শিরোনামঃ

» সংক্ষিপ্ত সময়ে স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ নিশ্চিত করে বাজেট পেশ

প্রকাশিত: ০৩. জুন. ২০২১ | বৃহস্পতিবার

বেত্রাবতী ডেস্ক।।করোনাকালের দ্বিতীয় বাজেট সংক্ষিপ্ত সময়ে পেশ করা হয়েছে।

গত বছর মাত্র পৌনে এক ঘণ্টায় পেশ করা হলেও এবার ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনে সময় লেগেছে দেড় ঘন্টা।

অধিবেশনের শুরুতে ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে ৫০ বছরে বাংলাদেশের অগ্রগতি ও সমৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরা হয়।

করোনা পরিস্থিতির কারণে স্বাস্থ্যবিধি শতভাগ নিশ্চিত করে অধিবেশন পরিচালনা করায় বাজেট পেশকালে অধিবেশনে উৎসবের আমেজ দেখা যায়নি। বরং সর্বত্র ছিলো কঠোর সতর্কতা।

অধিবেশনের দ্বিতীয় দিনে বৃহস্পতিবার বেলা ৩টায় স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়। এ সময় সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সহ স্বল্প সংখ্যক সংসদ সদস্য উপস্থিত ছিলেন। বাজেট পেশের পর বৈঠক শেষ হয় ৪টা ৩২ মিনিটে।

বাজেট পেশ ছাড়াও এ সময় অর্থবিল- ২০২০ পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। আগামী ২৯ জুন এই বিল পাস হবে। আর বাজেট পাস হবে ৩০ জুন।

এর আগে আগামী রবিবার থেকে বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনা শুরু হবে। সবমিলিয়ে বাজেট বাজেট পাসের প্রক্রিয়া ১০ দিন সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

এদিকে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপনের শুরুতেই ১৯৭১ থেকে আজ পর্যন্ত বাংলাদেশকে ভিডিও চিত্রের মাধ্যমে তুলে ধরা হয়।

সংক্ষিপ্ত পরিসরে উত্থাপিত লিখিত বাজেট বক্তৃতা ছিল ১৯২ পৃষ্ঠার।

গত কয়েক অর্থবছরে বাজেট পেশের পাশাপাশি তার চুম্বক অংশ পাওয়ার পয়েন্ট উপস্থাপনায় দেখানো হলেও এবারই প্রথম অর্থমন্ত্রী পাঠ না করে প্রায় পুরো অংশই ডিজিটাল পদ্ধতিতে উপস্থাপন করেন।

সেখানে কীভাবে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে বঙ্গবন্ধুর বলিষ্ঠ নেতৃত্বে আজ বিশ্বের ৪১তম বৃহৎ অর্থনীতির দেশ হয়ে উঠলো সেই বিষয়টি দেখানো হয়।

উপস্থাপনার শুরুতেই বলা হয়, শূন্য ক্যানভাসে কী নিঁখুত শিল্পীর মতো পূনঃ র্গঠনের ছবি আঁকা শুরু করেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

পরিকল্পনা কমিশন, কৃষি গবেষণা, বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, পরমাণু শক্তি কমিশন, বিসিএসআইসহ সবগুলো অপরিহার্য প্রতিষ্ঠান হয় বঙ্গবন্ধু জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান নির্মাণ করে গেছেন, বা প্রতিষ্ঠান হয়ে ওঠার শুরুটা করে দিয়ে গেছেন। সোনার বাংলা গঠনের মজবুত ভীত তার হাতেই।

প্রতিবছর বাজেট পেশের দিনটিতে সংসদ ভবন জুড়ে থাকে উৎসবের আমেজ। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে গত বছর থেকে ভিন্ন চিত্র দেখা যাচ্ছে।

সংসদ ভবন এলাকায় প্রবেশে ছিলো কড়াকড়ি। করোনা সকলকে নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেখিয়ে ভিতরে প্রবেশ করতে হয়েছে। আর মূল ভবনে স্বল্প সংখ্য কর্মকর্তা-কর্মচারী দায়িত্ব পালন করেছেন।

সংসদ ভবনের প্রবেশমুখে সকলকেই জীবাণুনাশক স্প্রে করা হয়। এমপিসহ সংশ্লিষ্টদের তাপমাত্রা মাপা হয়। অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত সংসদ সদস্যরা বিগত দিনের আসন বন্টন এড়িয়ে করোনা সতর্কতা মেনে আসন গ্রহণ করেন।

অধিবেশন কক্ষে এক থেকে দু’টি আসন পর পর তারা বসেছিলেন। অধিকাংশের মুখে মাস্ক, হাতে গ্লোভস ও মাথায় ক্যাপ ছিলো। সংসদ পরিচালনায় দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরাও একই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

প্রতিবছরই বাজেট উত্থাপনের দিন বিভিন্ন দেশের কূটনীতিকগণ, রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত থাকলেও এবার কাউকে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

আগেই সাংবাদিকদের প্রবেশাধিকার স্থগিত করা হয়। তবে বরাবরের মতো রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ সংসদে উপস্থিত থেকে বাজেট পেশ প্রত্যক্ষ করেন।

অধিবেশন শুরুর আগে প্রস্তাবিত বাজেটে স্বাক্ষর করেন তিনি। দুপুরে জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত মন্ত্রীসভার বিশেষ বৈঠকে ওই বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, একই সতর্কতা মেনে আগামী রবিবার থেকে বাজেটের উপর সাধারণ আলোচনা শুরু হবে।

প্রতিদিন বেলা ১১ টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত আলোচনা চলবে। সংসদ সদস্যরা কে, কবে অংশ নিবেন তা ইতোমধ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। আগামী সোমবার সম্পুরক বাজেট পাস হবে। এরপর আগামী অর্থ বছরের বাজেটের ওপর আলোচনা শুরু হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪২ বার

[hupso]