শিরোনামঃ

» রামপালের সেই বিতর্কিত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে কেসিসি মেয়রের মামলা,বাকী দুজকে অন্তর্ভূক্ত করার দাবী মানুষের

প্রকাশিত: ২১. এপ্রিল. ২০২১ | বুধবার

সবুজ হাওলাদার মোংলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি।।খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আঃ খালেককে জড়িয়ে ফেসবুকে অপপ্রচার করায় রামপালের সাংবাদিক পরিচয়ধারী এক ব্যাক্তির বিরদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

এ মামলায় দৈনিক লোকসমাজের ও এনিটিভি’র খুলনা প্রতিনিধি আবু তৈয়বকেও আসামী করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পরপরই অভিযান চালিয়ে আবু তৈয়বকে আটক করেছে খুলনা থানা পুলিশ।

খুলনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল আলম জানান, মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা সিটি মেয়র তালুকদার আঃ খালেক বাদী হয়ে খুলনা সদর থানায় এ মামলাটি দায়ের করেন।

সবুর রানা নিজেকে যশোরের স্থানীয় দৈনিক লোকসমাজ পত্রিকার রামপাল প্রতিনিধি এবং বাগেরহাট থেকে প্রচারিত অনলাইন পত্রিকা বাগেরহাট টুয়েন্টিফোর ডটকমের রামপাল প্রতিনিধি হিসাবে পরিচয় দিয়ে থাকে।

জানা গেছে, গত শনিবার (১৭ এপ্রিল) আবু তৈয়ব খুলনা সিটি মেয়রকে জড়িয়ে তার ফেসবুকে একটি আপত্তিকর পোষ্ট দিয়েছিলেন।

সেই পোষ্টটি সবুর রানা তার ব্যাক্তিগত ফেসবুক থেকে পুনরায় ১৮এপ্রিল পোষ্ট করে। এরপর হুড়কা ইউনিয়নের গঙ্গাধর মজুমদারের পুত্র সুজন মজুমদার ও রামপালের বারিক মল্লিকের পুত্র মোতাহার মল্লিক ও ১৮ এপ্রিল তাদের ফেসবুক থেকে আবার সেটি পুনরায় পোষ্ট করে।

সবুর রানা, সুজন মজুমদার ও মোতাহার মল্লিক মূলত ফেসবুকে পোষ্টটি দিয়ে বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ ও খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আঃ খালেক মহোদয়কে নিয়ে অপপ্রচার ও বিতর্ক ছড়ানোর হীন চেষ্টা করে। এর পরপরই মূহুর্তেই পোষ্টটি রামপালে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

মামলার বিষয়টি জানতে পেরে সবুর রানা দ্রুত সেই পোষ্টটি তার ফেসবুক থেকে ডিলিট করে দেয়। সবুর রানার নামে মামলা হওয়ায় সুজন মজুমদার এবং মোতাহার মল্লিক ও পোষ্টটি তাদের ফেসবুক থেকে সরিয়ে ফেলে।

উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে, সবুর রানা সাংবাদিকতার নাম ব্যবহার করে চাঁদাবিাজি করতে গেলে মল্লিকেরবেড় ইউনিয়নের লাকি বেগম ২০১১ সালে তার বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করে এবং এ নিয়ে কয়েক দফা সে জেল ও খাটে।

এরপর শ্রীফলতলা গ্রামের বিধান কুন্ড নামে এক ব্যাক্তির কাছে চাঁদা চাইলে সে সবুর রানা সহ সুজন মজুমদার ও মোতাহার মল্লিকের বিরুদ্ধে ২৪ এপ্রিল , ২০১৮ র‌্যাব-৬ ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে চাঁদাবাজির অভিযোগ দায়ের করেছিল।

সবুর রানার চাঁদাবাজির সংবাদ ২১/৫/২০১৮ ইংরেজী তারিখে দৈনিক পূর্বাঞ্চল পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছিল।

সবুর রানা, সুজন মজুমদার, মোতাহার হোসেন ও এইচ. আমিনুল ইসলাম নান্টুর অপসাংবাদিকতার বিরুদ্ধে রামপালে ৩০/৭/২০১৯ ইংরেজী তারিখে মানব বন্ধন ও হয়েছিল।

এ সব অভিযোগের কারনে তাকে রামপাল প্রেসক্লাব থেকেও বহিস্কার করা হয়। তার পর থেকে সে বিভিন্ন অভিযোগে অভিযুক্ত অপর সহযোগী সুজন, মোতাহারদের সাথে নিয়ে “রামপাল প্রেসক্লাব” নামকে বিকৃত করে “প্রেসক্লাব রামপাল” নামের একটি মনগড়া সংগঠন তৈরী করে নিজেকে সভাপতি হিসাবে দাবী করতে থাকে।

নাম দুটির সাদৃশ্য থাকার কারনে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাগণ ও সাধারণ মানুষ বিষয়টি একই মনে করে তাদের ফাঁদে পা দেয়।

মামলা দায়েরের পর থেকে সবুর এলাকায় গাঁ ঢাকা দিয়েছে। সুজন এবং মোতাহারের নামে মামলা না হওয়ায় তারা এখনও বেশ ফুরফুরে মেজাজে রয়েছে। তাদেরকে ও মামলায় আসামী করার দাবী জানিয়েছেন এলাকার রাজনীতিবিদ ও সাধারন জনগন।

অপরদিকে, তালুকদার আঃ খালেকের মত একজন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদকে জড়িয়ে ফেসবুকে আপত্তিকর প্রচারের জেরে এলাকাবাসী এবং নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

তারা দ্রুত সবুর রানা সহ সুজন ও মোতাহারকে আটকের দাবী জানিয়েছেন।।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এলাকার অনেকে জানিয়েছেন যে, পত্রিকা যদি চাঁদাবজি সহ নানা গুরুতর অভিযোগে অভিযুক্ত ব্যাক্তিদের না জেনে শুনে প্রতিনিধি দেয়, তাহলে সাধারন মানুষের ভোগান্তির আর শেষ থাকেনা।

সকল পত্রিকা প্রতিনিধি দেয়ার পূর্বে যেন যাচাই বাচাই করে প্রতিনিধি দেয়, এ দাবী রামপালের সাধরন মানুষের।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৭৩ বার

[hupso]