মুজিববর্ষ

» দেশের ৭টি জেলা ও ২৩টি উপজেলার সাথে যশোর সদর ও মণিরামপুরে শতভাগ বিদ্যুতায়নের আজ উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী 

প্রকাশিত: ১২. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | বুধবার

মুজিব বর্ষে দেশবাসীকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতার আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার

মুজিব বর্ষে দেশবাসীকে শতভাগ বিদ্যুতের আওতার আনার পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। উদ্দেশ্য পূরণের জন্য কাজও চলছে পুরোদমে। ঘরে ঘরে বিদ্যুতের সরবরাহ পৌঁছে দিতে চলছে কর্মযজ্ঞ। বিদ্যুতের নতুন নুতন খুঁটি বসানো হচ্ছে। আর তাতে টানা হচ্ছে নতুন লাইন।

দেশ ব্যাপি শতভাগ বিদ্যুতায়নের এই কর্ম প্রক্রিয়ায় যশোরের দুটি উপজেলা অনন্য সাফল্য অর্জন করেছে। ইতিমধ্যে যশোর সদর ও মণিরামপুর উপজেলা শতভাগ বিদ্যুত সরবরাহের আওতায় এসেছে।

দেশের ৭টি জেলা ও ২৩টি উপজেলার সাথে যশোরের এই দুই উপজেলার শতভাগ বিদ্যুতায়নের আজ আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে।

ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন।

যশোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-১ কার্যালয় সূত্র জানা গেছে, উপজেলার প্রতিটি গ্রামের ঘরে ঘরে বিদ্যুতের শতভাগ সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ২ হাজার ১০০ কিলোমিটার ব্যাপী নতুন লাইন টানা হয়েছে।

গত বছরের নভেম্বরে ২৫৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন এই লাইন নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে সমিতির আওতায় ১ লাখ ২১ হাজার ৯২৪ গ্রাহক রয়েছে। সূত্র জানায়, ২০১৯ সালের নভেম্বরেই যশোর সদরের প্রত্যেকটি বাড়িতে বিদ্যুতের সরবরাহ সম্পন্ন হয়েছে।

সূত্র মতে, সদর এলাকা শতভাগ বিদ্যুত সরবরাহের আওতায় নিয়ে আসতে পাঁচটি নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে। সমিতির সদর দপ্তরসহ চুড়ামনকাটি, রূপদিয়া, বসুন্দিয়া ও হাশিমপুর এলাকায় ৭৫ এমভিএ ক্ষমতা সম্পন্ন এসব বিদ্যুত কেন্দ্রের নির্মাণ হয়েছে।

পল্লী বিদ্যুত সমিতি যশোর-১ এর সহকারী জেনারেল ম্যানেজার (সদস্য সেবা) প্রকৌশলী সাঈদ হোসেন জানান, নতুন লাইন নির্মাণের মধ্য দিয়ে চাহিদা অনুযায়ী সদর এলাকায় বসবাসকারীদের দোড়গোড়ায় শতভাগ বিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বছরের নভেম্বরেই শতভাগ বিদ্যুতায়নের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।

এদিকে সদরের পাশাপাশি যশোরের মণিরামপুরে শতভাগ গ্রাম বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে। ৩৯ বছর পর যশোর পল্লী বিদ্যুত সমিতি-২ এর আওতায় শতভাগ বিদ্যুতায়ন কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এখানেও আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এখানকার কার্যক্রমেরও আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন।

সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানায়, ১৯৮১ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠার মণিরামপুর উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে। প্রতিষ্ঠার পর (১৯৮১-২০০৮) ২৮ বছর পর্যন্ত বিদ্যুত সুবিধাভোগী ছিলো শতকরা ৩৪ ভাগ। যা গত ১১ বছরে (২০০৮-২০২০) বৃদ্ধি পেয়ে শতকরা ৬৬ ভাগে পৌঁছেছে।

গত ২৮ বছরে বিদ্যুতায়নের ক্ষেত্রে শতকরা ৪০ ভাগ অগ্রগতি হয়। আর গত ১১ বছরে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৮ ভাগে উন্নীত হয়েছে। একই সাথে কমে এসেছে সিস্টেম লস। আগে সিস্টেম লস ১২.৯৩% থাকলেও তা কমে ৮.৫% দাঁড়িয়েছে। একই সাথে বিদ্যুতের লাইন নির্মাণের ক্ষেত্রেও অভূতপূর্ব সাফল্য এসেছে।

গত ২৮ বছরে ২ হাজার ৭৫ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ হলেও বর্তমানে তা দ্বিগুণের বেশি ২ হাজার ৭৮ কিলোমিটার লাইন নির্মাণ হয়েছে। সমিতির আওতায় ৭ উপজেলা মণিরামপুর, কেশবপুর, অভয়নগর, ফুলতলা, নড়াইল, লোহাগড়া ও কালিয়ায় ৪ জোনাল অফিস ৩ সাব জোনাল অফিসের ৫২১ কর্মকর্তা-কর্মচারীর ঐকান্তি প্রচেষ্টায় আগেই শতভাগ বিদ্যুতায়নের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।

স্বাধীনতার পর জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে গঠিত সরকারের ১৯৭২ সালে রচিত সংবিধানের ১৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী পল্লীর দোরগোড়ায় বিদ্যুত সুবিধা পৌঁছানোর লক্ষ্যে বিআরইবি (বাংলদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড) গঠিত হয়। এরপর মানুষের বিদ্যুৎ সেবা পৌছে দিতে নিরন্তর পথ চলা শুরু হয়।

২০০৮ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পর দেশের বিভিন্ন সেক্টরে উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যুৎ সেক্টরে অভূতপূর্ব উন্নয়ন সাধিত হয়। ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে নেয়া হয় উদ্যোগ। এরই ধারাবাহিকতায় দেশের ৪৬১ উপজেলার মধ্যে ৪১০ উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় এসেছে।

ইতোমধ্যে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় ২৩৪ উপজেলা উদ্বোধন করেছেন। উদ্বোধনের অপেক্ষায় আছে আরো ১৫৩ উপজেলা।

এরমধ্যে আজ বুধবার ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে মণিরামপুর উপজেলাসহ ২৩ উপজেলা উদ্বোধন করবেন তিনি। মুজিববর্ষের মধ্যেই বাকি ৫১ উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের আওতায় আসবে।

যপবি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার অরুণ কুমার কুন্ডু জানান, মণিরামপুর উপজেলা শতভাগ বিদ্যুতায়নের লক্ষ্যে নানা সরকারের দিক-নির্দেশনার পাশাপাশি সমিতির পক্ষ থেকে নানা ধরনের উদ্যোগ নেয়া হয়।

গ্রাহক সেবার মান বৃদ্ধি, গ্রাহক হয়রানি কমাতে ‘আলোর ফেরিওয়ালা’ নামের একটি সেবা কার্যক্রম চালু করা হয়।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২৯ বার

[hupso]