শত অপকর্ম করেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে ইবির আলোচিত প্রক্টর

প্রকাশিত: ৯:২০ অপরাহ্ণ, জুন ২৫, ২০২০

বিশেষ প্রতিনিধি: কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আলোচিত একজন শিক্ষক। বাড়ি উত্তরাঞ্চলে। নানাভাবে আলোচিত-সমালোচিত পরেশ এখন ইবির প্রক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজের অভিযোগ থাকার পরও শুধুমাত্র ভিসি প্রফেসর ড. হারুন-উর-রশিদ আসকারী ও সাবেক প্রক্টর প্রফেসর ড. মাহবুবর রহমান বিশ্বস্ত শিপাহশালা হওয়ার কারনে তাকে এ পদে রাখা হয়েছে। প্রতিদিন রাতে তিনি বেমাসাল অবস্থায় থাকেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। তার অফিসে রাতে অনেকের আসা যাওয়া রয়েছে। এর আগে তিনি ধরাও পড়েন অনৈতিক কাজ করে।

বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা জানান,‘ বর্তমান প্রক্টর নিজেই নানাভাবে আলোচিত। তার অতীত কর্মকান্ড নানা বিতর্কের। তিনি অপকর্ম করতে গিয়ে এর আগে ধরাও পড়েন। তার বিরুদ্ধে মাদক সেবনের মত গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। তিনি ক্যাম্পাসের গাড়িতে এসব মাদক নিয়ে ঘোরেন বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।

জানা গেছে, বর্তমান ভিসি ও সাবেক প্রক্টরের অতি ঘনিষ্ট হওয়ার কারনেই এ পদে তাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। প্রক্টর তিনি হলেও সাবেক প্রক্টরের ইশারায় সব কিছু চলে।

শিক্ষকরা বলেন, এ ভিসির আমলে বেশ কয়েকটি বড় প্রকল্পের দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। তিনি যেনতেনভাবে প্রকল্প শেষ করেই কোটি কোটি টাকা বিল উত্তোলন করেন। যে প্রকল্পের নামে বিল তোলা হয়েছে সেই সব কাজের মান একেবারে নিন্মমানের করা হয়েছে, কোন রকমে কাজ করেই তোলা হয়েছে বিল। অথচ বছর না ঘুরতেই সেসব যন্ত্রপাতির বেশির ভাগ অচল। কোন কাজে আসে না।

শিক্ষক নেতাদের অভিযোগ, ইনফরমেশন ও কমিউনিকেশন টেকনোলজি বিভাগের প্রফেসর ড. পরেশ চন্দ্র বর্ম্মন নিয়োগ বাণিজ্যের অন্যতম হোতা সাবেক প্রক্টর মাহবুবর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর হওয়ায় তার অপকর্মের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয় না। পরেশ হেকেপ প্রজক্টের এসপিএম থাকাকালিন সময় কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি অটোমেশনের জন্য ৪ কোটি ৬২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ পান। এ টাকার তেমন কোন কাজ না করেই কিছু কম্পিউটার মনিটর ও অন্যান্য যন্ত্রপাতি ক্রয় করে পুরো বিল তুলে নেয়া হয়। সাবেক প্রক্টরের সহযোগিতায় তিনি এসব বিল তুলে নেন বলে আলোচনা রয়েছে ক্যাম্পাসে।

বিষয়টি চাউর হয়ে যাওযায় ইউজিসি থেকে বারবার তদন্তের বিষয়ে বলা হলেও ভিসি ও সাবেক প্রক্টরের হস্তক্ষেপে তদন্ততো দুরে থাক সব বিষয় ধামাচাপা দিয়েছেন পরেশ। একইভাবে আইটি সেল এর পরিচালক থাকার সময় ক্যাম্পাসে সিসিটিভি ক্রয়ে অনিয়মের আশ্রয় নিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করেন। নিম্নমানের ক্যামেরা কিনে বেশি দাম দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেন।

২০১৬ সালে ঝিনাইদহ জেলায় অবস্থিত ক্যাম্পাসের ক্লাবে অনৈতিক কাজের সময় তিনি ধরা পড়েন বলেন একাধিক সূত্র জানায়। এরপর মুচলেকা দিয়ে তিনি পার পান।

ইবি বঙ্গবন্ধু পরিষদের কয়েকজন শিক্ষক ও একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করে বলেন, পরেশ নিয়মিত মাদক সেবন করে। আমাদের দাবি তার ডোপ টেষ্ট করা হোক। আমরা ইবি প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ জানাবো তারা বিষয়টি সিরিয়াসলি দেখলেই প্রমাণ হয়ে যাবে আসলে তিনি মাদক গ্রহণ করেন কি-না।

অভিযোগ রয়েছে, তিনি বেশির ভাগ সময় বেসামাল থাকেন। তার বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ নিয়ে সবসময় কটুক্তি করাসহ সাধারন শিক্ষার্থীদের মারধরের মত অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে প্রক্টর পরেশ চন্দ্র বর্ম্মণ বলেন,‘ কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে আমি মাদক সেবন করি, তাহলে ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে যাব। আর আমি যে প্রকল্পের প্রধান ছিলাম সেই প্রকল্পে কোন অনিয়ম হয়নি। আর ইউজিসি থেকে তদন্ত করতে বলা হয়েছে এমন বিষয় আমার জানা নেই।