শিরোনাম :

» বিশেষ বাহিনীর কর্মকর্তা পরিচয়ে বিয়ের প্রতারণা ও ১১ লাখ টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক জীবন চৌধুরী

প্রকাশিত: ০৪. মার্চ. ২০২০ | বুধবার

চৌগাছা (যশোর) ॥ যশোরের চৌগাছায় বিশেষ বাহিনীর অফিসার পরিচয়ে জীবন চৌধুরী নামে এক প্রতারক ১১ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে। তিনি মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের ধান্যহাড়িয়া গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে।

এবিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, চৌগাছা উপজেলার সিংহঝুলী ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামের প্রবাসী আনিছুর রহমানের স্ত্রী খাদিজা বেগম তিন বছর পূর্বে চৌগাছা হাসপাতালে ভর্তি হন।

সেখানের আনিছুর রহমানের মেয়ে সোনিয়া খাতুনের সাথে ধান্যহাড়িয়া গ্রামের জীবনের পরিচয় হয়। পরিচয়ের সূত্র ধরে সে সোনিয়াদের বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে।

এক পর্যায়ে ফোনালাপের মধ্য দিয়ে তাদের প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে উঠে। সে নিজেকে বিশেষ বাহিনীর অফিসার পরিচয় দিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। তার প্রস্তাব পেয়ে খাদিজা বেগম তার বাড়ি কোথায় কি করে খোজ নিতে গিয়ে জানতে পারেন সে যশোর ধর্মতলা এলাকার বাসিন্দা।

ওই সময় একটি বাড়িতে খাদিজা বেগম ও তার মেয়ে সোনিয়াকে নিয়ে যায়। বাড়িটি তার নিজের দাবি করে। খাদিজা বেগম কোন কিছু আর যাচাই না করে বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হয়ে যায়।

খাদিজা বেগম জীবন চৌধুরী ওরফে জীবন মাহামুদের একটি ডিফেন্স পোশাক পরিহিত ছবি তার প্রবাসী স্বামী আনিছুর রহমানের নিকট পাঠিয়ে দেয়। ছবি দেখে আনিছুর রহমানের সন্দেহ হলে বিয়ে দিতে নিষেধ করেন। কিন্তু সোনিয়ার মা খাদিজা বেগম নাছোড়বান্দা হয়ে স্বামীর কথা অগ্রাহ্য করে তার সাথে বিয়ে দেন।

মেয়ের বয়স ১৮ বছর না হওয়ায় যশোরে একটি গোপন স্থানে বিয়ে হয়। তারপর থেকে তারা স্বামী স্ত্রী হিসেবে এক সাথে বসবাস করতে থাকে। বিয়ের কিছু দিন পর সোনিয়াকে তার বাবার বাড়ি পাঠিয়ে দেয় জীবন। তার শাশুড়ি কেন পাঠিয়ে দিয়েছে জিজ্ঞাসা করলে বলে আমি সরকারি চাকরি করি।

আমার বিয়ের বিষয়ে জানাজানি হয়ে গেলে চাকরি চলে যাবে। এই ভাবে সংসার চালানোর মধ্য দিয়ে সোনিয়ার মামাকে বিশেষ বাহিনীতে চাকরি দেবার প্রলোভন দেখিয়ে ৯ লাখ ও তার প্রবাসী শ্বশুরের কাছ থেকে দুই লাখ টাকা হাতিয়ে নেন।

সোনিয়ার বাবা আনিছুর রহমান লিখিত অভিযোগ করে বলেন, আমি দেশে এসেছি কিছু দিন হলো। এসে শুনি জীবন আমার শ্যালক এর কাছ থেকে চাকরি দেয়ার নাম করে ৯ লাখ টাকা নিয়েছে কিন্তু এখনো চাকরি দেয়নি। মেয়ের বিয়ের কাবিনের কাগজপত্র নিয়ে জীবনের বিষয়ে খোজ নেয়া শুরু করি।

কাবিনে উল্লেখিত যশোরের ঠিকানায় গিয়ে জানতে পারি জীবন নামে কোন লোক এখানে থাকে না। তবে এখানে তার আগে একজন থাকতো, তার নাম জীবন। তবে সে বিশেষ বাহিনীর কোন কর্মকর্তা না। আমি নির্বাক হয়ে যায়।

তারপর কাবিনে উল্লেখিত কাজীর পরিচয়ে খুজতে গিয়ে দেখি কাজীও ভুয়া। ওই নামে কোনো কাজী যশোরে নেই। কৌশলে তার সঠিক পরিচয় বের করি। সে স্বীকার করে যে তার বাড়ি যশোরে না, মহেশপুরে।

আমি জীবনের তথ্যের উপর ভিত্তি করে মহেশপুর উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের ধান্য হাড়িয়ে গ্রামে তার বাড়িতে যাই। সেখানে গিযে দেখি সে বাড়িতে নেই।

বাবা সিরাজুল ইসলাম ও মা রুপভানের কাছে তার ছেলের বিয়ের সম্পর্কে জানতে চাইলে, তারা বলেন শুনেছি ছেলে বিয়ে করেছে, তবে এখনো ছেলের বউকে দেখিনি। আমি তার ছেলের প্রতারণার বিষয়ে তাদেরকে বললে তারা আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তারপর থেকে জীবনের সাথে আর কোন যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে আনিছুর রহমান বলেন, আমার মেয়ের সাথে বিয়ের নামে প্রতারণা করে জীবন দীর্ঘ দিন ধরে আমার মেয়েকে ধর্ষণ করেছে। সে বিয়ের কাগজপত্রে ভুল নাম ও ঠিকানা ব্যবহার করেছে। আমি এর সঠিক বিচার চাই। আমি আদালতে মামলা করবো। এ বিষয়ে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

এ বিষয়ে জীবনের সাথে যোগাযোগের জন্য তার ব্যবহৃত ০১৭৪৫৫১৯১৫৪, ০১৭৬৮৩০১৭০১, ০১৭২১৬৯১৫৪৩ নম্বরে ফোন দিলে নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রিফাত খান রাজিব বলেন আমি এধরনের কোন অভিযোগ এখনো পায়নি। তবে অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নিবো।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫০ বার

[hupso]