শিরোনামঃ

» শার্শার বাগআঁচড়া আল-মদিনা ক্লিনিকের বিরুদ্ধে নবজাতক বিক্রির অভিযোগ

প্রকাশিত: ৩০. নভেম্বর. ২০১৯ | শনিবার

নিজস্ব  প্রতিবেদক: যশোরের শার্শার বাগআঁচড়া আল-মদিনা ক্লিনিকে খোদেজা নামে এক প্রসূতির মৃত্যু হয়েছে। এরপর ওই নবজাতককে ৪ লাখ টাকার বিনিময়ে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে।

সূত্র জানায়, ২২ নভেম্বর ওই ক্লিনিকে বাগআঁচড়া শংকরপুর গ্রামের খোকা খার মেয়ে খোদেজা সিজারিয়ান অপারেশন করতে যান।
এর আগেও তিনি ক্লিনিটিকে চিকিৎসা নেন।
পরদিন শনিবার সকাল সকাল ৯ টার দিকে ডাক্তার এবিএম আক্তার মারুফ অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে তাকে যশোর জেনারেল হাসপাতালে পাঠান।

কিন্তু পথে নাভারন তার মৃত্যুবরণ হয়। এর আগেও তিনি একটি নবজাতকের জন্ম দেন। ডাক্তার এবিএম আক্তার মারুফ নাভারণ সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক। প্রসূতি খোদেজার বড় বোন সফুরা বেগম ও তার মা জানান, ২২ শে নভেম্বর খোদেজাকে সিজার করার জন্য আল-মদিনা ক্লিনিকে নেওয়া হয়।

ঐদিন ডাক্তার মারুফ এবং হাসপাতালের মালিক কামরুজ্জামান তার রক্তশূন্যতা আছে বলে জানান। বলেন, অপারেশন করার সময় রক্ত দেয়া হবে। সফুরা বলেন, রাতে তাদের কামরুজ্জামান জানান, রক্ত পাওয়া গেছে। সকালে তাকে রক্ত দিয়ে অপারেশন করা হবে। সকালে রক্ত আসার আগে প্রসূতির কোমরে ব্যাথা হয়। ব্যাথা উঠার পর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানালে তারা একটি ইনজেকশন দেয়।ইনজেকশনের পর তার ব্যাথা আরো প্রচন্ড হয়। এরপর স্বাভাবিক ভাবে কন্যা সন্তান প্রসব করেন।
তবে,এদিকে প্রসূতি খোদেজার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হওয়ার ফলে, আল-মদিনা ক্লিনিকের মালিক ডাক্তার হিসেবে পরিচিত কামরুজ্জামান ও নাভারন হাসপাতালের ডাক্তার এবিএম আক্তার মারুফ ঔষধ দিয়ে তাকে সুস্থ করে তোলার চেষ্টা করেন।সে চেষ্টা তাদের ব্যর্থ হওয়ায় বেলা ১২ টার সময় যশোর নিয়ে যেতে বলেন।

যশোর নিয়ে যাওয়ার পথে নাভারন পৌছালে প্রসূতি মারা যান। তারপরও যশোর সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নবজাতক কোথায় জানতে চাইলে সফুরা ও তার মা জানান, হাসপাতালের ডাক্তার কামরুজ্জামান ঢাকার একজন উকিলের সাথে যোগাযোগ করে তাকে দিয়ে এসেছেন। তারা বলেন, খোদেজার স্বামী ভারতে থাকে। তাকে আমরা জানিয়েছি,খোদেজা মারা গেছে।বাচ্চা একজন নিয়ে গেছে লালনপালনের জন্য। এতে সে কোনো আপত্তি করেনি।

স্থানীয় সূত্র জানায়, খোদেজার স্বামী সেলিমকে সফুরা ও তার মা ফোনে জানিয়েছেন,খোদেজা ও তার বাচ্চা মারা গেছে। কিন্তু, তারা এই বাচ্চাটিকে আল-মদিনা ক্লিনিকের মালিক কামরুজ্জামানের যোগাযোগ করে ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছেন।সেটা সেলিমকে বলেননি। আল-মদিনা ক্লিনিকের মালিক কামরুজ্জামান বলেন, শিশুটিকে ঢাকার একজন ব্যবসায়ী নিয়ে গেছেন। খোদেজা মারা যাওয়ার পর শিশুটিকে লালনপালনের মত কেউ ছিলো না ওই পরিবারে।শিশুটির নানি এবং খালা আগে থেকে ঢাকার একজন ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ করে দিয়ে দিয়েছেন। তবে,তারা বিক্রি করেননি।ঢাকার ওই ব্যক্তির ফোন,মোবাইল নাম্বার ও ঠিকানা চাইলে তিনি তা দেননি।

নাভারন হাসপাতালের ডাক্তার এবিএম আক্তার মারুফ বলেন, তার তো সিজার হয়নি। তার নরমাল ডেলিভারি হয়ে মারা গেছে এমনটি শুনেছি। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে ওই ক্লিনিকে ডিপ্লোমা ছাড়া তিনজন নার্স আছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭৭৪ বার

[hupso]
সর্বশেষ খবর
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর শতবর্ষেরও আগে ভারতের সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। সেসময়…