পালিয়ে যাওয়া রোগীদের সংশ্লিষ্ট এলাকার থানা পুলিশের সহযোগিতায় ফিরিয়ে এনে আবারও যশোর জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তির করা হয়েছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যশোর পুলিশের মুখপাত্র ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তৌহিদুল ইসলাম।

এর আগে, এই ১০ জন করোনা রোগী কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়াই চলে যান। এদের মধ্যে সাতজন ভারত ফেরত করোনা পজিটিভ।

রোববার (২৫ এপ্রিল) তাদের পালিয়ে যাওয়ার বিষয়টি জানাজানি হয়।

ফলে, করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়া নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। পালিয়ে যাওয়া রোগীরা যদি ভারতীয় ভেরিয়েন্টের বাহক হন তাহলে তা ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করেছেন চিকিৎসকেরা।

রোগী ‘পালানোর’ ঘটনায় সোমবার (২৬ এপ্রিল) দিনভর তোলপাড় চলছে যশোরে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে যশোর জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ও জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের ১০ জন রোগী ছাড়পত্র না নিয়ে চলে গেছে। এদের মধ্যে ৭ জন ভারত ফেরত করোনা রোগী রয়েছে। ওই সাতজনের মধ্যে খুলনার ৩ জন, সাতক্ষীরা ২ ও যশোর ও রাজবাড়ি জেলার মানুষ। হাসপাতালের রেজিস্ট্রারে ওই ১০ জনের নাম ঠিকানা ছিল। তাদেরকে চিহ্নিত করা হয়েছিল।

সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও সিভিল সার্জনকে অবহিত করে আবারও তাদের যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, কয়েকদিনে যশোর জেনারেল হাসপাতালের তৃতীয় তলায় করোনা ওয়ার্ডে ১০ জন করোনা পজিটিভ রোগী ভর্তি করা হয়। এদের মধ্যে সাতজন ভারত ফেরত ছিলেন।

তাদেরকে বেনাপোল ইমিগ্রেশন থেকে চিকিৎসার জন্য এ হাসপাতালে পাঠানো হয়। তারা সবাই পালিয়ে যায়।

পালিয়ে যাওয়া রোগীরা হলেন, যশোর সদর উপজেলার পাঁচপাবাড়িয়া গ্রামের রবিউলের স্ত্রী ফাতেমা (১৯), একই গ্রামের একরামুল কবীরের স্ত্রী রুমা (৩০), যশোর শহরের বারান্দীপাড়া এলাকার বিশ্বনাথের স্ত্রী মনিমালা দত্ত (৪৯), যশোর শহরের ওয়াপদা গ্যারেজ পাড়ার ভদ্র বিশ্বাসের ছেলে প্রদীপ বিশ্বাস (৩৭), সাতক্ষীরা আশাশুনি উপজেলার প্রতাপপাড়া গ্রামের জামাল হোসেনের ছেলে মিলন হোসেন (৩২), সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার সোনতলা গ্রামের মনোতোষ সর্দারের স্ত্রী শেফালী রাণী (৪০), খুলনার পাইকগাছার ভামরাইল গ্রামের আহমদ সানার ছেলে আমিরুল সানা (৫২), খুলনার রূপসা চল এলাকার শের আলীর ছেলে সোহেল সরদার (১৭), খুলনা মহানগরের বিকে পূর্ব লেন এলাকার পুলিন কৃষ্ণ সরকারের ছেলে বিবেকান্দ সরকার ও রাজবাড়ি সদর উপজেলার রামকান্তপুর গ্রামের আবদুল কুদ্দুসের মেয়ে নাসিমা আক্তার।

এদের মধ্যে মনিমালা, মিলন হোসেন, শেফালি রানী, আমিরুল সানা, সোহেল সরদার, বিবেকানন্দ সরকার ও নাসিমা আক্তার ভারত ফেরত।

যশোরের সিভিল সার্জন শেখ আবু শাহীন বলেন, করোনা ওয়ার্ডে নার্স ও চিকিৎসক দায়িত্ব পালন করেন। সেখানে নিরাপত্তা কর্মী ছিল না। গেট তালাবদ্ধ করা হয়নি।

এজন্য রোগীরা চলে যেতে পেরেছে। এখানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলা নেই। তবে তালাবদ্ধ রাখলে এভাবে চলে যেতে পারত না। তবে যারা আক্রান্ত তাদেরকে বেশি সচেতন হওয়া উচিত ছিল।