শিরোনামঃ

» যশোরে করোনা সংক্রমণ ঊর্ধ্বগতি।। এলাকা বাড়িয়ে কঠ

প্রকাশিত: ১৬. জুন. ২০২১ | বুধবার

চলতি মাসের ৮ জুন যশোর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শুরু হয় এক সপ্তাহের কঠোর বিধিনিষেধ।

মঙ্গলবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২য় পর্যায় বুধবার দিবাগত রাত ১২.০১ মিনিট হতে ২৩ জুন পর্যন্ত মোট ৭ দিন যশোর সদর উপজেলার যশোর পৌরসভা, চাঁচড়া, উপশহর, আরবপুর, নওয়াপাড়া ইউনিয়ন, ঝিকরগাছা উপজেলার ঝিকরগাছা পৌর এলাকা, শার্শা উপজেলার শার্শা ইউনিয়ন ও বেনাপোল পৌর এলাকার বেনাপোল বাজার এবং অভয়নগর উপজেলার নওয়াপাড়া পৌরসভায় কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

এসব এলাকার জন্য গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বিধি-নিষেধ চলাকালীন যশোর জেলার অভ্যন্তরীণ সকল রুটে গণপরিবহণ/বাস ইত্যাদি বন্ধ থাকবে। তবে রোগী পরিবহনকারী/অ্যাম্বুলেন্স, জরুরি পণ্য বহনকারী ট্রাক এবং জরুরি সেবা দানের ক্ষেত্রে এ আদেশ প্রযোজ্য হবে না। সকল প্রকার হাইওয়ে রোডে আনন্তঃজেলা গণপরিবহন সরকার কর্তৃক আরোপিত চলমান স্বাস্থ্য বিধি প্রতিপালনপূর্বক চলাচল করতে পারবে। তবে আন্তঃজেলা বাস অভ্যন্তরীণ যাত্রী বহন করতে পারবে না।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, কাঁচাবাজার, ফুল ও নিত্য প্রয়োজনীয় (মুদিখানা) পণ্যের দোকান সন্ধ্যা ৬.০০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। এছাড়া সকল ধরণের দোকানপাট, শপিংমল, বিপণিবিতান বন্ধ থাকবে। ওষুধের দোকান সার্বক্ষণিক খোলা রাখা যাবে। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা ও জরুরি পরিষেবা যেমন-কৃষি উপকরণ (সার, বীজ, কীটনাশক, কৃষি যন্ত্রপাতি ইত্যাদি), খাদ্যশস্য ও খাদ্যদ্রব্য পরিবহন, ত্রাণ বিতরণ, স্বাস্থ্যসেবা, কোভিড-১৯ টিকা প্রদান, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি, ফায়ার সার্ভিস, স্থলবন্দর সমূহের কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট (সরকারি, বেসরকারি) গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া), বেসরকারি নিরাপত্তা ব্যবস্থা, মুদ্রণালয়, ডাকসেবাসহ অন্যান্য জরুরি ও অত্যাবশ্যকীয় পণ্য ও সেবার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অফিস সমূহ, স্থানীয় সরকারের অধীন অফিসসমূহ, তাদের কর্মচারি ও যানবাহন এ নিষেধাজ্ঞার আওতাবহির্ভূত থাকবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, খাবারের দোকান ও হোটেল রেস্তোরাঁ যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে খোলা থাকবে। তবে খাবারের দোকান ও হোটেল রেস্তোরাঁ থেকে কেবল সকাল ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত খাদ্য বিক্রয়/সরবরাহ করা যাবে। সবাইকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে।

অতি জরুরি প্রয়োজন ব্যতীত (ওষুধ ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ক্রয়, চিকিৎসা সেবা, মৃতদেহ দাফন/সৎকার ইত্যাদি) কোনভাবেই বাড়ির বাইরে বের হওয়া যাবে না। জরুরি প্রয়োজনে চলাচলকারী সকলকে বাধ্যতামূলকভাবে মাস্ক পরিধান করতে হবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, মোটরসাইকেলে চালক ব্যতীত অন্য কোন আরোহী যাতায়াত করতে পারবে না। রিকশায় একজন এবং সকল ধরণের ইজিবাইক ও অটোরিকশায় সর্বোচ্চ দুইজন যাত্রী নিয়ে যাতায়াত করা যাবে। শিল্প-কলকারখানাসমূহ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণপূর্বক নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় চালু থাকবে। শ্রমিকদের স্ব-স্ব প্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিজস্ব পরিবহন ব্যবস্থাপনায় আনা-নেওয়া নিশ্চিত করতে হবে। সকল পর্যটনস্থল, পার্ক, রিসোর্ট, কমিউনিটি সেন্টার ও বিনোদন কেন্দ্র বন্ধ থাকবে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, জনসমাবেশ হয় এমন ধরণের সামাজিক (বিবাহ, জন্মদিন, পিকনিক, পার্টি ইত্যাদি), রাজনৈতিক ও ধর্মীয় জমায়েত বন্ধ থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে জুম্মার নামাজসহ প্রতি ওয়াক্ত নামাজে সর্বোচ্চ ২০ জন মুসল্লি অংশগ্রহণ করবেন। ঘর থেকে ওজু করে সুন্নত নামাজ পড়ে মসজিদে আসবেন।

অন্যান্য ধর্মীয় উপসনালয়েও স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে সমসংখ্যক ব্যক্তি উপসনা করতে পারবে।

সকল জরুরি নির্মাণ কাজ স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে চলমান থাকবে এবং এ সংক্রান্ত পণ্য পরিবহন বিধি নিষেধের আওতাবহির্ভুত হবে।

যশোরের অন্যান্য উপজেলায় উচ্চ সংক্রমণের এলাকা চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটি অনুরূপ বিধি-নিষেধ আরোপ করবেন এবং সরকার কর্তৃক ঘোষিত বিধি-নিষেধ চলমান থাকবে।

একদিনে যশোরে আরো ২৩৫ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। যশোরে পিসিআর ল্যাব থেকে দেওয়া ফলাফলে ৪৩০ জনের নমুনায় ২০৬ টি পজিটিভ। এর মধ্যে যবিপ্রবি ল্যাবে ৪২৩ নমুনায় ২০৬ জন ও খুলনা ল্যাবে সাত জনের নমুনায় সবগুলো নেগেটিভ।

এছাড়া যশোর জেনারেল হাসপাতালে র‌্যাপিড এন্টিজেন পরীক্ষায় ৮১ নমুনায় ২৯ জনের পজেটিভ এসেছে। এদের মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ছয় হাজার ৭০০ জন। মৃত্যুবরণ করেছেন ৯৬ জন। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি আছেন ৭৫ জন।

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৬১ বার

[hupso]