» করোনা সংক্রমন রোধে শার্শার অকুতোভয় দুই যোদ্ধার বিরামহীন পথচলা

প্রকাশিত: ১৯. এপ্রিল. ২০২০ | রবিবার

আরিফুজ্জামান আরিফ ।। করোনা সংক্রমন প্রতিরোধে ও সরকারি বিধি নিষেধ বাস্তবায়নে নিজের জীবনকে ঝুকির মধ্যে নিয়ে কাঁধে অর্পিত সরকারি দায়িত্ব যথাযথ ভাবে পালনে শার্শাবাসীর কাছে প্রশংসিত হয়েছে শার্শা উপজেলা প্রশাসনের অকুতোভয় দুই যোদ্ধা।

যারা দেশের এই ক্রান্তিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের করোনা সংক্রান্ত বিধি নির্দেশ বুকে ধারন করে “মানুষ মানুষের জন্য” কথাটির যথার্থ মূল্য দিয়ে শার্শার সকল মানুষের দুঃখ কষ্টের সাথী হয়ে দিনরাত অবিরাম ছুটে চলে দায়িত্বরত নিজ উপজেলার মানুষের মাঝে থেকে সকল প্রকার সরকারী আবার কখনো নিজস্ব অর্থায়ন ব্যয় করে সেবা দিয়ে যাচ্ছে অবিরাম।খাদ্য সামগ্রী নিয়ে ছুটে চলেছে ক্লান্তিহীন ভাবে শার্শার এক প্রান্ত থেকে অপর প্রান্তের গ্রাম থেকে হাটবাজারে।

পাঠক এতক্ষনে যে দুই যোদ্ধার কথা বলছিলাম তারা হলেন,শার্শা উপজেলার নির্বাহী অফিসার পূলক কুমার মন্ডল ও অপরজন সহকারী কমিশনার (ভূমি)ও নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খোরশেদ আলম চৌধুরী।

এরা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ সহ সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলাচল ও করোনায় ঘরে থাকতে মানুষকে উৎসাহ, সতর্ক রাখতে কাজ করে যাচ্ছে শার্শার এই দুই রিয়েল হিরো।বর্তমানে এ দুইযোদ্ধা উপজেলা বাসীর কথা বুকে ধারন করে নিজ স্বার্থ ও পরিবারের কথা চিন্তা না করে, করোনা সংক্রমণ রোধে নিষ্ঠার সাথে কঠোর পরিশ্রম করে তাদের দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। দিন কি আর রাত কি ছুটে বেড়াচ্ছেন শার্শা উপজেলার এপ্রান্ত থেকে ওপ্রান্তে। মানুষকে ভালো রাখা তথা শার্শাবাসীর সাথে সাথে সমগ্র দেশবাসীকে ভালো রাখাই তাদের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। কখনো ছুটছেন বিদেশ ফেরত দের বাড়িতে তাদের হোম কোয়ারান্টাইনে রাখতে। টাঙ্গিয়ে দিচ্ছেন তাদের বাড়িতে লাল পতাকা। আবার কখনো ছুটছেন ভারত ফেরত যাত্রীদের নিয়ে। তাদেরকে রাখছেন যশোরের বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টা ইনে। এই দুই যোদ্ধা নিজেরা ভালো না থেকে জনসাধারণকে ভালো রাখছেন।

জনসাধারণকে ভালো রাখতে তাদের ছুটে চলা অবিরাম। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে তাদেরকে সরকারি বিধি নিষেধ মেনে চলার আহবান জানাচ্ছেন। আবার সচেতনতায় শার্শাব্যাপী নিয়মিত করছেন বাজার মনিটরিং। তদরুপ, অনিয়মের অভিযোগে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে আদায় করছেন জরিমানা।

অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা মেনে গৃহ বন্দী অসহায় দুস্থ দিন আনা দিন খাওয়া দিনমজুর পরিবারের মাঝে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে দিচ্ছেন খাদ্য সামগ্রী। এ যেন মানবতার ফেরিওয়ালা। যুদ্ধক্ষেত্রের আদর্শ দুই যোদ্ধা। আর যোদ্ধারা বুঝি এমনই হয়।

