» দীর্ঘ এক বছর বন্ধ থাকার পর আবারও প্রানবন্ত হয়ে উঠেছে বাহাদুর শাহ পার্ক

প্রকাশিত: ১২. মার্চ. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

রাজধানীর পুরান ঢাকার এক ঐতিহ্যবাহী নিদর্শন বাহাদুর শাহ পার্ক।এই পার্ককে ঘিরে জড়িয়ে আছে শত বছরের ইতিহাস। পুরান ঢাকার লক্ষীবাজারের সন্নিকটে অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী এই বাহাদুর শাহ পার্ক যা পুরান ঢাকার প্রান বলেও বিবেচিত।

পার্কটির চারিপাশে অবস্থিত  সরকারী গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা সহ স্কুল,কলেজ,এবং বিশ্ববিদ্যালয়।

সংস্কার কাজের জন্য দীর্ঘ একটি বছর পার্কটি বন্ধ থাকার পর গত (১১ মার্চ)বুধবার নতুন আংগিকে উদ্বোধন করেছেন, মেয়র সাঈদ খোকন।

পুরান ঢাকার গিঞ্জি পরিবেশে একই জায়গায় কয়েকটি স্কুল কলেজ এবং পাশেই অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী সহ বিভিন্ন সরকারি কার্যালয়। এবং পাশেই অবস্থিত জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়।

পার্কটিতে বেশিরভাগই শিক্ষার্থীদেরকেই দেখা যায়।যারা এই সবুজে ঘেরা উন্মুক্ত পার্কে সব সময় বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে থাকেন। সবুজে ঘেরা এই পার্কটি আবারও প্রানবন্ত হয়ে উঠেছে শিক্ষার্থীদের ও বিনোদন চিত্ত মানুষদের পদচারণায়।

বিশেষ করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে সব সময় দেখা যায় এই বাহাদুর শাহ পার্কে, কেননা বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়তনের তুলনায় শিক্ষার্থীদের আনাগোনা অনেক বেশি।আর তাই বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া এবং সবুজে ঘেরা এই স্থানে আসে সবাই স্বস্তি পাবার আশায়।মেতে উঠে সবাই নিজেদের আনন্দে।

গান বাজনা,আড্ডাতে তাদের তুলনা মেলে না।দীর্ঘ একটি বছর পর আবারও স্বস্তি খুজে পেয়েছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

পার্কে আনন্দরত অবস্থায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বরকত উল্লাহ উৎস নামে এক শিক্ষার্থীর কাছে তার অনুভূতির কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন,সবুজে ঘেরে এই বাহাদুর শাহ পার্কটি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ একটা স্থান,যেখানে বন্ধুরা সবাই এসে মিলিত হতে পারি এবং আড্ডায় মেতে উঠি।

আমি মনে করি বাহাদুর শাহা পার্ক জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়েরই একটা অংশ বিশেষ।

অন্যদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী উম্মে জান্নাত স্বর্না বলেন,আমাদের চিত্ত বিনোদনের একমাত্র উৎস এই এই বাহাদুর শাহা পার্ক যেখানে এসে বুক ভরে বিশুদ্ধ শ্বাস নিতে পারি।

ইট পাথরের এই শহরে থাকলেও এই পার্কের ভিতর প্রবেশ করলে গ্রামের সতেজ পরিবেশের ছোয়া পায়।সেই সাথে মেতে উঠি বন্ধুদের সাথে আড্ডাতে।অনেকদিন পর এমন একটা খোলামেলা পরিবেশ পেয়ে অনেক খুশি লাগছে।

উল্লেখ্য, আঠার শতকের শেষের দিকে এখানে ঢাকার আর্মেনীয়দের বিলিয়ার্ড ক্লাব ছিল। যাকে স্থানীয়রা নাম দিয়েছিল আন্টাঘর। বিলিয়ার্ড বলকে স্থানীয়রা আন্টা নামে অভিহিত করত।

সেখান থেকেই এসেছে “আন্টাঘর” কথাটি। ক্লাব ঘরের সাথেই ছিল একটি মাঠ বা ময়দান যা আন্টাঘর ময়দান নামে পরিচিত ছিল।

১৮৫৮ সালে রানী ভিক্টোরিয়া ভারতবর্ষের শাসনভার গ্রহণ করার পর এই ময়দানেই এ সংক্রান্ত একটি ঘোষনা পাঠ করে শোনান ঢাকা বিভাগের কমিশনার। সেই থেকে এই স্থানের নামকরণ হয় “ভিক্টোরিয়া পার্ক”।

১৯৫৭ সালের আগ পর্যন্ত পার্কটি ভিক্টোরিয়া পার্ক নামে পরিচিত ছিল। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিদ্রোহের পর এক প্রহসনমূলক বিচারে ইংরেজ শাসকেরা ফাঁসি দেয় অসংখ্য বিপ্লবী সিপাহিকে। তারপর জনগণকে ভয় দেখাতে সিপাহিদের লাশ এনে ঝুলিয়ে দেয়া হয় এই ময়দানের বিভিন্ন গাছের ডালে।

১৯৫৭ সালে (মতান্তরে ১৯৬১) সিপাহি বিদ্রোহের শতবার্ষিকী পালন উপলক্ষে এখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করে পার্কের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় বাহাদুর শাহ পার্ক।

সিপাহী বিদ্রোহ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইংরেজ শাসনের সমাপ্তি ঘটিয়ে মুঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ এর শাসন পুনরায় আনার জন্য। তাই তার নামানুসারে এর নতুন নামকরণ করা হয় “বাহাদুর শাহ পার্ক”।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪০ বার

[hupso]