শিরোনামঃ

» যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মাহাফুজুরকে পিটিয়ে হত্যা,পরিচালকসহ আটক-১৪

প্রকাশিত: ২৪. মে. ২০২১ | সোমবার

বিশেষ প্রতিনিধি।। শহরের রেলরোডে অবস্থিত যশোর মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসন কেন্দ্রে মাহাফুজুরকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে এই নির্যাতনের চিত্র পরিস্কারভাবে ধরা পড়েছে।
এ ঘটনায় কেন্দ্রের পরিচালকসহ ১৪ জনের নামে মামলা করেছেন নিহতের পিতা কামরুজ্জামান। পুলিশ সব আসামিকেই আটক করেছে।
সিসি ফুটেজে দেখা যায়, শনিবার সকাল ৭টা ৫৫ মিনিটে আট-দশজন মাহফুজুরকে ধরে মেঝেতে ফেলে রেখেছেন। এরমধ্যে কয়েকজন পা দিয়ে চেপে রেখেছেন তাকে।
অন্যরা দফায় দফায় মাহফুজুরকে মারপিট টানা ৬ মিনিটের ভিডিও’র পুরোটা জুড়ে রয়েছে মাহফুজুরের ওপর নির্মম অত্যাচারের ঘটনা।

আটক আসামিরা হলেন, প্রতিষ্ঠানের দু’ পরিচালক বারান্দী মোল্লাপাড়ার আবুল হাসেমের ছেলে মাসুদ করিম ও বারান্দিপাড়া বটতলার আনোয়ার হোসেনের ছেলে আশরাফুল কবির, চৌগাছা উপজেলার বিশ্বাসপাড়ার মশিয়ার রহমানের ছেলে রিয়াদ, কোটচাঁদপুর উপজেলার ভবানীপুর গ্রামের সাবদার রহমানের ছেলে শাহিনুর রহমান, একই গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে আরিফুজ্জামান, যশোর শহরের কাজীপাড়া মসজিদের পাশের বাসিন্দা কামরুজ্জামানের ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান, মনিহার নীলগঞ্জ সাহাপাড়ার আব্দুর রশিদ মিয়াজীর ছেলে রেজাউল করিম রানা, আরবপুর বাঁশবাড়িয়া গ্রামের আবুল কাশেমের ছেলে অহিদুল ইসলাম, হুসতলা বকচর এলাকার আবুল হোসেনের ছেলে আল শাহরিয়ার রোকন, বেনাপোল পোর্ট থানার শাখারীপোতা গ্রামের মুকুল হোসেনের ছেলে ইসমাইল হোসেন, অভয়নগর উপজেলার বুইকারা গ্রামের আসর আলীর ছেলে শরিফুল ইসলাম, বেজপাড়া টিবি ক্লিনিক এলাকার এসএম জি মুক্তাদির ছেলে এসএস সাগর আজিজ, শেখহাটি হাইকোর্ট মোড় এলাকার মৃত ফজর আলীর ছেলে নুর ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলার কলারোয়া উপজেলার বামখালী গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান ওরফে সাগর।
এর আগে নিহতের পিতা চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনিরুজ্জামান যশোর কোতোয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

মামলায় তিনি উল্লেখ করেন, মাদকাসক্ত হওয়ায় গত ২৬ এপ্রিল চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর থানা পুলিশের সহায়তায় ছেলে মাহাফুজুরকে যশোর মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে ভর্তি করেন।
২২ মে দুপুর ১টা ২৬ মিনিটে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রের পরিচালক মাসুদ করিম তাকে ফোনে জানান, মাহফুজুর অসুস্থ।  তিনিসহ তার এলাকার সাইদুর রহমান ও আক্তার হোসেন যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিছু সময় পর তাকে মোবাইল করে জানানো হয় তার ছেলে মারা গেছেন।
মরদেহ যশোর সদর হাসপাতালে রয়েছে। বাদী বিকেল  ৪টা ১৫ মিনিটে যশোরে এসে ছেলে মাহফুজুর রহমানের মরদেহ দেখতে পান। তখন সন্দেহ হওয়ায় ছেলের শরীর ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করে ডান হাতের কবজির উপর কামড়ানো দাগ, পিঠের ডান ও বাম পাশে কালচে থেতলানো দাগ, বাম কাঁধের ওপরে থেতলোনো দাগসহ বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন এবং অন্ডকোষ ফোলা দেখতে পান।

পরে বাদীসহ পুলিশ সদস্যরা মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে যেয়ে নিরাময় কেন্দ্রের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে জানতে পারেন তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে।

মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অন্য রোগীদের কাছ থেকে জানতে পারেন ২২ মে  রাত সাড়ে ১২টায় ঘুমাতে যান মাহফুজুর। ভোর ৫টা ২০ মিনিটে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘরের বাইরে যান তিনি।

এসময় নিরাময় কেন্দ্রের চিকিৎসাধীন কয়েকজন, পরিচালক মাসুদ করিম ও আশরাফুল কবিরের নির্দেশে বাদীর ছেলেকে এলোপাতাড়িভাবে মারপিটে গুরুতর জখম করে।
এসময় তারা মাহফুজুরের নাক ও মুখে অতিমাত্রায় পানি ঢালে আসামিরা। নির্যাতনে মাহফুজুর অচেতন হয়ে পড়লে আসামিরা তাকে ভ্যানে করে যশোর ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের বারান্দায় রেখে পালিয়ে যায়।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাদীর ছেলেকে অচেতন অবস্থায় পেয়ে চিকিৎসার জন্য ভিতরে নিয়ে গেলে কতর্ব্যরত চিকিৎসক দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি হিসেবে মৃত ঘোষণা করেন।
শনিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিট থেকে দুপুর একটা ৫০ মিনিটি পর্যন্ত যেকোনো সময় শারীরিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পেয়েছেন চাঁচড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ রকিবুজ্জামান।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ওসি তাজুল ইসলাম বলেন, তারা ভিডিও ফুটেজ উদ্ধার করেছেন।
এছাড়া, মামলার পর এজাহারভুক্ত ১৪ আসামিকে আটক করা হয়েছে।
আজ সোমবার তাদের আদালতে সোপর্দ করা হবে। এ বিষয়ে তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কিনা সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এদিকে, খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই প্রতিষ্ঠানে মাদকাসিক্ত চিকিৎসা সেবার নামে রোগীদের ওপর ব্যাপক অত্যাচার চালানো হয়।
গত ২৬ এপ্রিল মাহাফুজুর তিনমাসের জন্য ৪০ হাজার টাকার প্যাকেজে ভর্তি হন। কিন্তু সুস্থ হতে পারলেন না মাহফুজুর। শেষ পর্যন্ত লাশ হয়ে ফিরলেন।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫১ বার

[hupso]