ছেন। এ বিষয়ে আমার সভাপতি মহোদয়কে অবহিত করেছি। আশা করছি বখাটেদের রুখতে খুব শীঘ্রই একটি কাঙ্খিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২১৫৩ বার

[hupso]
সর্বশেষ খবর
শৈশব শব্দটা শুনলেই কেমন যেন একটা ধূসর গল্পের জগৎ সামনে…