শিরোনামঃ

» যশোরে আরো ৭ দিনের কঠোর লকডাউন

প্রকাশিত: ২৩. জুন. ২০২১ | বুধবার

বিশেষ প্রতিনিধি।।যশোর জেলায় গত দুইদিনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এমন পরিস্থিতি সমলাতেই কঠোর বিধিনিষেধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়তে থাকায় যশোরে আগামী ৭ দিনের জন্য কঠোর লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে।

বুধবার (২৩ জুন) রাত ১২টা থেকে আগামী ৩০ জুন রাত ১২ পর্যন্ত এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হবে।

যশোর সার্কিট হাউজে করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

যশোর করোনা কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. তমিজুল ইসলাম খানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী স্বপন ভট্টাচার্য এমপি।

যশোরে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ১২১ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনাক্তের হার ৩৫ শতাংশ। একই সময়ে করোনা ও করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন ৯ জন।

গত দুইদিনে মারা গেছে ১৯ জন। করোনা সংক্রামণের হার উর্ধ্বমুখী হওয়ায় আগামী ৭ দিনের জন্য কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রশাসন।

বিধিনিষেধ সংক্রান্ত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, যশোর জেলার অভ্যন্তরীণ সকল রুটে এবং আন্তঃজেলা বাস, ট্রেন ও সকল প্রকার গণপরিবহনসহ সিএনজি, রিকশা, ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, থ্রিহুইলার, হিউম্যান হলার চলাচল বন্ধ থাকবে।

তবে সকল ধরণের দোকানপাট, শপিংমল, হোটেল, রেস্তোরা, চায়ের দোকান, বিপণীবিতান বন্ধ থাকবে। ওষুধের দোকান সার্বক্ষণিক খোলা রাখা যাবে। এবং জরুরি সেবা দানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না।

কাঁচাবাজার, ফুল ও নিত্য প্রয়োজনীয় (মুদিখানা) পণ্যের দোকান প্রতিদিন দুপুর ১২টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। আইন-শৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা যেমন-কৃষি উপকরণ, খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য, দুগ্ধ পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা কার্যক্রম, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, বেনাপোল স্থলবন্দরে জরুরি আমদানি-রপ্তানি, নওয়াপাড়া বন্দরের সার সরবরাহসহ অন্যান্য কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট, গণমাধ্যম, বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, ডাকসেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিসসমূহ, স্থানীয় সরকারের অধীন অফিসসমূহ, সরকারি অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারী ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

শিল্প-কলকারখানাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। শ্রমিকদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে।

সকল পর্যটনস্থল, পার্ক, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে। জনসমাবেশ হয় এমন ধরণের সামাজিক, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ থাকবে।

স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে ওয়াক্তের নামাজ মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জিন ও খাদেমসহ সর্বোচ্চ ৫ জন ও জুম্মার নামাজ সর্বোচ্চ ২০ জন জামাতে আদায় করবেন। অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানেও এর বেশি জমায়েত হওয়া যাবেনা। জেলার সকল গরুর হাট বন্ধ থাকবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭৫ বার

[hupso]