» সংস্কারের অভাবে বিলীনের পথে আড়াইশ বছরের পুরনো স্থাপত্য আওকরা মসজিদ বা ‘কথা বলা মসজিদ’

প্রকাশিত: ০৭. মার্চ. ২০২০ | শনিবার

সংস্কারের অভাবে বিলীনের পথে দিনাজপুরের খানসামার পাকেরহাটে অবস্থিত আড়াইশ বছরের পুরনো স্থাপত্য আওকরা মসজিদ বা ‘কথা বলা মসজিদ’। বর্তমানে এলাকাবাসী ঝোপ-জঙ্গল সাফ করে মসজিদটি নামাজ আদায় করার উপযোগী করলেও দেয়ালে দেখা গেছে বড় বড় ফাটল।

এলাকাবাসী জানান, খানসামার পাকেরহাট গ্রাম ও মীর্জার মাঠের সীমানা সংলগ্ন জায়গায় অবস্থিত ২৫৪ বছরের পুরনো স্থাপত্য ‘আওকরা’ মসজিদ। তৎকালীন মীর্জা সাহেব মসজিদটি প্রতিষ্ঠার সময় কী নাম রেখেছেন তা কেউ বলতে পারেন না।

কোনো মানুষ মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এটির মধ্যবর্তী অংশে দাঁড়িয়ে কথা বললে একসময় জোরে প্রতিধ্বনি সৃষ্টি হতো। তাই শুনে তারা ভাবত মসজিদটি তাদের কথার উত্তর দিচ্ছে।

এ থেকে মসজিদের নাম হয়ে যায় ‘আওকরা’ মসজিদ অর্থাৎ ‘কথা বলা মসজিদ’। এখনো মানুষ পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় শব্দ করে কথা বলে প্রতিধ্বনি শোনার আশায়। কিন্তু মসজিদের দেয়াল ফেটে নষ্ট এবং এর গায়ে আগাছা পরিপূর্ণ হওয়ায় আগের মতো আর আওয়াজ হয় না।

এটি অযত্ন-অবহেলায় দীর্ঘকাল সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে বিলীনের পথে অথচ সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক এটি ঐতিহ্যবাহী প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষণার এক বছর হলেও এটি সংস্কারে এখনও দৃশ্যমান কোন উদ্যোগ নেই।

পরিসংখ্যানের তথ্যে জানা গেছে, এ মসজিদটি প্রায় ২৫৪ বছর আগে বাংলা ১১৭২ সালে মীর্জা লাল বেগ নির্মাণ করেন। চিকন ইটে নির্মিত দেয়ালে নকশা করা মসজিদটি উপজেলার মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া বেলান নদীর পূর্বপাশে পাকেরহাট গ্রাম ও মীর্জার মাঠের সীমানা সংলগ্ন স্থানে অবস্থিত।

ওই এলাকার প্রবীণ ব্যক্তিরা ধারণা করেন, এক সময় মসজিদটির আশপাশে মুসলিম জনবসতি ছিল। যে কারণে এখানে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল এবং ব্রিটিশ সরকারের আমলে অথবা অন্য কোনো কারণে তারা মসজিটির আশপাশ এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যান।

ফলে এটি অযত্ন-অবহেলায় পরিত্যক্ত অবস্থায় দীর্ঘকাল পড়ে থাকে। পরবর্তীতে সংস্কারের অভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংস হতে থাকে মসজিদটি। মসজিদ কমিটির সদস্য মোকছেদুল ইসলাম জানান, এলাকাবাসীর উদ্যোগে মসজিদটি পরিষ্কার করে নামাজ পড়ার উপযোগী করে তুলেছি কিন্তু দেয়ালের ফাটলের কারণে আতঙ্কে থাকতে হয়। তাই প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ যদি দ্রুত সংস্কার করে তাহলে এটি হতে পারে দেশের অন্যতম দর্শনীয় স্থান।

ইউএনও আহমেদ মাহবুব-উল-ইসলাম জানান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় কর্তৃক ঐতিহ্যবাহী প্রত্নসম্পদ হিসেবে ঘোষিত ঐতিহাসিক মসজিদটি দ্রুত সংস্কারে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত আছে। আশা করি দ্রুত সংস্কার কাজ শুরু হবে।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৩৮ বার

[hupso]