শিরোনামঃ

» শার্শায় নিজ কন্যাকে হত্যা করে গর্ভবর্তী মায়ের আত্মহত্যা

প্রকাশিত: ০২. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | রবিবার


বিশেষ প্রতিনিধি: যশোর জেলার শার্শা উপজেলার লক্ষণপুর ইউনিয়নের শিকারপুর গ্রামের আল মামুনের গর্ভবতী স্ত্রী জুলেখা খাতুন (২৪) নিজের কন্যা সন্তান আমেনা কে (৪) হত্যার পর নিজে আত্মহত্যা করেছে। জুলেখার গর্ভে ৭ মাসের সন্তান ছিল আছে বলে জানা যায়। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে আটটার সময় এই হত্যা ও আত্মহত্যার ঘটনাটি ঘটে। একই গ্রামের বাসিন্দা মৃত জুলেখার চাচা তরিকুল ইসলাম জানায়,গত পাঁচ ছয় মাস পূর্বে শার্শা লক্ষণপুর ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুর গ্রামের আলাউদ্দিন গ্যাদন এর মেয়ে জুলি বেগম (২২) এর একটি স্বর্ণের চেইন হারিয়ে বা চুরি হয়ে যায়।গত ১ ফেব্রুয়ারি সকাল দশটার সময় জুলেখার কন্যা আমেনা চকলেট কিনতে আলাউদ্দিন গ্যাদনের দোকানে গেলে তার মেয়ে জুলি বেগম আমেনার গলা থেকে তারই চুরি হওয়া স্বর্ণের চেইন মনে করে জোড়  করে খুলে নেয়। এই ঘটনার জের ধরে হারানো স্বর্ণের চেইনের মালিক জুলি বেগম শিকারপুর গ্রামের আল মামুনের বাসায় প্রমাণের জন্য এলে মামুনের স্ত্রী জুলেখা খাতুন এর সাথে কথা কাটাকাটি হয়। জুলেখা জুলি বেগমকে বলেন ,এটি আমার মায়ের গিফট করা চেইন,আমার মা এই স্বর্ণের চেইনটি আমাকে বানিয়ে দিয়েছে৷কিন্তু আমার মা ঢাকায় কর্মরত আছে বিধায় শুক্রবার ছাড়া এলাকায় আসতে পারবেনা বলে মোবাইল ফোনে তৎক্ষনাত জানায়। প্রমাণ যথাযথ মনে না হওয়ায় স্বর্ণের চেইন খোয়া যাওয়া অভিযুক্ত জুলি বেগম তার বাসায় ফিরে যান। জুলি খাতুনের মামাতো ননদ একই গ্রামের শরিফুল ইসলামের মেয়ে সীমা খাতুন (১৫) জানায় আজ সকালে আটটার দিকে তার ভাবীকে অনেক ডাকাডাকির পর কোন সাড়া শব্দ না দেওয়ায় সন্দেহ হয়৷ তখন জানালা দিয়ে উকি মারলে দেখতে পায় ভাবী বাশেঁর আড়ার সাথে ঝুলে রয়েছে। তখন আমার চিৎকারে আশপাশের পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে এলে, দরজা ভেঙে ঘরের ভিতরে প্রবেশ করে লাশটি নামানোর পর ঘাটের উপরে আমার ভাইয়ের মেয়ে আমেনার নিথর দেহটি পড়ে থাকতে দেখি। পরে এলাকাবাসী শার্শা থানায় ও স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যানকে খবর দেয়। গর্ভবতী মা'সহ দুটি সন্তানের মৃতের ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যর সৃষ্টি হয়েছে।এলাকাবাসীর ধারণা অপমানের বোঝা সইতে না পেরে জুলেখা তার নিজ কন্যা সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর নিজে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে৷গ্রামবাসী সুষ্ঠু তদন্তের পর দোষীদের শাস্তি দাবি করেছে। জুলেখার স্বামী আল মামুন বলেন, আমার শাশুড়ি রোজার মাসে আমার স্ত্রীকে একটি স্বর্ণের চেইন দিয়েছে, সে ব্যাপারে আমি অবগত আছি। আমার শাশুড়ি প্রমাণের জন্য শুক্রবারে আসার কথা।আমি আজ সকালে কাজে যাওয়ার পর আমার ভাইয়ের মোবাইল করে জানায় আমার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছে৷ নাভারন সার্কেলের এএসপি জুয়েল ইমরান সাংবাদিকদের বলেন লাশ দুইটি পোস্টমর্টেমের জন্য যশোর সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য  জুলি বেগম  ও তার মাকে পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৭৯৫ বার

[hupso]
সর্বশেষ খবর
২০২০ এশিয়া কাপ হবে পাকিস্তানে। তবে রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে সেখানে…