কথা হয় শার্শার দিনমজুর কাসেম মিয়ার (৫০) সাথে, তিনি বলেন, আল্লাহ তাদের ভালা করুক। দেশের দূঃসময়ে তারা যেভাবে আমাদের পাশে থেকে সাহায্য করছেন, আল্লাহ তাদের অনেক দিন বাঁচিয়ে রাখুক।আমরা সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষ ধন্য।

সম্প্রতি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট খোরশেদ আলম চৌধুরী তার অফিসিয়াল ফেইস বুক পেইজে (Ac Land Sarsha)করোনা সংক্রান্ত বিষয়ে দিনরাত ছুটে চলা চলমান জীবন যাপন নিয়ে স্টাটাস দিয়েছেন।লিখেছেন একজন দেশ যোদ্ধা হিসাবে মনের অব্যক্ত কথাগুলি।তিনি লিখেছেন,

“জানিনা কতদিন টিকে থাকবো” “তবে আমি পালাবোনা” “প্রশাসন কখনও পালায়না” “দায়িত্ব থেকে পালানো জানা নেই”।সত্যিকার একজন যোদ্ধার কথা, সত্যিই এখন আমার ভয় করে বাইরে যেতে, ডিউটির পর বাসায় ফিরতে। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল ম্যাজিস্ট্রেট হবো, এই পেশার প্রতি খুব শ্রদ্ধা ও ফ্যাসিনেশন ছিলো। নিজেকে এই পেশায় বিলিয়ে দিতে কখনো পিছপা হবোনা। নিজের ছোট ছেলে ও পরিবারকে বাসায় রেখেও প্রতিদিন করোনা বিস্তার প্রতিরোধ, ভারত থেকে আগত যাত্রীদের প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ, হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিতকরণ, মোবাইল কোর্ট, বাজার মনিটরিং, মানুষকে নিজ ঘরে অবস্থান নিশ্চিতকরণের জন্য ছুটে চলছি উপজেলার একপ্রান্ত থেকে অপর প্রান্তে। আমার নিজের খাওয়া- ঘুম বাদ দিয়ে ডিউটিতে যাই, সমস্যা নেই, কিন্তু এখনকার পরিস্থিতি একদমই ভিন্ন, মানুষকে বুঝিয়ে, অনুরোধ করে, জরিমানা করেও ঘরে অবস্থান নিশ্চিত করা অনেক ক্ষেত্রেই সম্ভব হচ্ছেনা। এখন আমি আমার পরিবারের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। আমার মাধ্যমে যদি ভাইরাস বাসায় নিয়ে যাই তো আমার ছেলের ও পরিবারের কি হবে? তবুও আমি ডিউটি করছি, পালাইনি, পালাবোও না। ভয় করে ছেলেকে চুমু দিতে, কোলে নিতে। নিজের নিঃশ্বাসকেই বিষাক্ত মনে হয়। তারমধ্যে পিপিই পরে বাহিরে রৌদ্রের মধ্যে কাজ করাও বিশাল এক যন্ত্রণা! মাস্ক পরে দম কেমন বন্ধ হয়ে আসে। প্রতিটি ডিউটিই এমন মানসিক আর শারীরিক কষ্টে ভশারশতবুও হাজার কষ্টের মাঝে যোদ্ধারা তাদের যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। অম্লান হবে না তাদের যুদ্ধ। আপনারা নিজ ঘরে থাকুন, সুস্থ থাকুন, অপরকে সুস্থ রাখুন।

দেশের মহাসংকটময় ও ক্রান্তিলগ্নে  শার্শার এই অকুতোভয় যোদ্ধা পুলক কুমার মন্ডল ও খোরশেদ আলম চৌধুরীর মত হাজারো  সৈনিক মানবতার ফেরিওয়ালার জন্ম নিয়ে দেশ মাতৃকার টানে এগিয়ে আসুক এমনটাই প্রত্যাশা সবার।

 

এই সংবাদটি পড়া হয়েছে ২১৭ বার

[hupso]