শিরোনামঃ

» সাতক্ষীরায় অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ ছেলে কে আটকে রাখলেন এএসআই, মারা গেলেন বাবা

প্রকাশিত: ০৯. জুলাই. ২০২১ | শুক্রবার

বিশেষ প্রতিনিধি।।সাতক্ষীরায় অসুস্থ বাবার জন্য অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছিলেন ছেলে। পথে শহরের ইটাগাছা হাটের মোড়ে এএসআই সুভাষ চন্দ্র ছেলেকে দু’ঘণ্টা আটকে রাখায় অক্সিজেনের অভাবে অসুস্থ বাবার মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অক্সিজেনের অভাবে মারা যাওয়া ব্যাক্তির নাম রজব আলী মোড়ল (৬৫)। তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বৈচনা গ্রামের বাসিন্দা।করোনা উপসর্গ নিয়ে তিনি বাড়িতে চিকিৎসা ধীন ছিলেন।

বৃদ্ধ’র ছেলে ওলিউল ইসলাম জানান, করোনা উপসর্গ নিয়ে বাড়িতে অসুস্থ বৃদ্ধ পিতা।

জরুরী অক্সিজেন প্রয়োজন হওয়ায় বৃহস্পতিবার সকাল দশটার দিকে সাতক্ষীরা থেকে একটি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে বাড়িতে যাচ্ছিলেন।

পথিমধ্যে ইটাগাছা হাটের মোড়ে পৌঁছালে তাকে আটক করেন ইটাগাছা ফাঁড়ির এএসআই সুভাষ চন্দ্র এবং লকডাউনে বাইরে বেরিয়েছে বলে তার কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন।

দাবীকৃত টাকা দিতে না পারায় তাকে দুই ঘন্টা সেখানে আটকে রাখা হয়। পরে ইটাগাছা এলাকার জনৈক জিয়াউল ইসলামের মধ্যস্থতায় ২০০ টাকা নিয়ে এএসআই সুভাষ তাকে ছেড়ে দেন। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরী হয়ে গেছে। বাড়িতে গিয়ে দেখেন পিতা অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছেন।

আবেগ আপ্লুত কণ্ঠে তিনি বলেন, যদি সময় মতো অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে বাড়িতে যেতে পারতাম তাহলে হয়তো পিতাকে বাঁচানো সম্ভব হতো।তিনি এই অমানবিক ঘটনার বিচার দাবি করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির একাধিক পুলিশ সদস্য বলেন, সুভাষের কারণে পুলিশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হচ্ছে।

এ বিষয়ে ইটাগাছা পুলিশ ফাঁড়ির এএসআই সুভাষ চন্দ্র বলেন, কটি অক্সিজেন সিলিন্ডার নিয়ে দ্রুত গতিতে ওই ব্যক্তি মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। আমি তাকে থামিয়ে কাগজপত্র দেখতে চেয়েছিলাম। কাগজ দেখাতে না পারায় তার গাড়িটি আটক করে রেখে তাকে অন্য একটি ইজিবাইকে সিলিন্ডার নিয়ে চলে যেতে বলেছিলাম কিন্তু সে মোটরসাইকেল না নিয়ে যেতে রাজি হয়নি।

বিষয়টি ট্রাফিক ইন্সপেক্টরকে জানালে তিনি মোটর সাইকেলটি ছেড়ে দিতে বলেন। এর মধ্যে সামান্য সময় দেরি হয়েছে। পরে শুনলাম তার বাবা মারা গেছেন।

এ বিষয়ে সাতক্ষীরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) সজিব খান সাংবাদিকদের বলেন,বিষয়টি তিনি জেনেছেন। অভিযুক্ত এএসআই সুভাষ এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ১৪৮ বার

[hupso]