সর্বশেষ খবর :
মুজিববর্ষ

» টাঙ্গাইলের সখিপুরে এসিল্যাণ্ডকে হুমকী: পিতা-পুত্র গ্রেপ্তার

প্রকাশিত: ১২. ফেব্রুয়ারি. ২০২০ | বুধবার

আবুল কাশেম টাঙ্গাইল প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের  সখিপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি), সার্ভেয়ার ও ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তাকে উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে এসে হুমকি প্রদান ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে  সখিপুর থানায় মামলা হয়েছে।

গত সোমবার মধ্য রাতে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামান বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগ এনে বহুরিয়া গ্রামের নয়জনকে আসামি করে  সখিপুর থানায় এ মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় রাতেই দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন বহুরিয়া গ্রামের শামসুল হক (৬০) ও তার ছেলে শরিফুল ইসলাম (৩২)। তাদেরকে মঙ্গলবার টাঙ্গাইল কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

যাদবপুর ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসকের কাছে আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলার বহুরিয়া গ্রামের আবেদ আলী নামের এক ব্যক্তিকে ২০০৯-১০ অর্থবছরে ভূমিহীন হিসেবে বহুরিয়া মৌজার ১নম্বর খাস খতিয়ানের ৪৩৯ দাগের দশমিক ৭০ একর ভূমি বন্দোবস্ত দেন।

আবেদ আলী ওই ভূমির দখল বুঝে পেতে গত বছরের ২৩ সেপ্টেম্বর জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি কার্যালয় গত ২৪ ডিসেম্বর ওই জমি পরিমাপ করে সীমানা নির্ধারণের খুঁটি পুঁতে আবেদ আলীকে ভূমি বুঝিয়ে দেয়।

ভূমি কর্মকর্তারা উপজেলা কার্যালয়ে ফিরে আসার আগেই বহুরিয়া গ্রামের মৃত আতাহার আলীর পাঁচ ছেলে জাকির হোসেন, আবদুল মোমেন, আমিন হোসেন, তোজাম্মেল, আঞ্জু মিয়া ও ওই গ্রামের শামসুল হক, শরিফুল ইসলামসহ নয়জন ওই সীমানা খুঁটি তুলে ফেলেন।

সর্বশেষ গত ২৮ জানুয়ারি ভূমি কার্যালয় ওই ভূমি পুনরায় বুঝিয়ে দিতে গেলে বিবাদীরা বন্দোবস্ত ভূমি পরিমাপে বাধা প্রদান ও দুর্ব্যবহার করেন। পরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা বিবাদীপক্ষকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ গত সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি)উপজেলা ভূমি কার্যালয়ে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেন।

গত সোমবার সকাল ১১টার দিকে বিবাদীগণ উপজেলা কার্যালয়ে হাজির হন। বিবাদীদেরকে তাদের কাগজপত্র দেখাতে বললে ওই সময় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হা-মীম তাবাসসুম প্রভা, সার্ভেয়ার হযরত আলী ও যাদবপুর ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা মাসুদুজ্জামানসহ কার্যালয়ের সবাইকে অশ্লীল ভাষায় গালিগালজের এক পর্যায়ে তাদেরকে (কর্মকর্তা) ওই ভূমিতে গেলে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

এর আগের দিন (৯ ফেব্রুয়ারি) সহকারী কমিশনারের (ভূমি) নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বহুরিয়া গ্রামের ১নং খাস খতিয়ানের ভূমি সরেজমিন পরিদর্শনে গেলে সেখানেও বিবাদীগণ ওই কর্মকর্তাদের সঙ্গে অসদাচরণ ও দুর্ব্যবহার করে।

উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) হা-মীম তাবাসসুম প্রভাঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আবেদ আলীকে বহুরিয়া মৌজার ১নং খাস খতিয়ানের ৪৩৯ নং দাগে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু বিবাদীগণ পাশের অন্য দাগ উল্লেখ করে দরিদ্র আবেদ আলীর বিরুদ্ধে আদালতে একাধিক মামলা করে তার জমি জবর-দখলের চেষ্টা করছে। মালিকানা কাগজ দেখাতে বলায় বিবাদীগণ কার্যালয়ে এসে আমাদেরকেও হুমকি দেয়। বিষয়টি জেলা প্রশাসক মহোদয়কেও জানানো হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুর রহমান বলেন, কর্মকর্তাদের সঙ্গে বিবাদীরা অশ্লীল ও অসদাচরণ, সরকারি কাজে বাধাপ্রদান ও হুমকি দেওয়ার অপরাধে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

সখিপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাহিদুল ইসলাম বলেন, ওই রাতেই পিতা-পুত্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের ধরার চেষ্টা চলছে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৮ বার

[hupso]