সর্বশেষ খবর :
মুজিববর্ষ

» মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়নে মানবিক মূল্যবোধ ও নৈতিক শিক্ষার বিকল্প নেই–আবু সুফিয়ান,উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মাগুরা সদর

প্রকাশিত: ০৬. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

সব প্রাণিই জন্মের পর প্রাণি, কেবল মানুষকেই মানুষ হওয়ার জন্য কঠোর অনুশীলন করতে হয়। যেতে হয় সামাজিক একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে। কাজটি যে যত দ্রুত ও আন্তরিকতার সাথে করতে পারে, সেই তত দ্রুত সমাজে প্রতিষ্ঠা লাভ করে।

লেখাপড়া শেখার প্রয়োজন আছে অবশ্যই সেটা আমাদের শিক্ষিত করে । কিন্তু প্রকৃত শিক্ষাটা আসে পরিবার, বিদ্যালয়, সহপাঠী তথা সামাজিক পরিবেশ থেকে ,এজন্য সুন্দর সুস্থ্য পরিবেশ মানসম্মত শিক্ষায় বিকল্প নেই। মানসম্মত শিক্ষার জন্য অনেক বিষয় রয়েছে।

বিষয়গুলি নিয়ে সংক্ষিপ্তভাবে আলোচনা করা হল। যদিও আরো অনেক বিষয় রয়েছে।

# ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি শিক্ষকমন্ডলী ও পরিচালনা পরিষদের সদস্যদের জন্য নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের জ্ঞান থাকা কেবল আবশ্যকই নয় তার চর্চা করাও জরুরী। *শিক্ষক কেবল প্রতিদিনের পড়া প্রতিদিন করাবেন তা নয়।

সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনে একজন আদর্শ নাগরিকের দায়িত্বাবলী কি কি তা নিজের আদর্শ ও জীবনাচরণ থেকে শেখাবেন। এ জন্য আদর্শ শিক্ষক হওয়া জরুরী। এজন্য দরকার শিক্ষকদের প্রণোদনার ব্যবস্থা করা।

# বর্তমান মিডিয়া যুগে টিএনএজ বয়সীদের সঠিক রাস্তা দেখানোর জন্য নিজেকে আদর্শ মানদন্ড তৈরি করা জরুরী। অভিজ্ঞতার আলোকে দেখা যায় সকল শিক্ষকের কথা সকল ছাত্র-ছাত্রী শোনে না। কারণ আদর্শের জায়গাটি দুর্বল। সেটা নিয়ে কাজ করতে হবে। এবং সেটা নিয়নিত মাসিক সভার মাধ্যমে করা হচ্ছে।

# অভিভাবকদের জন্য নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসার সুযোগ তৈরি করে নিতে হবে। এজন্য প্রধান শিক্ষকের জন্য চাই সুন্দর মনোরম অফিস কক্ষ, যেখানে অভিভাবকগণ তাদের মনের কথা সহজে বলতে পারবেন। সদর উপজেলার অনেক প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ইতোমধ্যে অভিভাবক শিক্ষা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

# ছাত্র-ছাত্রীদের মনের কথা শোনার জন্য দরকার স্নেহশীল শিক্ষক। এজন্য বিদ্যালয়ে নবীন অথবা বন্ধুবৎসল কোন শিক্ষককে Student Advisor বা ছাত্র-ছাত্রী উপদেষ্টা করা যেতে পারে। যিনি কেবল শিক্ষক নয় বরং বন্ধু হবেন। এরা ছেলেমেয়েদের জন্য বিশেষ ক্ষেত্রে আলাদাও হতে পারে।

# আগামী দিনের পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় এখন যারা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের ছাত্র-ছাত্রী তাদেরকে বিষয়টিকে ভালো মত প্রশিক্ষণ, সভা ও সেমিনারের মাধ্যমে সচেতন করতে হবে।

# প্রতিদিন ভালো কাজে উৎসাহী করতে প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখতে হবে। সামাজিক মূল্যবোধ তৈরি করতে নিয়মিত ভালো উদাহরণ সামনে রেখে আলোচনা করতে হবে।

# সামাজিক নিয়ন্ত্রণে ধর্মের ভূমিকা অনস্বীকার্য তাই সাধারণ লেখাপড়ার পাশাপাশি ধর্ম নিয়ে আলোচনা ও নৈতিক শিক্ষার চর্চা থাকতে হবে।

# বিদ্যালয়ের পরিবেশ, সামাজিক ও রাজনৈতিক জ্ঞান থাকা অতিজরুরী।

# বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের অভাব থাকায় যোগদানের সাথে সাথে অপ্রতুলতা কমাতে প্রশিক্ষণ দেয়া জরুরী।পাশাপাশি বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক নিয়গের বিষয়ে সর্বাধিক গুরুত্বারোপ করা জরুরী।

# শ্রেণি কক্ষের সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি সেখানে সৃষ্টিশীলতার ছোঁয়া থাকলে ছাত্র-ছাত্রীরা আকৃষ্ট হওয়ায় সাথে সাথে বিদ্যালয় বিমুখ হবে না এবং আনন্দের সাথে বিদ্যালয়ে আসবে।

# প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ওয়াশব্লক আসলে কারা ব্যবহার করবে সে বিষয়ে তেমন ভাবা হয়না। ফলে বড়দের ব্যবহারযোগ্য এমন ওয়াশব্লক ছোট্ট সোনামণিদের কাছে কেবল একটি বিল্ডিং হিসেবে দৃশ্যমান হয়। এই বিষয় নিয়ে ভাবতে হবে আমাদের।

# আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখি আমরা কেবল ছাত্র-ছাত্রীদের পোষাক, আচরণ নিয়ে যত কথা বলি, ঠিক তেমনিভাবে আমাদের আচরণ পোষাক নিয়ে সেভাবে বলিনা। শিক্ষকের ব্যক্তিত্ব ফুটে উঠে তার পরিশিলিত পরিস্কার পোষাকে। তাই বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়া জরুরী।

# শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বিশেষ করে শিক্ষার সাথে জড়িত প্রত্যেককে পরিশিলিত আচরণ করা অতি জরুরী- কারণ এরা জীবনের বড় শিক্ষক। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের জীবনের শ্রেষ্ঠ গল্প আর বঙ্গবন্ধু আমাদের বাঙালী জাতির শ্রেষ্ঠ পুরুষ- তাই এ দুটি বিষয়টিকে সর্বাধিক গুরুত্ব ও আন্তরিকতা নিয়ে হৃদয়ঙ্গম করতে হবে।

# সর্বদা ইতিবাচক মনোভাব তৈরি করা শিক্ষকের বড় দায়িত্ব। এটা যদি প্রতিদিন করা যায় তাহলে জাতি উপকৃত হবে।

মনে রাখতে হবে, ব্যক্তি যতটা না তার নিজের, তার চেয়ে পরিবারের তথা রাষ্ট্রের। শুভকামনা প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারকে।।

(চলবে। অবশ্যই সমালোচনার সুযোগ আছে)।

 আবু সুফিয়ান

উপজেলা নির্বাহী অফিসার, মাগুরা সদর

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৭৯ বার

[hupso]