শিরোনাম :

» করোনা আঘাত দেশের অর্থনীতিতে

প্রকাশিত: ১৯. মার্চ. ২০২০ | বৃহস্পতিবার

রাজধানীর বায়তুল মোকাররম মার্কেটে মশা মারার ল্যাম্প কিনতে গিয়ে ল্যাম্পটি  দোকানে না পেয়ে ফিরে এসেছেন সাইদুল ইসলাম। ল্যাম্পটি  কেন পাওয়া যাচ্ছে না বিষয়টি এখন আর খুলে বলার কিছু নেই, কারণ ‘করোনা’।

করোনা’র কারণে সকল পণ্য আমদানি বন্ধ জানালেন এই মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। সামনে কি হবে, ব্যবসা করবেন কিভাবে সেই আশঙ্কা এখন সকল ব্যবসায়ীদের। কারণ বিশ্বব্যাপী ইলেকট্রনিক্স শিল্পে যন্ত্রাংশ সরবরাহকারী দেশ হিসেবে চীনের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে যার প্রভাব বাংলাদেশে অনস্বীকার্য।

বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়া করোনাভাইরাস কোভিড-১৯ আঘাত হানছে অর্থনীতিতে। উদ্বেগ বাড়ছে বাংলাদেশেও। বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন, ২০০৮ সালে শুরু হওয়া বিশ্বমন্দাকে ছাড়িয়ে যেতে পারে এর প্রভাব। ইতোমধ্যে বিশ্বব্যাপী শেয়ারবাজারে দর পড়ে গেছে ব্যাপকহারে। গেল সপ্তাহজুড়েই খারাপ সময় পার করেছে বিশ্বের বড় বড় শেয়ারবাজার।

গণমাধ্যমের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, গত সপ্তাহে ৫ লাখ কোটি হারিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। মন্দার পর এমন পতন আর দেখা যায়নি। কমছে জ্বালানি তেলের দামও।

করোনাভাইরাসের প্রভাব ধীরে ধীরে কমে আসবে বলে আশা করা হলেও ঘটছে এর বিপরীত ঘটনা। করোনা ছড়িয়েছে ১৫৩ দেশে। বিশ্বব্যাপী মহামারি রূপ নেওয়ার আতঙ্ক শুরু হয়েছে। এর প্রভাবে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে পুরো বিশ্ব অর্থনীতিতে।

করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে প্রযুক্তি পণ্যের ওপর। মোবাইল হ্যান্ডসেট ছাড়া প্রায় সবকিছুতেই চরম সংকট শুরু হয়েছে। এই অবস্থা অব্যাহত থাকলে মোবাইল নেটওয়ার্কে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। বাংলাদেশে মোবাইল নেটওয়ার্ক প্রধানত চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ে ও জেডটিইর ওপর নির্ভরশীল। করোনার প্রভাব শুরু হওয়ার পর থেকেই চীনা প্রকৌশলীরা কাজে যাচ্ছেন না। ফলে অনেকটা জোড়াতালি দিয়েই চালানো হচ্ছে নেটওয়ার্ক সংস্কারের কাজ।

এ অবস্থা অব্যাহত থাকলে বাজারে বড়ো ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে হাসপাতালের চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতিও এখন আর আনা যাচ্ছে না। চীন থেকে পণ্য আনা ব্যাহত হওয়ায় ইতোমধ্যে প্রধান রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টসের এক্সেসরিজের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে জানিয়েছে এ খাতের শিল্পমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। অন্যদিকে বিশ্বব্যাপী বড় বড় ব্র্যান্ডের খুচরা দোকান বন্ধ হওয়ার খবরও জানিয়েছেন সংগঠনটির সভাপতি ড. রুবানা হক।

করোনার প্রভাব অর্থনীতিতেই শুধু নয় সামাজিক ব্যবহারিক সকল ক্ষেত্রে চরমভাবে আঘাত হানছে। দেশে ১৮ তারিখ থেকে সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ করেছে সরকার। হোটেল রেস্তোরাঁগুলোতে উপস্থিতি কমে গেছে। শপিংমলগুলো ক্রেতাশূণ্য হলেও কাঁচা বাজারে ক্রেতাদের ভিড় লক্ষণীয়ভাবে চোখে পড়ছে।

গুজবে কান না দিয়ে সতর্ক হওয়ার আহ্বান করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। গুজবে কান দিয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা না করার অনুরোধ করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী। জনগণকে স্বাভাবিক কেনাকাটার মধ্যেই থাকার পরামর্শ দেন তিনি। গত বুধবার (১৮মার্চ) সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী বলেন, বাজারে নিত্যপণ্যের যে জোগান আছে, তাতে আমাদের কোনো অবস্থান থেকেই কোনো সমস্যা হওয়ার কথা না। তাই কেউ যেন স্বাভাবিক কেনাকাটার চেয়ে অতিরিক্ত কেনাকাটা না করে।

ভোক্তা অধিকারের সাতটি দল বাজারে কাজ করছে। খাদ্য মজুত করার মতো অবস্থা হয়নি, আতঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ নেই বাণিজ্যসচিব মো. জাফরউদ্দীনের এমন আশ্বাসের পরও সাধারণ মানুষের মনে আতঙ্ক কমেনি। বরং বেড়েছে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনে রাখছে মানুষ। মাসে ২০ কেজি চাল লাগে এমন পরিবার ৫০ কেজির বস্তা কিনে রাখছেন। কাঁচা বাজারগুলোয় মানুষের ব্যাপক ভিড়।

মিরপুর ১১ নম্বর কাঁচা বাজারের মুদি দোকানদার মো. হোসেন বলেন ঈদেও এভাবে মানুষ খরচ করে না। লিকুইড সাবান তার দোকানে নেই, অন্য দোকান থেকে এনে দিলেন প্রতি প্যাকেট ১০ টাকা বেশি দামে। বাজারে মানুষের চাপ যেহেতু বেশি, সেহেতু দর-কষাকষির সুযোগ কম। ফলে আগে যেটুকু ছাড় পাওয়া যেত, সেটাও এখন পাওয়া যাচ্ছে না। পাইকারি বাজার কচুক্ষেতে চাল নিতে লাইন দিতে দেখা গেছে। বাজারে চাল নেই বলে জানালেন একজন ক্রেতা।

মূলত, ৯ মার্চ থেকে শুরু হয়েছে এই পরিস্থিতি। ওই দিন দেশে প্রথম করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগী ধরা পড়ে। তবে বাজারে ভিড়টা বেশি দেখা গেছে গত মঙ্গলবার থেকে।

ব্যবসায়ীরা বললেন, দাম বেশি বেড়েছে চালের। মানভেদে প্রতি কেজিতে দুই থেকে চার টাকা। খোলা সয়াবিন, পামতেল, ডাল, ডিম ও আলুর দাম কিছুটা বাড়তি। বিদেশি শিশুখাদ্য ও ডায়াপারের দামও বাড়তি বলে জানান ব্যবসায়ীরা। জীবাণুনাশকের দাম তো আগে থেকেই বেড়ে গেছে।

আতঙ্কের কেনাকাটায় দোকানিরা ক্রেতাদের কাছ থেকে যেকোনো দাম চাইতে পারছেন। এতে একেক জায়গায় পণ্য একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। উদ্বিগ্ন ক্রেতা সাধারণ কিছু চাল, ডাল কিনে রাখছেন কিন্তু বিশ্বব্যাপী করোনার প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা দিতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ৪৭ বার

[hupso]