শিরোনামঃ

» যশোর জেলা পরিষদ মার্কেটে অগ্নিকান্ড, ক্ষতিপূরণ দাবী ব্যবসায়ীদের

প্রকাশিত: ২২. এপ্রিল. ২০২১ | বৃহস্পতিবার

বিশেষ প্রতিনিধি।।যশোর জেলা পরিষদ সুপার মার্কেটে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শহরের মুনশি মেহেরুল্লাহ ময়দান (টাউন হল মাঠ) সংলগ্ন এই মার্কেটে অগ্নিকাণ্ডে ১৫টি কাপড়ের দোকান পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।
এতে প্রায় কোটি টাকার মতো ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন।
বুধবার রাত ১১টার দিকে আগুনের সূত্রপাত বলে স্থানীয়রা বলছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ক্ষতিগ্রস্ত দোকান মালিকেরা ভস্মিভূত হওয়া দোকানের সামনে এসে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি।

চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়া দোকানিরা পরিবার-পরিজন নিয়ে টিকে থাকার জন্য ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। একইসাথে ফের ব্যবসায় শুরু করতে প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তাও দরকার বলে জানিয়েছেন।

বুধবার রাতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে যাদের দোকান ভস্মিভূত হয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন আশিকুর রহমান মিনু মেম্বর, সাব্বির হোসেন, আকবর আলী, পলাশ, মিরাজুল ইসলাম, আব্দুল গফুর, প্রবীর, আবু তাহের, আমির হোসেন, নুরুল ইসলাম, কাইয়ুম আহমেদ, রিপন, এবং জাকির হোসেন।

বৃহস্পতিবার সকালে ঘটনাস্থলে যেয়ে এসব ব্যবসায়ীকে কান্নারত অবস্থায় দেখা যায়। অনেক কষ্টে স্বপ্নের দোকান পরিচালনা করে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করছিলেন এসব ব্যবসায়ী।

মুহূর্তের আগুন তাদের সব সম্বল নিঃশেষ করে দিয়েছে। এখন পরিবারের কী হবে এই চিন্তায় তারা যেনো ভাষা হারিয়ে ফেলেছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, সব দোকান মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮০ লাখ টাকা। সামনে পবিত্র ঈদ উল ফিতর। সেজন্য তারা দোকানে নতুন পোষাক তুলেছিলেন। কিন্তু, প্রথম রোজার দিন থেকেই লকডাউন শুরু হওয়ায় কেউ দোকান খুলতে পারেননি। সব মালই দোকানে ছিল।

বুধবারের আগুনে সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন জেলা পরিষদ মার্কেটের সভাপতি শহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, আগুনে মার্কেটের ১৫টি দোকান সম্পূর্ণ ভস্মিভূত হয়েছে। আরও প্রায় চারটি দোকান আংশিক পুড়ে গেছে। এসব ব্যবসায়ীকে একেবারে পথে বসিয়ে দিয়েছে ভয়ঙ্কর আগুন।

তীব্র গরমের মধ্যে আগুন লাগায় মুহূর্তের মধ্যে দাউ দাউ করে জ্বলে ওঠে। লকডাউনের কারণে শহর ফাকা থাকায় প্রথমে বিষয়টি কেউ অনুধাবন করতে পারেনি। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য জেলা প্রশাসনসহ সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

ব্যবসায়ীরা বলেন, তারা সর্বস্ব উজাড় করে পোষাকের দোকান দিয়েছিলেন। দোকান করতে যেয়ে অনেকে এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছেন, কেউ ব্যক্তি পর্যায়ে ধার নিয়েছিলেন। এই দোকানগুলোই তাদের সন্তান-সন্ততিদের নিয়ে বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। আগুন সেগুলো কেড়ে নেয়ায় তারা আগামীতে কীভাবে চলবেন তার কোনো পথ দেখছেন না।

সরকারি সহায়তা ছাড়া তাদের ঘুরে দাঁড়ানোর আর কোনো উপায় নেই বলে দাবি করেন অসহায় এসব ব্যবসায়ী।

ক্ষতির পরিমাণ বিষয়ে যশোর ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স এর সহকারী পরিচালক কামাল উদ্দিন ভূইয়া বলেছেন, ‘তদন্ত না করে কোনো কিছু বলা যাবে না।

প্রাথমিকভাবে শর্টশার্কিট থেকে অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত বলে ধারণা করা হলেও আরও খোঁজভবর নেয়া ছাড়া সঠিক কিছু বলা যাবে না’।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭৯ বার

[hupso]