শিরোনাম :

» মার্চের অগ্নিঝরা দিনগুলি

প্রকাশিত: ০৪. মার্চ. ২০২০ | বুধবার

বেত্রাবতী ডেস্ক : জাতীয় পরিষদ অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা ও গণহত্যার প্রতিবাদে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে ঢাকাসহ সারা বাংলায় সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত সর্বাত্মক হরতাল পালিত হয়।

প্রদেশের বেসামরিক শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়ে। হরতাল চলাকালে খুলনায় সেনাবাহিনীর গুলিতে ৬ জন চট্টগ্রামে দুদিনে প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়ায় ১২১ জনে।

চট্টগ্রামে আগের দিনের বিহারী-বাঙালী সংঘর্ষের রেশ সারা শহরে বিরাজ করছিল। থমথমে হয়ে আছে পরিবেশ। এর মাঝে সকাল ১১টায় লালদীঘিতে ও পাহাড়তলীতে শহীদ হওয়া বাঙালীদের গায়েবি জানাজা পড়া হয়।

হাজার হাজার মানুষ এ জানাজায় অংশগ্রহণ করে। জানাজার পর পাহাড়তলীতে শহীদ হওয়া কয়েকজন বাঙালীর রক্তমাখা কাপড় নিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়ে জানাজায় অংশগ্রহণকারী মানুষ।

মৌলভী সৈয়দ আহমেদ আরেকটি আইয়ামে জাহেলিয়াতের যুগ এসেছে বলে রক্তমাখা কাপড়গুলো জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। বিকেলে, আওয়ামী লীগ নেতারা পুলিশী প্রহরায় পাহাড়তলীর ওয়্যারলেসে ক্ষতিগ্রস্ত বাঙালীদের দেখতে যান। রাতে, বিহারীরা বেশ কয়েক জায়গায় বাঙালীদের ওপর অতর্কিত আক্রমণ করে।

হালিশহরে আর্মি ক্যাম্পের কাছে ছয়-সাতজন বাঙালীকে সবার সামনে জবাই করে বিহারীরা। বঙ্গবন্ধুর আহ্বানের পর স্বাধিকার আন্দোলনে গুলিতে আহত মুমূর্ষু বীর সংগ্রামীদের প্রাণরক্ষার্থে শত শত নারী-পুরুষ ও ছাত্রছাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে স্বেচ্ছায় রক্তদান করেন।

রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্র ‘ঢাকা বেতার কেন্দ্র’ এবং পাকিস্তান টেলিভিশন ‘ঢাকা টেলিভিশন’ হিসেবে সম্প্রচার শুরু করে। বেতার-টেলিভিশন শিল্পীরা ঘোষণা করেন, যতদিন পর্যন্ত দেশের জনগণ ও ছাত্রসমাজ সংগ্রামে লিপ্ত থাকবেন ততদিন পর্যন্ত ‘বেতার ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে তারা অংশ নেবেন না।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, চরম ত্যাগ স্বীকার ছাড়া কোনদিন কোন জাতির মুক্তি আসেনি।

তিনি উপনিবেশবাদী শোষণ ও শাসন অব্যাহত রাখার ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবার আহ্বানে সাড়া দেয়ায় বীর জাতিকে অভিনন্দন জানান এবং ৫ ও ৬ মার্চ সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত হরতাল পালনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, যেসব সরকারী ও বেসরকারী অফিসে কর্মচারীরা এখনও বেতন পাননি শুধু বেতন প্রদানের জন্য সেসব অফিস দুপুর ২টা ৩০ মিনিট থেকে বিকেল ৪টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত বেতন পরিশোধের জন্য ব্যাংক খোলা রাখতে বলেন এবং সর্বোচ্চ বেতন পরিশোধের সীমা নির্ধারণ করে দেন ১৫০০ টাকা।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৫৪ বার

[hupso]