শিরোনামঃ

» শার্শা-বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে ভারতে যাচ্ছে স্বর্ণ আসছে মাদক

প্রকাশিত: ২৮. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | শুক্রবার

দেশের দক্ষিন- পশ্চিমাঞ্চাল সীমান্ত বেনাপোল ও শার্শা দিয়ে ভারতে কোটি কোটি টাকার সোনা ডলার পাচার হচ্ছে, আর ওপার থেকে আসছে মাদক।

আন্তর্জাতিক সোনা চোরাকারবারিরা বেনাপোলকেই ব্যবহার করছে নিরপদ রুট হিসাবে। ভারতে পাচার হওয়া সোনা ও ডলারের বিনিময়ে আসছে ফেনসিডিল, গাজা ও হোরোইন। বিজিবি ও পুলিশের হাতে প্রায়ই সোনা ডলার ও মাদক সহ চোরাকারবারিরা আটক হলেও থেমে নেই তাদের অবৈধ ব্যবসা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবাধে চলছে এসব ব্যবসা।

সুত্র মতে বেনাপোল ও শার্শাা সীমান্ত অঞ্চলের গোগা রুদ্রপুর পুটখালী, দৌলতপুর, সাদিপুর, রঘুনাথপুর, শিকারপুর, পাকশিয়া দিয়ে বেশীর ভাগ সোনা ডলার পাচার হচ্ছে এবং ভারত থেকে তার বিনিময় আসছে ফেনসিডিল, মদ, গাজা হেরোইন। সাম্প্রতিক সময়ে বেনাপোলের ভবারবেড় রেল ষ্টেশন এলাকায় প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে ফেনসিডিল।

এখানে কয়েকটি বাড়িতে খুচরা ও পাইকারি ফেনসিডিল বিক্রি হয়ে থাকে । এরা অভিনব কায়দায় এসব ফেনসিডিল ইট বেধে পুকুরে ডুবিয়ে রাখে কখনো চুলার ভিতর আবার নির্জন পরিত্যাক্ত জায়গায় লুকিয়ে রাখে ।

এসব জায়গা থেকে বেনাপোল বিজিবি ও পোর্ট থানার পুলিশ কয়েক দফায় ফেনসিডিল উদ্ধার করেছে। আবার কয়েকজনকে ফেনসিডিল সহ আটকও করেছে। আবার অভিযোগও উঠেছে কাউকে কাউকে আটকের পর ছেড়েও দিয়েছে কোন এক অজানা কারনে।

সম্প্রতি বেনাপোল এর ভবারবেড় গ্রাম থেকে এক নারীকে ডিবি পুলিশ আটক করে ২ ঘন্টা পর ছেড়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ করেন ওই এলাকার একজন বাসিন্দা। তবে সে শর্ত জুড়ে দেন তার নাম প্রকাশ না করার। তার নাম প্রকাশ করলে তাকে নানান হয়রানির বা জীবন নাশের মত ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি বলেন।

সুত্র মতে চোরাচালানীরা বড় চালান পাচার করার সময় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি কে ব্যাস্ত রাখে ছোট ছোট ইনফরমেশন দিয়ে। এবং ওইসব ছোট ছোট চালান সীমান্ত রক্ষীরা আটক করতে যেয়ে পাচার হয়ে যায় বড় বড় চালান। যার ফলে বিপুল পরিমান স্বর্ন পাচার হয় ভারতে। আর বাংলাদেশে আসে বিস্ফোরক, যুবসমাজ ধ্বংসের প্রধান নিয়ামক ফেনসিডিল, যৌন উত্তেজক ওষুধ ভায়াগ্রা এনাগ্রা, আগ্নেয়াস্ত্র আর বোমা। তবে রুপার মত চালান ও আসে মাঝে মধ্যে।

বেনাপোল চেকপোষ্টের ব্যবসায়ি এস এম মারুফ বলেন, বেনাপোল সীমান্তের প্রতিটি অলি গলিতে ডিমের খোসার মত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে ফেনসিডিলের বোতল। সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রতিদিন দেখতে হয় এসব মাদক এর বোতল।
সম্প্রতি গত ৪ জানুয়ারী যশোর -বেনাপোল সড়ক থেকে মেহেদী হাসানকে ৫৮৭ বোতল ফেসিডিল সহ আটক করে বিজিবি, ৭ জানুয়ারী নাভারন যাদবপুর থেকে ৩৯২ বোতল ফেনসিডিল সহ মিজানুর রহমান ও মফিজুর রহমানকে আটক করে।

২৩ জানুয়ারী আমড়াখালী থেকে রিংকু নামে এক যুবককে ৭৮ বোতল ফেনসিডিল সহ আটক করে বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশ, ২৭৭ বোতল ফেনসিডিল সহ ২২ জানুয়ারী আটক করে শফিকুল নামে এক যুবককে পুলিশ।

৩ ফেব্রয়ারী জাকির হোসেন নামে এক যুবককে ১২৫ বোতল ফেনসিডিল সহ আটক করে পুলিশ। ৫ ফেব্রুয়রী সীমান্তের সাদিপুর থেকে জিহাদ নামে এক যুবককে ১০ টি স্বর্নের বার সহ আটক করে বিজিবি। ৮ ফেব্রয়ারী ৩ কেজি ৪শত ২৮ গ্রাম স্বর্ন সহ বড়আঁচড়া গ্রাম থেকে ইকবাল হোসেন নামে আটক করে এক যুবককে বিজিবি।

১৫ ফেব্রয়ারী দৌলতপুর সীমান্ত থেকে পরিত্যাক্ত অবস্থায় ২০৮ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করে পুলিশ। তবে মালের মালিক হিসাবে আরমান আলমগীর ও মুক্তার নামে তিনজনের নামে মামলা দিয়েছে ।২৩ ফের্রুয়ারী কালিয়ানী থেকে তবিবর রহমান নামে একজনকে ৩১ পিছ ইয়াবা সহ আটক করে বিজিবি। ২৫ ফেব্রয়ারী অভিনব কায়দায় জামার পকেটে ফেনসিডিল পাচারের সময় ৩৩ টি পকেট থেকে ৩৩ বেতাল ফেনসিডিল উদ্ধার করে বিজিবি।
এব্যাপারে বেনাপোল পোর্ট থানার এ এসআই শাহিন ফরহাদ বলেন, আমরা মাদক ব্যবসায়িদের ব্যাপারে যথেষ্ট তৎপর রয়েছি। যারা মাদকের সাথে জড়িত তাদের কাউকে কোন ছাড় দেওয়া হবে না। আগের চেয়ে ফেনসিডিল বেশী উদ্ধার হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বেনাপোল কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার লাল বলেন, আমি নতুন আসছি । তবে ফেনসিডিল মনে হয় বেশী ভারত থেকে আসছে। সীমান্তের এলাকা বড় আমাদের জনবল ও কম। তারপরেও আমরা তৎপর। আজও ২২৫ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করেছি। আমদের কাছে কোন মাদক ব্যবসায়ির ছাড় নেই।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৬৭ বার

[hupso]
সর্বশেষ খবর
রাজধানী শহর ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় পরিবেশের সবচেয়ে বেশি বিপর্যয়…